লন্ডনে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ও সুদানের প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের প্রত্যয়
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে এক সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে মিলিত হয়েছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং সুদানের প্রধানমন্ত্রী ড. কামিল ইদ্রিস। বর্তমানে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান। সফরের মাঝেই লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী হোটেল হিলটনের লবিতে দুই দেশের শীর্ষ নেতার মধ্যে এই অনানুষ্ঠানিক অথচ তাৎপর্যপূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাৎটি অনুষ্ঠিত হয়।
রাষ্ট্রপতির একান্ত সচিব মো. দিদারুল আলম বঙ্গভবন প্রেস উইংকে এই বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আজ সকালে অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাৎকারের শুরুতেই সুদানের প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। রাষ্ট্রপতি সম্প্রতি যে চিকিৎসাগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, সে কথা উল্লেখ করে ড. কামিল ইদ্রিস তাঁর দ্রুত ও পূর্ণ আরোগ্য কামনা করেন। অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই তাৎক্ষণিক কথোপকথনে সুদানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের জনগণের সার্বিক কল্যাণ কামনা করেন এবং রাষ্ট্রপতির সুস্বাস্থ্যের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ দোয়া করেন।
কুশল বিনিময়ের পর দুই নেতার আলোচনায় স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসে বাংলাদেশ ও সুদানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সুদানের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ভৌগোলিক দূরত্ব থাকলেও দুই দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের এক নিবিড় বন্ধন রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি যুদ্ধবিক্ষুব্ধ সুদানের সাধারণ মানুষের শান্তি, কল্যাণ এবং দেশটির সার্বিক সমৃদ্ধি কামনা করেন।
বৈঠকের একপর্যায়ে সুদানের প্রধানমন্ত্রী ড. কামিল ইদ্রিস বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটের কথা টেনে আনেন। তিনি দেশের অত্যন্ত সংকটময় ও জটিল এক সময়ে অত্যন্ত ধৈর্য, ধীরস্থিরতা এবং বিচক্ষণতার সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনার হাল ধরার জন্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তাঁকে আন্তরিক সাধুবাদ জানান।
ড. কামিল ইদ্রিস অত্যন্ত কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন সুদানের মাটিতে নিয়োজিত বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার কথা। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের আওতায় সুদানে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা, গৃহযুদ্ধ কবলিত এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে বাংলাদেশি সেনাসদস্যরা যে ত্যাগ ও পেশাদারিত্ব দেখিয়েছেন, তা সুদানের জনগণের হৃদয়ে চিরস্থায়ী আসন করে নিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। সুদানের প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেই বলেন, বাংলাদেশের এই অবদান সুদান কখনো ভুলবে না। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন অভিযাত্রা এবং অব্যাহত অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
সুদানের প্রধানমন্ত্রীর এই গভীর আন্তরিকতা ও শুভকামনার জবাবে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দুই দেশের এই পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের পরিধি আগামীতে আরও বিস্তৃত হবে। এই সৌজন্য সাক্ষাৎকারের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও সুদানের মধ্যকার বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় ও জোরদার হবে বলে রাষ্ট্রপতি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অনানুষ্ঠানিক এই বৈঠকটি দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগে এক নতুন মাত্রা যোগ করল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।