জাতিসংঘে বাংলাদেশের অঙ্গীকার: গণতন্ত্র ও শান্তি রক্ষায় নতুন দিগন্ত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ১৫ মে, ২০২৬
নিউ ইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দপ্তরে গতকাল এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এবং জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব (রাজনৈতিক, শান্তি ও শান্তিরক্ষা কার্যক্রম) খালেদ খিয়ারি। বৈঠকে বৈশ্বিক শান্তি রক্ষা, গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার উত্তরণ এবং রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী।
সংস্কার ও সুশাসনে বাংলাদেশের নতুন যাত্রা
বৈঠকের শুরুতেই পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের অগ্রাধিকারসমূহ তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য হলো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর জনগণের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনা। শামা ওবায়েদ বলেন,
"আমরা এমন এক বাংলাদেশ বিনির্মাণে অঙ্গীকারবদ্ধ যেখানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং আইনের শাসন হবে শেষ কথা। প্রতিটি নাগরিক যেন রাষ্ট্রীয় সেবার সুফল পায় এবং মানবাধিকার সুরক্ষিত থাকে, সেটিই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।"
প্রান্তিক মানুষের পাশে সরকার
দেশের অভ্যন্তরে চলমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের বিশেষ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলোর কথা উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। বিশেষ করে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং ‘ফার্মার্স কার্ড’ কর্মসূচির মাধ্যমে কীভাবে সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের সরাসরি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে, তা তিনি বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেন। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জনে এসব উদ্যোগ মাইলফলক হিসেবে কাজ করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
শান্তিরক্ষায় শীর্ষস্থানে বাংলাদেশ
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার কথা স্মরণ করে প্রতিমন্ত্রী চলমান তারল্য সংকটের মধ্যেও শান্তি রক্ষার ম্যান্ডেট বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, আধুনিক বিশ্বের সংঘাতময় পরিস্থিতিতে টেকসই শান্তি বজায় রাখতে নারী ও তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ আরও বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। সহকারী মহাসচিব খালেদ খিয়ারি শান্তি ও নিরাপত্তা উদ্যোগে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং নারী শান্তিরক্ষীদের বীরত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
রোহিঙ্গা সংকট: ‘প্রত্যাবাসনই একমাত্র পথ’
মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে দীর্ঘ আলোচনায় শামা ওবায়েদ বলেন, রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনই এই সংকটের একমাত্র স্থায়ী সমাধান। তিনি উদ্বেগের সাথে জানান যে, আন্তর্জাতিক সহায়তার ঘাটতি হলে এই অঞ্চল বড় ধরনের মানবিক ও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সমর্থন ও রাজনৈতিক চাপ বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
পরিশেষে জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব খালেদ খিয়ারি বাংলাদেশের নতুন সরকারের গৃহীত সংস্কারমূলক পদক্ষেপগুলোর প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। বিশ্বশান্তি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশ আগামী দিনেও জাতিসংঘের অন্যতম ঘনিষ্ঠ অংশীদার হিসেবে কাজ করবে বলে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।