নিজেই গাড়ি চালিয়ে বর্জ্য অপসারণ তদারকিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রতিবেদক, ঢাকা:
পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান আনুষ্ঠানিকতা শেষে এখন চারদিকে চলছে ত্যাগের মহিমায় পশু কোরবানির পরবর্তী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম। আর ঢাকা মহানগরের এই বিশাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কতটুকু সুচারুভাবে সম্পন্ন হচ্ছে, তা ঘরের কোণে বসে শুধু প্রতিবেদনেই সীমাবদ্ধ রাখেননি সরকারপ্রধান। চিরচেনা রূপ ভেঙে এক অভিনব ও দায়িত্বশীল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজধানীর কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম স্বচক্ষে দেখতে এবং এর অগ্রগতি মূল্যায়ন করতে তিনি নিজেই গাড়ি নিয়ে নেমে পড়েছেন ঢাকার রাজপথে। কোনো প্রটোকলের জাঁকজমক বা আনুষ্ঠানিকতার বেড়াজাল ছাড়াই, সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী ভঙ্গিতে নিজে গাড়ি চালিয়ে নগরের বিভিন্ন স্পট ও রুট ঘুরে দেখছেন তিনি।
শুক্রবার (২৯ মে) বিকেল ৪টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর এই আকস্মিক ও প্রশংসনীয় পরিচ্ছন্নতা সফর শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এই তথ্য নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর কোরবানির বর্জ্য অপসারণ প্রক্রিয়া ঠিকঠাকভাবে ও দ্রুততম সময়ে হচ্ছে কিনা, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতেই বেরিয়েছেন। কোনো বিশেষ রাষ্ট্রীয় আয়োজন নয়, বরং নাগরিক দায়িত্ব ও নগরবাসীর স্বস্তির বিষয়টি নিশ্চিত করাই ছিল তার এই সফরের মূল লক্ষ্য। উপ-প্রেস সচিব আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তার গুলশান এভিনিউর বাসভবন থেকে নিজে গাড়ি ড্রাইভ করে বের হন এবং একের পর এক এলাকা পরিদর্শন করতে থাকেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই ঝটিকা পরিদর্শনের রুটটি ছিল বেশ দীর্ঘ ও সুপরিকল্পিত, যা রাজধানীর উত্তর ও দক্ষিণ উভয় অংশকেই সংযুক্ত করেছে। গুলশান থেকে যাত্রা শুরু করে তার গাড়িটি গুলশান-১ নম্বর সড়ক হয়ে দৃষ্টিনন্দন হাতিরঝিল এলাকা অতিক্রম করে। এরপর একে একে রামপুরা রোড ও মালিবাগের আবুল হোটেল মোড় পার হয়ে গাড়িটি পৌঁছায় তালতলা মার্কেটে। সেখান থেকে বাসাবো সড়ক হয়ে প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি বহর এগিয়ে যায় কমলাপুর স্টেডিয়ামের দিকে। এরপর সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড ও যাত্রাবাড়ী মোড় হয়ে ধোলাইখালের চিরচেনা যানজটের পথ মাড়িয়ে গাড়িটি শহীদ ফারুক সড়ক ও দয়াগঞ্জ সড়ক ধরে নারিন্দায় প্রবেশ করে।
নারিন্দা পার হয়ে রায়সাহেব বাজার মোড় এবং আদালত সড়ক দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িটি অগ্রসর হয় নয়াবাজার ও বংশাল রোডের দিকে। এরপর পুরান ঢাকার ইতিহাস বিজড়িত গুলিস্তান ও শাহবাগ মোড় হয়ে গাড়িটি এলিফ্যান্ট রোড এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরের শান্ত সবুজ চত্বর দিয়ে নিউমার্কেটে প্রবেশ করে। সেখান থেকে সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় হয়ে ডান দিকে ঘুরে কলাবাগান, মিরপুর রোড ও সিটি কলেজের সামনে দিয়ে সীমান্ত স্কয়ার হয়ে জিগাতলা বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছায়। এরপর জিগাতলা থেকে ২৭ নম্বর সড়ক দিয়ে মানিক মিয়া এভিনিউয়ের চত্বর স্পর্শ করে মহাখালী সড়ক প্রদক্ষিণের মাধ্যমে এই দীর্ঘ রুট সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রীর এমন আকস্মিক ও ভিন্নধর্মী পরিদর্শনের খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে নগরজুড়ে। অনেক এলাকাতেই সাধারণ মানুষ ও দায়িত্বরত পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সরকারপ্রধানকে নিজে গাড়ি চালাতে দেখে বিস্ময় ও উছ্বাস প্রকাশ করেন। এই সফর পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মনোবল বহুলাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে, যার ফলে নগরীর বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম আরও গতিশীল হয়েছে। পরিবেশবিদ ও নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, রাষ্ট্রপ্রধানের এভাবে সরাসরি মাঠে নেমে কাজ তদারকি করার সংস্কৃতি দেশের প্রশাসনিক জবাবদিহিতা ও জনবান্ধব রাজনীতির এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল। রাজধানীর প্রধান সড়কগুলো থেকে শুরু করে অলিগলির বর্জ্য দ্রুততম সময়ে সরিয়ে একটি দুর্গন্ধমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন ঢাকা উপহার দিতে এই উদ্যোগ অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।