বহিষ্কারের ১২ ঘণ্টায় এনসিপির নতুন চমক: ঢাকা উত্তরের নেতৃত্বে ঢাবির সাবেক ছাত্রী সাদিয়া
মহানগর ডেস্ক:
জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) নাটকীয় পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে। দলের ভেতরকার আদর্শিক দ্বন্দ্ব আর আকস্মিক বহিষ্কারের ঘটনার মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার শীর্ষ নেতৃত্বে নিয়ে আসা হয়েছে তরুণ মুখ। মহানগর উত্তরের ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিবের গুরুত্বপূর্ণ এই দায়িত্ব পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক মেধাবী শিক্ষার্থী সাদিয়া ফারজানা (দিনা)। রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ ও তরুণ নেতৃত্বের বিকাশের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে তার এই অন্তর্ভুক্তিকে দেখছেন দলটির নীতি-নির্ধারকেরা।
এই নাটকীয়তার সূত্রপাত ঘটে গত রবিবার বিকেলে। গত ছয় মাস ধরে মহানগর উত্তর এনসিপির দ্বিতীয় শীর্ষ এই পদে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন সর্দার আমিরুল ইসলাম। কিন্তু হঠাৎ করেই দলের বিরুদ্ধে ডানপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়ার গুরুতর অভিযোগ তোলেন তিনি। নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্টে আমিরুল ইসলাম লেখেন, ‘আমার পক্ষে দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা আর সম্ভব হচ্ছে না।’ তার এই পোস্ট রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং দলের ভেতরে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।
দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন প্রকাশ্য অবস্থানকে এনসিপির হাইকমান্ড সহজভাবে নেয়নি। ফলে মধ্যরাতেই দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সর্দার আমিরুল ইসলামকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের ঘোষণা দেয় এনসিপি। এই বহিষ্কারাদেশের পর দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ জোনের শীর্ষ পদটি শূন্য হয়ে পড়ায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েন কেন্দ্রীয় নেতারা।
বহিষ্কারের ঠিক ১২ ঘণ্টা পর, সোমবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে এক জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন নেতৃত্বের নাম ঘোষণা করে এনসিপি। দলটির কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আখতার হোসেন ও মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব পদে শূন্যতা সৃষ্টি হওয়ায় এবং সংগঠনের কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা ও সুষ্ঠু সাংগঠনিক পরিচালনার স্বার্থে দলীয় সিদ্ধান্তে সাদিয়া ফারজানাকে ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
নবনিযুক্ত সাদিয়া ফারজানা (দিনা) হুট করেই এই শীর্ষ পদে চলে আসেননি, বরং দীর্ঘদিন ধরেই তিনি দলটির বিশ্বস্ত ও সক্রিয় কর্মী হিসেবে মাঠে ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষার্থী এর আগে ঢাকা মহানগর উত্তরের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব হিসেবে দক্ষতার সাথে নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া কেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর সেলের সদস্য হিসেবেও পর্দার আড়াল থেকে দলের সাংগঠনিক কাজ এগিয়ে নিচ্ছিলেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন অভিজ্ঞ পুরুষ নেতাকে বহিষ্কারের পর সাদিয়ার মতো একজন তরুণ ও নারী নেত্রীকে এই গুরুত্বপূর্ণ মহানগরীর দায়িত্ব দেওয়া এনসিপির একটি কৌশলী এবং আধুনিক রাজনৈতিক পদক্ষেপ। এটি একদিকে যেমন দলে তরুণদের প্রাধান্য নিশ্চিত করার বার্তা দেয়, অন্যদিকে যেকোনো অভ্যন্তরীণ কোন্দল বা আদর্শিক বিচ্যুতিতে দল যে কঠোর অবস্থান নিতে পারে, তা-ও প্রমাণ করে। রাজধানী ঢাকার উত্তর অংশের মতো রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি জোনে সাদিয়ার এই নতুন নেতৃত্ব এনসিপিকে কতটা সুসংগঠিত করতে পারে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।