কাবা শরিফে ঈদের প্রধান জামাত, ইমামতি করবেন শায়খ বানদার বালিলাহ

 প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৬, ০৩:৫৬ অপরাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

কাবা শরিফে ঈদের প্রধান জামাত, ইমামতি করবেন শায়খ বানদার বালিলাহ

অনলাইন ডেস্ক:

বিশ্ব মুসলিমের হৃদয়ের স্পন্দন, মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামে (কাবা শরিফ) আসন্ন ঈদুল আজহার প্রধান জামাতে ইমামতি ও খুতবা প্রদানের মহতী দায়িত্ব পেয়েছেন সুপ্রসিদ্ধ ইসলামিক স্কলার শায়খ ড. বানদার বালিলাহ। সম্প্রতি মসজিদে হারাম ও মসজিদে নববী বিষয়ক জেনারেল অথরিটি আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে আগামী বুধবার (২৭ মে) সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পবিত্র ঈদুল আজহা তথা কোরবানির ঈদ উদযাপিত হতে যাচ্ছে। প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদের এই মহামিলনকে কেন্দ্র করে মক্কা নগরীতে সমবেত হয়েছেন বিশ্বের নানা প্রান্তের লাখো হাজি ও স্থানীয় পুণ্যার্থী। ইসলামের সবচেয়ে পবিত্রতম এই স্থানে ঈদের খুতবা শোনার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন কোটি কোটি মুসলিম, আর সেই মাহেন্দ্রক্ষণে খতিবের মিম্বরে দাঁড়িয়ে বিশ্ব উম্মাহর কল্যাণ কামনায় দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখবেন শায়খ বালিলাহ।


পবিত্র কাবা শরিফের মিম্বরে দাঁড়িয়ে ইমামতি ও খুতবা দেওয়ার এই পরম সৌভাগ্য শায়খ বানদার বালিলাহর জন্য নতুন কিছু নয়। প্রায় এক দশক ধরে তিনি অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে মসজিদে হারামের স্থায়ী ইমাম ও খতিব হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন। ১৯৭৫ সালে পবিত্র মক্কা নগরীর এক সম্ভ্রান্ত ও দ্বীনি পরিবারে জন্মগ্রহণ করা এই মনীষী শৈশব থেকেই ইসলামের মৌলিক শিক্ষার আলোয় বেড়ে ওঠেন। তাঁর চমৎকার, হৃদয়স্পর্শী এবং সুমধুর কোরআন তিলাওয়াত বিশ্বজুড়ে কোটি মানুষের অন্তর জয় করেছে। মূলত ২০১৩ সালে রমজান মাসে তারাবিহর নামাজের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কাবার ইমাম হিসেবে তাঁর যাত্রা শুরু করেন এবং পরবর্তীতে তাঁর যোগ্যতা ও প্রজ্ঞার কারণে তাকে স্থায়ী খতিবের মর্যাদা দেওয়া হয়। এর আগে তিনি মক্কার স্থানীয় বেশ কয়েকটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ মসজিদে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ইমামতি ও খতিবের দায়িত্ব পালন করেছেন, যা তাঁকে বৃহৎ পরিসরে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করে তোলে।

ইসলামি শরিয়াহ এবং ফিকহ শাস্ত্রে শায়খ বানদার বালিলাহর পাণ্ডিত্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। মক্কার ঐতিহ্যবাহী উম্মুল কুরা ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি ইসলামি আইনে প্রথম স্থানসহ স্নাতক (গ্র্যাজুয়েশন) ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। উচ্চশিক্ষার প্রতি প্রবল অনুরাগী এই স্কলার পরবর্তীতে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামি ফিকহে মাস্টার্স বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর মেধা এবং গবেষণাধর্মী কাজের পরিধি এখানেই থেমে থাকেনি; ২০০৮ সালে ইসলামের দ্বিতীয় পবিত্র নগরী মদিনার খ্যাতনামা 'মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়' থেকে তিনি অত্যন্ত কৃতিত্বের সঙ্গে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। তাঁর গভীর জ্ঞান এবং প্রজ্ঞার কারণে সৌদি আরবের সর্বোচ্চ উলামা পরিষদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় সংস্থায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। একই সঙ্গে তিনি উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শরিয়াহ ফ্যাকাল্টির অধ্যাপক হিসেবেও নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের ইলমে দ্বীনের আলো ছড়াচ্ছেন।

আগামী বুধবারের এই ঈদের জামাতকে ঘিরে ইতিমধ্যেই মসজিদুল হারামে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। লাখ লাখ মুসল্লির নিরাপত্তা, যাতায়াত এবং শৃঙ্খলার জন্য আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবক ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। শায়খ ড. বানদার বালিলাহর ইমামতিতে অনুষ্ঠিতব্য এই ঈদের নামাজে মূলত বিশ্ব মুসলিমের ঐক্য, শান্তি, এবং ত্যাগের মহিমার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে খুতবা প্রদান করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। হজ পালন শেষে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা আল্লাহর মেহমান এবং স্থানীয় মুসল্লিদের উপস্থিতিতে কাবার চত্বর কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে উঠবে, আর শায়খ বালিলাহর সুমধুর কণ্ঠের তাকবিরধ্বনি ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে মুখরিত হবে পবিত্র মক্কা নগরী।

Advertisement
Advertisement
Advertisement