ঈদুল আজহায় যানজটমুক্ত মহাসড়ক ও স্বস্তির যাত্রায় সরকারের মেগা প্ল্যান: ১৩ দিন ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে সিএনজি ফিলিং স্টেশন

 প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬, ০২:৫৫ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

ঈদুল আজহায় যানজটমুক্ত মহাসড়ক ও স্বস্তির যাত্রায় সরকারের মেগা প্ল্যান: ১৩ দিন ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে সিএনজি ফিলিং স্টেশন

অনলাইন ডেস্ক :

​আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে রাজধানী ছাড়ানো লাখো মানুষের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে এক ব্যতিক্রমী ও যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কোরবানি ঈদের আনন্দ উদযাপনে বাড়ি ফেরা ও কর্মস্থলে ফেরার পুরো প্রক্রিয়াটিকে যানজটমুক্ত এবং স্বস্তিদায়ক করতে দেশের সব সিএনজি ফিলিং স্টেশন টানা ১৩ দিন ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঈদে মহাসড়কে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে এবং জ্বালানি সংকটের কারণে সৃষ্ট দীর্ঘ যানজট এড়াতেই বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এই বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে।

​সম্প্রতি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানকে পাঠানো এক সরকারি চিঠিতে এই নির্দেশনার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। সরকারের এই মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২১ মে থেকে শুরু করে ২ জুন পর্যন্ত দেশের সব সিএনজি ফিলিং স্টেশন কোনো ধরনের বিরতি ছাড়াই সার্বক্ষণিক চালু থাকবে। সাধারণত প্রতিদিন বিকেলে ও সন্ধ্যায় সিএনজি স্টেশনগুলোতে যে রেশনিং বা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখার নিয়ম থাকে, এই ১৩ দিন তা সম্পূর্ণ শিথিল থাকবে। সরকারি নির্দেশনা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঈদুল আজহার মূল ছুটির দিনসহ এর আগের ৭ দিন এবং পরের ৫ দিন পর্যন্ত এই বিশেষ সুবিধা পাবেন পরিবহন চালক ও সাধারণ যাত্রীরা। প্রতি বছর ঈদের সময় দেশের লাইফলাইনখ্যাত মহাসড়কগুলোতে ফিলিং স্টেশনের সামনে গ্যাস নেওয়ার জন্য যানবাহনের যে দীর্ঘ সারি তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে মাইলের পর মাইল যানজটের রূপ নেয়, এবার এই সিদ্ধান্তের ফলে সেই চিরচেনা ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

​এদিকে, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাধারণ মানুষের উৎসবের আমেজ আরও বাড়িয়ে দিতে সরকারি চাকুরিজীবীদের জন্য টানা সাত দিনের দীর্ঘ ছুটির ঘোষণা এসেছে। বিগত রোজার ঈদের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবারও কোরবানির ঈদে এই দীর্ঘ ছুটির সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। সরকারের নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সরকারি অফিস-আদালত সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। তবে এই দীর্ঘ ছুটির ঠিক আগে ২৩ ও ২৪ মে নিয়মিত অফিস আদালত খোলা থাকবে বলে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে অনেকেই এই দুই দিন বাড়তি ছুটি নিয়ে বা সাপ্তাহিক ছুটির হিসাব মিলিয়ে মে মাসের ২০ তারিখ থেকেই ঢাকা ছাড়তে শুরু করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

​পরিবহন বিশেষজ্ঞ এবং হাইওয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা সরকারের এই দুই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত ইতিবাচক ও সময়োপযোগী হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, একদিকে টানা সাত দিনের ছুটির কারণে ঘরমুখো মানুষের স্রোত একবারে তৈরি না হয়ে ধাপে ধাপে বিভক্ত হয়ে যাবে, অন্যদিকে সিএনজি স্টেশনগুলো দিনরাত খোলা থাকায় চালকরা যেকোনো সময় স্বাচ্ছন্দ্যে জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারবেন। এতে মহাসড়কের ওপর গাড়ির বাড়তি চাপ তৈরি হবে না। পেট্রোবাংলা সূত্র জানিয়েছে, এই নির্দেশনার পর সারা দেশের সিএনজি স্টেশনগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ বজায় রাখতে বিশেষ মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। কোনো স্টেশনে যাতে গ্যাস প্রেসারের ঘাটতি না হয় এবং কোনো অবস্থাতেই যেন আইন অমান্য করে স্টেশন বন্ধ রাখা না হয়, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি চালানো হবে। সব মিলিয়ে, সরকারের এই সমন্বিত উদ্যোগের ফলে এবারের কোরবানি ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত অনেকটাই ভোগান্তিহীন ও আনন্দময় হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement