জেনেভায় আন্তর্জাতিক প্যানেলে বাংলাদেশের খাদ্য পুষ্টি সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরা
সুইজারল্যান্ডের জেনেভাস্থ-এ আজ অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় বাংলাদেশে বৃহৎ পরিসরের খাদ্য পুষ্টি সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রমের সাফল্য, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ তুলে ধরা হয়েছে। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এবং।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, অপুষ্টি মোকাবিলা এবং জনগণের পুষ্টিমান উন্নয়নে বাংলাদেশ গত এক দশকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। বর্তমানে দেশে লবণ, ভোজ্যতেল, গমের আটা ও চালের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যে পুষ্টি সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর ফলে আয়রন, আয়োডিন, ভিটামিন-এ ও জিংকসহ প্রয়োজনীয় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের ঘাটতি কমাতে ইতিবাচক প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে।
আলোচনায় উল্লেখ করা হয়, বৃহৎ পরিসরের খাদ্য পুষ্টি সমৃদ্ধকরণ অপুষ্টি প্রতিরোধে একটি কার্যকর, ব্যয়-সাশ্রয়ী ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। বিশেষত নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর কাছে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান পৌঁছে দিতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বক্তারা আরও বলেন, এ খাতে অগ্রগতির পাশাপাশি কিছু চ্যালেঞ্জও বিদ্যমান রয়েছে। নীতিগত সমন্বয়ের ঘাটতি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা, মান নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা এবং বাজারভিত্তিক প্রতিবন্ধকতা দূর করা এখন সময়ের দাবি। একইসঙ্গে উৎপাদকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, ভোক্তা সচেতনতা তৈরি এবং টেকসই বাজার কাঠামো গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
বাংলাদেশ সরকার খাদ্য পুষ্টি সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করতে নীতি সহায়তা জোরদার, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ সম্প্রসারণে কাজ করে যাচ্ছে বলেও সভায় জানানো হয়।
আলোচনায় “ফ্যামিলি কার্ড” কর্মসূচির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। বক্তারা মত দেন, এ কর্মসূচির আওতায় পুষ্টি সমৃদ্ধ চাল, আটা ও ভোজ্যতেল অন্তর্ভুক্ত করা হলে নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর পুষ্টি নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে। এর মাধ্যমে উপকারভোগীরা প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজসমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণের সুযোগ পাবে, যা শিশু, নারী ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর পুষ্টি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, সরকার, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, বেসরকারি খাত ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ খাদ্য পুষ্টি সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রমে আরও সাফল্য অর্জন করবে এবং বৈশ্বিক পরিসরে একটি অনুকরণীয় মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।