কঙ্গোয় আবারও ইবোলার থাবা: খনি অঞ্চলে লাশের মিছিল, জরুরি সতর্কতা জারি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকৃতির রহস্যময় আর প্রাণঘাতী ভাইরাস ইবোলার আতঙ্কে কাঁপছে মধ্য আফ্রিকা। দীর্ঘ ৫০ বছরের লড়াই আর হাজারো প্রাণের বিনিময়েও যেন এই ভাইরাসের হাত থেকে নিস্তার পাচ্ছে না ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো)। দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশের স্বর্ণ খনি সমৃদ্ধ মোঙ্গওয়ালু এবং রওয়ামপারা শহর এখন এক মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, এই নতুন প্রাদুর্ভাবে ২৪৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং এরই মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ৬৫ জন।
আফ্রিকা সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (আফ্রিকা সিডিসি) জানিয়েছে, পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে কঙ্গো, উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদানসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। রাজধানী কিনশাসার ইনস্টিটিউট ন্যাশনাল ডি রেচেচে বায়োমেডিকাল (আইএনআরবি) থেকে আসা প্রাথমিক ল্যাব পরীক্ষায় ২০টি নমুনার মধ্যে ১৩টিতেই ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
১৯৭৬ সালে ইবোলা নদীর তীর থেকে শুরু হওয়া এই আতঙ্ক এখন দেশটির ১৭তম প্রাদুর্ভাবে রূপ নিয়েছে। বনজঙ্গল থেকে বাদুড়ের মাধ্যমে আসা এই ভাইরাস মূলত আক্রান্তের দেহরসের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভয়াবহ অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ আর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল করে দেওয়া এই রোগ মোকাবিলায় এখনো কোনো স্থায়ী নিরাময় নেই। ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের সেই ভয়াবহ স্মৃতির কথা মনে করে স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে, যখন প্রায় ২,৩০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই পরিস্থিতিকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্ধৃতি দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, সীমান্ত এলাকা হওয়ায় সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও। রেড ক্রস এবং ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (MSF) ইতোমধ্যে তাদের মেডিকেল টিম পাঠাতে শুরু করেছে। তবে খনি অঞ্চলের অস্থির পরিবেশ এবং যাতায়াতের দুর্গম পথ চিকিৎসা কার্যক্রমকে আরও চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে। আফ্রিকার এই মৃত্যুমিছিল থামাতে এখন বিশ্ববাসীর দৃষ্টি পুনরায় কঙ্গোর এই দুর্গম জনপদে।
তথ্যসূত্র : আফ্রিকা সিডিস, আইএনআরবি, বিবিস, সিএনএন ও কঙ্গো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।