নাড়ির টানে শেষ মুহূর্তের ছোটোছুটি: ঈদের দ্বিতীয় দিনেও ফাঁকা ঢাকার বাস টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়

 প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৬, ১০:০১ পূর্বাহ্ন   |   জাতীয়

নাড়ির টানে শেষ মুহূর্তের ছোটোছুটি: ঈদের দ্বিতীয় দিনেও ফাঁকা ঢাকার বাস টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়

মহানগর ডেস্ক:

পবিত্র ঈদুল আজহার টানা ছুটিতে রাজধানী ঢাকা এখন পুরোপুরি শান্ত ও কোলাহলমুক্ত। চিরচেনা যানজট আর কোলাহলের শহর ঢাকা এখন যেন এক অচেনা শান্ত রূপ ধারণ করেছে। তবে যান্ত্রিক এই নগরী ফাঁকা হলেও, প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে মানুষের গ্রামে ফেরার চাকা এখনো থামেনি। ঈদের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় দিনেও ঢাকার বিভিন্ন বাস টার্মিনাল ও কাউন্টারগুলোতে দেখা গেছে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়। যারা নানা ব্যস্ততা, পেশাগত দায়িত্ব কিংবা ছুটি না পাওয়ার কারণে ঈদের আগে ঢাকা ছাড়তে পারেননি, তারা এখন ব্যাগ-লাগেজ হাতে দূরপাল্লার বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন।

শুক্রবার সকাল থেকেই গাবতলী, সায়েদাবাদ, মহাখালী বাস টার্মিনাল এবং কল্যাণপুর ও মালিবাগের বিভিন্ন কাউন্টারে যাত্রীদের উল্লেখেযোগ্য উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। সাধারণত ঈদের পরের দিনগুলোতে বাস টার্মিনালগুলো ফাঁকা থাকে, তবে এবারের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। কাউন্টারে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদের আগে হুড়োহুড়ি আর অতিরিক্ত যানজটের ভোগান্তি এড়াতেই অনেকে পরিকল্পিতভাবে ঈদের দ্বিতীয় দিনটিকে বেছে নিয়েছেন। রাস্তাঘাট সম্পূর্ণ ফাঁকা থাকায় অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক এবং আরামদায়ক ভ্রমণের আশা করছেন তারা। আবার অনেক চাকরিজীবী জানিয়েছেন, ঈদের দিন জরুরি ডিউটি থাকার কারণে তারা ঢাকা ছাড়তে পারেননি। দায়িত্ব শেষ করেই ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতে তারা টার্মিনালের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।

এই বিলম্বিত ঈদযাত্রায় যোগ হয়েছে আরেকটি নতুন প্রবণতা। অনেক পরিবার ঈদের প্রথম দিন ঢাকার নিজেদের বাসায় কোরবানি এবং পারিবারিক আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেছেন। এরপর দ্বিতীয় দিনে তারা গ্রামের বাড়িতে থাকা বৃদ্ধ বাবা-মা, ভাই-বোন ও অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে এবং কোবানির মাংস পৌঁছে দিতে ঢাকা ছাড়ছেন। ফলে টার্মিনালগুলোতে শুধু একক যাত্রীই নয়, সপরিবারে ভ্রমণের আমেজও চোখে পড়ার মতো।

এদিকে নির্ধারিত টার্মিনাল ও কাউন্টারগুলোর পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়, যেমন— যাত্রাবাড়ী, বিমানবন্দর সড়ক, প্রগতি সরণি ও টেকনিক্যাল মোড়েও অনেক যাত্রীকে বাসের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। দূরপাল্লার বাসগুলো ফাঁকা ঢাকা পার হওয়ার সময় এসব মোড় থেকে বাড়তি যাত্রী তুলে নিচ্ছে। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদের আগের দিনগুলোর মতো এখন আর টিকিটের জন্য হাহাকার নেই, বাসের শিডিউল বিপর্যয়ও নেই। পর্যাপ্ত গাড়ি থাকায় যাত্রীরা সহজেই টিকিট কেটে গন্তব্যে রওনা হতে পারছেন। ফাঁকা মহাসড়কে গাড়িগুলো দ্রুত গতিতে চলতে পারায় চালক ও শ্রমিকদের মধ্যেও এক ধরনের স্বস্তি দেখা গেছে।

নাগরিক জীবনের শত ব্যস্ততা আর ক্লান্তি ভুলে শেষ মুহূর্তে প্রিয়জনদের হাসিমুখ দেখার এই আকুলতা প্রমাণ করে, উৎসবের আনন্দ আসলে একা উদযাপনে নয়, বরং সবার সঙ্গে মিলেমিশে থাকার মধ্যেই লুকিয়ে আছে। রাজধানী ছাড়ার এই শেষ স্রোতটি আগামী দু-একদিনের মধ্যে কমতে শুরু করবে এবং ঈদের ছুটি শেষে চিরচেনা রূপ নিয়ে আবারও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে এই ঢাকা।

Advertisement
Advertisement
Advertisement