আতঙ্ক ছড়াল পাঞ্জাব ও ইসলামাবাদে: পাকিস্তানে ৪.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে কিশোরের মৃত্যু, আহত ১১
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: এক তীব্র আতঙ্কের সন্ধ্যায় কেঁপে উঠল পাকিস্তানের একটি বিস্তীর্ণ অংশ। পাঞ্জাব প্রদেশ ও রাজধানী ইসলামাবাদসহ আশপাশের অঞ্চলে আঘাত হেনেছে রিখটার স্কেলে ৪ দশমিক ৮ মাত্রার একটি মাঝারি ধরনের ভূমিকম্প। আকস্মিক এই ভূকম্পনে ক্ষণিকের জন্য থমকে যায় জনজীবন, ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন হাজারো আতঙ্কিত মানুষ। তবে এই আতঙ্ক কেবল মানসিক উদ্বেগেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, জেলাম জেলায় ডেকে এনেছে এক মর্মান্তিক পরিস্থিতি । সেখানে একটি বসতবাড়ি ধসে পড়ে প্রাণ হারিয়েছে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোর। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে ও দেয়ালধসে আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১১ জন।
মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৬ মিনিটে যখন চারপাশ দৈনন্দিন ব্যস্ততায় মুখর, ঠিক তখনই আকস্মিক এই কম্পন অনুভূত হয়। পাকিস্তান আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং ন্যাশনাল সিসমিক মনিটরিং সেন্টারের দেওয়া যৌথ তথ্য অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল পাঞ্জাবের জেলাম জেলা থেকে প্রায় ৫৮ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে (অক্ষাংশ ৩২.৫৯° উত্তর ও দ্রাঘিমাংশ ৭৩.২৩° পূর্ব)। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল মাত্র ১২ কিলোমিটার। উৎসস্থলটি তুলনামূলকভাবে কম গভীরে হওয়ায় ঝাঁকুনি তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছে, যার ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বেড়েছে। রাজধানী ইসলামাবাদ ছাড়াও সাংস্কৃতিক রাজধানী লাহোর, গুজরানওয়ালা, ওকারা, শেখুপুরা এবং মান্দি বাহাউদ্দিনের মতো বড় বড় শহর ও এর আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা এই কম্পনে কেঁপে ওঠে।
ভূমিকম্পের সবচেয়ে বড় আঘাতটি আসে জেলাম জেলার জালালপুর শরিফ এলাকায়। স্থানীয় উদ্ধারকারী কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা যায়, কম্পনের তীব্রতায় ওই এলাকার একটি পুরনো আবাসিক বাড়ির একাংশ হুড়মুড় করে ধসে পড়ে। দুর্ভাগ্যবশত, ওই সময় বাড়ির ভেতরে থাকা ১৩ বছরের এক কিশোর দেয়াল ও ছাদের ভারী সুড়কির নিচে চাপা পড়ে। প্রতিবেশীরা তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধারে এগিয়ে এলেও ঘটনাস্থলই তার মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় ওই পরিবার ও আশপাশের আরও ১১ জন গুরুতর আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এছাড়া পিন্ড দাদান খান ও এর পার্শ্ববর্তী গ্রামীণ অঞ্চলগুলোতে মাটির তৈরি এবং দুর্বল কাঠামোর একাধিক ঘরবাড়িতে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে এবং বেশ কিছু আংশিক ধসের ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনার পরপরই দুর্গত এলাকাগুলোতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। জেলামের ডেপুটি কমিশনার জানিয়েছেন যে পুলিশ, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং উদ্ধারকারী দল দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আর কেউ আটকে আছে কিনা তা নিশ্চিত করতে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে। একই সাথে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণে একটি বিশেষ মূল্যায়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর পুরো জেলাম ও পিন্ড দাদান খান অঞ্চলে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: (PMD),(NSMC),(Rescue 1124)