রাজধানীতে শতভাগ কোরবানির বর্জ্য অপসারণের দাবি নগর কর্তৃপক্ষের, চামড়া নিয়ে ক্ষোভ
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
ঈদুল আজহার পশু কোরবানির পর দুই সিটির ঘোষিত সময়ের মধ্যেই রাজধানীর প্রায় শতভাগ বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। বৃহস্পতিবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরুর পর রাতের মধ্যেই দুই সিটির প্রশাসকরা আলাদা সংবাদ সম্মেলনে এই সাফল্যের কথা জানান। তবে বর্জ্য অপসারণে রেকর্ড গতি দেখা গেলেও রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে কোরবানির পশুর চামড়া যত্রতত্র ফেলে রাখায় তীব্র ক্ষোভ ও বিপাকে পড়েছেন পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং নগর কর্তৃপক্ষ। মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীদের অসচেতনতার কারণে পরিষ্কার হওয়া রাস্তাগুলো কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার ময়লার স্তূপে পরিণত হয়, যা অপসারণে রাতভর অতিরিক্ত বেগ পেতে হয়েছে দুই সিটিকে।
বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পূর্বঘোষিত ক্র্যাশ প্রোগ্রাম শুরু হয়। এবার দুই সিটির প্রায় ২৯ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী একযোগে বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্যে মাঠে নামেন। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৬ হাজার এবং দক্ষিণ সিটিতে ১৩ হাজার কর্মী কাজ করেন। দুপুর গড়াতেই মিরপুর, গুলশান, পুরান ঢাকা, পল্টনসহ বিভিন্ন এলাকায় বর্জ্যবাহী গাড়ির ব্যস্ততা চোখে পড়ে। নগরবাসীকে সরবরাহ করা বিশেষ পলিব্যাগে বর্জ্য ভরে রাখার কারণে এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টায় সন্ধ্যার মধ্যেই রাজধানীর প্রধান সড়কগুলো থেকে কোরবানির উচ্ছিষ্ট দূর করা সম্ভব হয়।
বৃহস্পতিবার রাতে নগর ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তাদের আওতাধীন ৭১টি ওয়ার্ডের শতভাগ বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে এবং বাকি ৪টি ওয়ার্ডের প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এবার দক্ষিণে মোট বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৫ হাজার ৯৩৫ টন, যার মধ্যে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজার ৬৮৪ টন বর্জ্য ল্যান্ডফিলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত হিসাবে এই সংগ্রহের পরিমাণ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। তবে সফলতার এই চিত্রের মাঝেও চামড়া ব্যবসায়ীদের অসচেতনতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন দক্ষিণ সিটির কর্মকর্তারা। বিশেষ করে ধানমন্ডি এলাকার সড়কগুলো পরিষ্কার করার পরপরই তা চামড়া ব্যবসায়ীদের দখলে চলে যায়। পরিচ্ছন্ন রাস্তায় পুনরায় চামড়ার স্তূপ ও আবর্জনা তৈরি হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন পরবর্তীতে সেসব চামড়া জব্দ করার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেয়।
অন্যদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন মিরপুর-১২ নম্বর এলাকা থেকে দুপুরেই বর্জ্য অপসারণের মূল কাজ শুরু হয়। গুলশানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম জানান, দ্রুত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার যে চ্যালেঞ্জ তারা নিয়েছিলেন, তা সফলভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। রাত ৮টা নাগাদ উত্তরের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ৭ হাজার টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়। প্রশাসক শফিকুল ইসলাম বলেন, দ্রুততম সময়ে বর্জ্য অপসারণের কাজ অনেক দূর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হলেও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এখনই থেমে যাচ্ছে না। সার্বিক পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে তারা ৭২ ঘণ্টার একটি বিশেষ টার্গেট নিয়েছিলেন এবং সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী দুই দিন ধরে অবশিষ্ট ও সুপ্ত বর্জ্য পরিষ্কারের কাজ চলমান থাকবে। দুই সিটির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ জানিয়েছে, কোরবানির মূল বর্জ্য সরানো শেষ হলেও পশুর রক্ত ও মলমূত্র ধুয়ে ফেলার জন্য ব্লিচিং পাউডার ও স্যাভলন মিশ্রিত পানি ছিটানোর কাজ শুক্রবারও অব্যাহত থাকবে, যাতে নগরীতে কোনো ধরনের দুর্গন্ধ বা রোগজীবাণু ছড়াতে না পারে।