মস্কো-ওয়াশিংটন-বেইজিং ত্রিমুখী সমীকরণ: ট্রাম্পের চীন সফরের মাঝেই পুতিনের আকস্মিক সফরের ডাক

 প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬, ০৮:০৬ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

মস্কো-ওয়াশিংটন-বেইজিং ত্রিমুখী সমীকরণ: ট্রাম্পের চীন সফরের মাঝেই পুতিনের আকস্মিক সফরের ডাক

​আন্তর্জাতিক ডেস্ক 

বেইজিং ও মস্কোর কূটনৈতিক মহলে এখন সাজ সাজ রব। একদিকে দীর্ঘ এক দশক পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পা পড়েছে বেইজিংয়ের মাটিতে, অন্যদিকে সেই রেশ কাটতে না কাটতেই ক্রেমলিন ঘোষণা করেছে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আসন্ন চীন সফরের কথা। বিশ্ব রাজনীতির তিন প্রধান খেলোয়াড়ের এই নাটকীয় অবস্থানকে কেন্দ্র করে এশিয়াসহ সারা বিশ্বে শুরু হয়েছে নতুন ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ।

​ক্রেমলিনের ঘোষণা ও প্রস্তুতির বার্তা

​বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আরটি-কে জানান, পুতিনের বেইজিং সফরের যাবতীয় প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত করা হয়েছে। যদিও সফরের সুনির্দিষ্ট তারিখ নিয়ে ধোঁয়াশা রাখা হয়েছে, তবে পেসকভ নিশ্চিত করেছেন যে, "খুব শীঘ্রই" পুতিন বেইজিংয়ে পা রাখবেন। রুশ সংবাদমাধ্যমগুলোর জোর গুঞ্জন, আগামী সপ্তাহেই এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে পারে।

​উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট পুতিন সর্বশেষ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বেইজিং সফর করেছিলেন। সেই সময় তিনি চীনের একটি শীর্ষ সম্মেলন ও বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজে অংশ নিয়ে দুই দেশের মধ্যকার অভিন্ন সামরিক ও রাজনৈতিক স্বার্থের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছিলেন।

​ট্রাম্পের বেইজিং মিশন ও ডজন বছরের বিরতি

​অন্যদিকে, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই পরাশক্তি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান বাণিজ্য যুদ্ধ এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি প্রশমনের লক্ষ্যে বর্তমানে বেইজিং সফরে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘ ১০ বছরের মধ্যে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের এটিই প্রথম চীন সফর। বুধবার (১৩ মে) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে ট্রাম্পকে বহনকারী ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বেইজিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ট্রাম্পের এই তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরকে হোয়াইট হাউস অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে।

বিশ্লেষকদের অভিমত: এটি কি কেবলই কাকতালীয়?

​রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সফরের মধ্যেই পুতিনের সফরের ঘোষণা মোটেও কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। ওয়াশিংটন যখন বেইজিংয়ের সাথে নতুন করে সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করছে, তখন মস্কো সম্ভবত বেইজিংকে মনে করিয়ে দিতে চাইছে যে—রাশিয়া ও চীনের মধ্যকার 'সীমাহীন বন্ধুত্ব' অটুট রয়েছে।

​বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পুতিনের এই সফরে রাশিয়ার ইউক্রেন পরিস্থিতি, জ্বালানি সরবরাহ এবং ব্রিকস (BRICS) মুদ্রার ভবিষ্যৎ নিয়ে চীনের সাথে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সই হতে পারে। এছাড়া দক্ষিণ চীন সাগরে মার্কিন উপস্থিতির বিপরীতে রাশিয়া ও চীন যৌথ সামরিক মহড়ার নতুন কোনো ঘোষণা দেয় কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে পেন্টাগনের।

​পরিশেষে, 

​বিশ্ব রাজনীতির ভরকেন্দ্র এখন নিশ্চিতভাবেই বেইজিং। ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের করমর্দনের কয়েক দিন পরেই যখন পুতিন ও শি জিনপিংয়ের বৈঠক হবে, তখন সেই আলোচনার টেবিলে কী বার্তা উঠে আসে—তার ওপরই নির্ভর করছে ২০২৬ সালের পরবর্তী বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা।

​সূত্র: আরটি, ক্রেমলিন প্রেস রিলিজ ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা।

Advertisement
Advertisement
Advertisement