কোরবানির বর্জ্য সরাতে অবহেলা: ডিএসসিসির কড়া অ্যাকশন, কর্মীদের শোকজ ও ইজারাদারদের কালো তালিকাভুক্তির হুঁশিয়ারি
মহানগর ডেস্ক:
ঈদুল আজহার কোরবানির পশুর হাটের বর্জ্য যথাসময়ে অপসারণ না করায় কঠোর অবস্থানে গেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। দায়িত্ব পালনে গাফিলতি ও অবহেলার অভিযোগে বেশ কয়েকজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ে হাট পরিষ্কার না করায় সংশ্লিষ্ট ইজারাদারদের বড় অঙ্কের জরিমানা এবং ভবিষ্যতে তাদের আর কখনো হাট ইজারা না দেওয়ার মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে নগর কর্তৃপক্ষ।
আজ শুক্রবার (২৯ মে) রাজধানীর শাহজাহানপুর পশুর হাটের বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সরেজমিন পরিদর্শনে এসে ডিএসসিসি প্রশাসক আবদুস সালাম সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনা মেনে নগরীকে দ্রুত পরিচ্ছন্ন করার জন্য তারা নিরলস কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, জনস্বার্থের এই কাজে কোনো ধরনের ঢিলেমি বা দায়িত্বে অবহেলা বরদাশত করা হবে না।
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই ঢাকা দক্ষিণের বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির পশুর হাটের বর্জ্য সংগ্রহের মূল কাজ শুরু হয়। গভীর রাত ১টা পর্যন্ত একটানা চলে এই অপসারণ প্রক্রিয়া। তবে রাতের বেলা পর্যাপ্ত ট্রাক ও ভারী যানবাহনের সংকটের কারণে পশুর হাটের জমাকৃত বর্জ্যের একটি বড় অংশ সাময়িকভাবে মূল সড়কের পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছিল। আজ সকাল থেকেই সেইসব স্তূপীকৃত বর্জ্য দ্রুততার সঙ্গে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। প্রশাসক আবদুস সালাম আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আজকের দিনের মধ্যেই নগরীর পশুর হাটগুলোর অধিকাংশ বর্জ্য পুরোপুরি অপসারণ করা সম্ভব হবে। আজ বিশেষভাবেই হাটের চারপাশের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পশুর হাটের ইজারাদারদের চুক্তিভিত্তিক দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নিয়ম অনুযায়ী, হাট শেষ হওয়ার পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পুরো এলাকা পরিষ্কার করে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল ইজারাদারদের। কিন্তু সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, অনেক ইজারাদারই সেই চুক্তি মানেননি। এই চুক্তিভঙ্গের কারণে তাদের শুধু আর্থিক জরিমানার মুখোমুখিই হতে হবে না, বরং আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়ার স্বার্থে ভবিষ্যতে তাদের কালো তালিকাভুক্ত করা হবে যাতে তারা আর কখনোই সিটি করপোরেশনের কোনো পশুর হাট ইজারা না পান।
এদিকে দুপুরের পর থেকে শাহজাহানপুর, মেরাদিয়া ও কমলাপুরসহ বিভিন্ন এলাকার পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, ডিএসসিসির শত শত পরিচ্ছন্নতাকর্মী, আধুনিক স্ক্যাপার ও পানির গাড়ি নিয়ে রাস্তাঘাট পরিষ্কারের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বর্জ্য অপসারণের পর দুর্গন্ধ দূর করতে এবং জীবাণু ছড়ানো রোধে ব্লিচিং পাউডার ও তরল জীবাণুনাশক ছিটানো হচ্ছে। তবে ঈদের পরদিনও কিছু কিছু এলাকায় বর্জ্যের স্তূপ জমে থাকায় এবং তীব্র রোদে তা থেকে দুর্গন্ধ ছড়ানোয় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষ দেখা গেছে। নগরবাসীর ভোগান্তি লাঘবে পুরো টিমকে আরও গতিশীল করার নির্দেশ দিয়েছেন ডিএসসিসি প্রশাসক।