উত্তর প্রদেশে ধূলিঝড় ও বজ্রপাতে ৯৬ জনের মৃত্যু: বিধ্বস্ত জনপদ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতের উত্তর প্রদেশে প্রলয়ঙ্করী ধূলিঝড়, ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাতে অন্তত ৯৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার (১৩ মে) রাতে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় আঘাত হানা এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে শত শত ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে এবং উপড়ে গেছে হাজারো গাছ। আল জাজিরার প্রতিবেদন ও স্থানীয় প্রশাসনিক সূত্রে এই ভয়াবহ প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রকৃতির তাণ্ডবে মৃত্যুপুরী
দেশটির সবচেয়ে জনবহুল এই রাজ্যে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে আহত হয়েছেন আরও ৫০ জনের বেশি মানুষ। উত্তর ভারতে সাধারণত মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত মৌসুমি বায়ু আসার আগে কালবৈশাখী সদৃশ ধূলিঝড় নিয়মিত ঘটনা হলেও এবারের তীব্রতা ছিল অবর্ণনীয়। সরকারি কর্মকর্তারা জানান, অধিকাংশ প্রাণহানি ঘটেছে গাছ উপড়ে পড়া, মাটির ঘর ধসে পড়া এবং খোলা মাঠে বজ্রপাতের কারণে।
বিপর্যস্ত যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা
ঝড়ের প্রভাবে বিভিন্ন জেলায় সড়ক ও রেললাইনের ওপর গাছ উপড়ে পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। অনেক এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে যাওয়ায় গত ২০ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে লাখো মানুষ। পুলিশ ও দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী বর্তমানে চেইনসো এবং ক্রেন ব্যবহার করে রাস্তা থেকে গাছ ও ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ করছে। প্রশাসনিক কর্মকর্তা নরেন্দ্র শ্রীবাস্তব জানান, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
আতঙ্কের সেই রাত: প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান
প্রয়াগরাজ জেলার বাসিন্দা রাম কিশোর সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে বলেন, "হঠাৎ আকাশ কালো হয়ে গেল এবং কয়েক মিনিটের মধ্যে চারপাশ পুরোপুরি অন্ধকার হয়ে গেল। টিনের চাল বাতাসের তোড়ে কাগজের মতো উড়ে যাচ্ছিল। আমরা সারা রাত শুধু বড় বড় গাছ উপড়ে পড়ার শব্দ পেয়েছি।"
অন্যদিকে, ভাদোহি জেলার সাবিত্রী দেবী জানান, অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন তারা। দেয়াল কাঁপতে শুরু করলে তারা দ্রুত মাটির ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন এবং পরক্ষণেই ছাদ ধসে পড়ে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, "মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও প্রকৃতি কেড়ে নিল।"
জরুরি ত্রাণ ও ক্ষতিপূরণ
উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ত্রাণ কার্যক্রম শেষ করার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে জরুরি আর্থিক সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে আহতদের চিকিৎসা চলছে এবং দুর্গত এলাকায় শুকনো খাবার ও ওষুধ পৌঁছে দিচ্ছে স্বেচ্ছাসেবক দল।