জিলহজের চাঁদ দেখা গেছে, ২৮ মে পবিত্র ঈদুল আজহা
নিজস্ব প্রতিবেদক:
মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহার তারিখ নির্ধারিত হয়েছে। দেশের আকাশে ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় আগামী ২৮ মে, বৃহস্পতিবার সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উদযাপিত হবে। আজ সোমবার সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। নিয়ম অনুযায়ী, জিলহজ মাসের ১০ তারিখে মুসলমানরা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করে থাকেন।
সোমবার বাদ মাগরিব ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন। বৈঠক শেষে ধর্মমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করে দেশবাসীকে চাঁদ দেখার আনন্দবার্তা এবং ঈদের তারিখ ঘোষণা করেন। তিনি জানান, আজ ২৯ জিলকদ, ১৮ মে সন্ধ্যায় দেশের আকাশসীমায় জিলহজ মাসের নতুন চাঁদ স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়েছে।
চাঁদ দেখার সত্যতা নিশ্চিত করতে কমিটি সারা দেশের সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়সহ বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়সমূহ, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও উপাত্ত নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করে। সব অঞ্চলের প্রাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই সর্বসম্মতভাবে চাঁদ দেখার বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়। ফলে আগামীকাল ১৯ মে, মঙ্গলবার থেকে ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র জিলহজ মাস গণনা শুরু হবে এবং সেই হিসাব অনুযায়ী আগামী ২৮ মে ১০ জিলহজ পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হতে যাচ্ছে।
ঈদের তারিখ নির্ধারিত হওয়ার পর থেকেই সারা দেশে এক ধরনের উৎসবের আমেজ তৈরি হতে শুরু করেছে। এই ঘোষণার পরপরই কোরবানির পশুর হাটগুলোর প্রস্তুতি জোরদার করা হচ্ছে এবং রাজধানীসহ দেশের বড় বড় শহরের বাসিন্দারা তাদের ঈদ উদযাপনের পরিকল্পনা সাজাতে শুরু করেছেন। বিশেষ করে ২৮ মে বৃহস্পতিবার ঈদ হওয়ায়, সরকারি চাকুরিজীবীসহ সাধারণ মানুষের জন্য সপ্তাহান্তের ছুটির সাথে মিলিয়ে একটি দীর্ঘ অবকাশের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর ফলে অনেকেই প্রিয়জনদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে গ্রামের বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন।
সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতিমধ্যে ঈদকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, পশুর হাটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বিশেষ প্রস্তুতিমূলক সভা শুরু করেছে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর এই ঈদকে ঘিরে প্রতিবছরের মতো এবারও বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ দেশের প্রধান প্রধান ঈদগাহ ময়দানে বিশেষ জামাতের আয়োজন করা হবে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এই পবিত্র দিনে পশু কোরবানির মাধ্যমে হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও হজরত ইসমাইল (আ.)-এর মহান ত্যাগের ঐতিহাসিক স্মৃতিকে স্মরণ করবেন।