লন্ডনে সফল হৃদরোগ চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

 প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬, ০২:৫৭ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

লন্ডনে সফল হৃদরোগ চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

নিউজ ডেস্ক:

​যুক্তরাজ্যে সফল চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে সুস্থ শরীরে দেশে ফিরেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। রাষ্ট্রপতিকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইট আজ সোমবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে নামার পর রাষ্ট্রপতিকে ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানান আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান, ডিপ্লোমেটিক কোরের ডিন ইউসুফ এস ওয়াই রমাদান এবং ব্রিটিশ হাইকমিশনের কাউন্সিলর এ্যালিসন জে ক্রস। এ সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে ফলো-আপ চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য গত ৯ মে লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছিলেন রাষ্ট্রপ্রধান।

​লন্ডন সফরের সময় গত ১২ মে ক্যামব্রিজের বিখ্যাত রয়াল প্যাপওয়ার্থ হাসপাতালে রাষ্ট্রপতির একটি এনজিওগ্রাম করা হয়। হাসপাতালটির প্রখ্যাত ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডা. স্টিফেন হোলির তত্ত্বাবধানে এই পরীক্ষাটি সম্পন্ন হয়। এনজিওগ্রাম রিপোর্টে রাষ্ট্রপতির হৃদযন্ত্রে একটি গুরুতর ব্লক ধরা পড়লে চিকিৎসকেরা তাৎক্ষণিকভাবে এনজিওপ্লাস্টি করার সিদ্ধান্ত নেন। অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সফলভাবে তাঁর হৃদযন্ত্রে একটি স্টেন্ট বা রিং স্থাপন করা হয়। বঙ্গভবন প্রেস উইং জানিয়েছে, সফল এই অস্ত্রোপচারের পর রাষ্ট্রপতি দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা পুরোপুরি স্থিতিশীল ও সন্তোষজনক রয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে রাষ্ট্রপতির একটি সফল কার্ডিয়াক বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হয়েছিল। সেই অস্ত্রোপচারের পর থেকেই তিনি নিয়মিত চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং এবারের সফরটি ছিল তারই একটি অংশ।

​শারীরিক অসুস্থতা ও দূরপ্রবাসে অবস্থান করলেও দেশের রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে কোনো স্থবিরতা আসতে দেননি রাষ্ট্রপ্রধান মো. সাহাবুদ্দিন। আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালেও তিনি তাঁর দাপ্তরিক দায়িত্ব নিয়মিত পালন করেছেন। লন্ডনে চিকিৎসাধীন ও বিশ্রামে থাকার সময়েও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে পাঠানো রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সারসংক্ষেপ, অধ্যাদেশ ও নথি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করেন এবং সেগুলোতে ডিজিটাল স্বাক্ষর ও অনুমোদন প্রদান করেন। ফলে দূর প্রবাসেও রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি, যা আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

​চিকিৎসার পাশাপাশি লন্ডনে অবস্থানকালে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক তৎপরতাও লক্ষ্য করা গেছে। সফরকালীন আবাসস্থল লন্ডনের হোটেল হিলটনে তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন সুদানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিশিষ্ট কূটনীতিক ড. কামিল ইদ্রিস। এই অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে তাঁরা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বিষয়, আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং মুসলিম উম্মাহর সমসাময়িক নানা সংকট নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেন। চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে পূর্ণ বিশ্রামের পরামর্শ দেওয়া হলেও তিনি দেশের মানুষের দোয়া ও ভালোবাসায় দ্রুত সুস্থ হয়ে কাজে ফিরতে পেরে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বিমানবন্দর থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতিকে তাঁর সরকারি বাসভবন বঙ্গভবনে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তিনি আগামী কয়েকদিন চিকিৎসকদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণে থাকবেন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement