গুলশানের রাজপথে এক অন্যরকম বিকেল: হেঁটে কার্যালয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

 প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬, ১০:৪৬ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

গুলশানের রাজপথে এক অন্যরকম বিকেল: হেঁটে কার্যালয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রতিনিধি, ঢাকা:

​রাজধানীর গুলশান এভিনিউয়ের চিরচেনা ব্যস্ত সড়কটি আজ বিকেলে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের সাক্ষী হলো। কোনো সাইরেন বা ভিআইপি প্রটোকলের চিরচেনা জাঁকজমক ছাড়াই, কেবল সাধারণ মানুষের মতো পায়ে হেঁটে নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সপ্তাহের শেষ দিন, শুক্রবার (২২ মে) বিকেলের এই আকস্মিক ঘটনাটি গুলশান এলাকায় উপস্থিত সাধারণ পথচারী ও ব্যবসায়ীদের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্য এবং কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।

​প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তাঁর প্রটোকল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের দূরত্ব তৈরি হওয়া স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু আজ বিকেলে সেই দূরত্বের দেয়াল ভেঙে এক নতুন নজির স্থাপন করলেন সরকারপ্রধান। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি গণমাধ্যমকে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গুলশান এভিনিউতে অবস্থিত নিজের সরকারি বাসভবন থেকে বের হয়ে প্রধানমন্ত্রী হেঁটে সরাসরি বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ের দিকে রওনা হন। এ সময় তাঁর পরনে ছিল অত্যন্ত সাধারণ পোশাক, যা তাঁর চিরাচরিত সাদামাটা জীবনযাত্রারই প্রতিফলন।

​বিকেলের মৃদু বাতাসে রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এই কূটনৈতিক অঞ্চলের ফুটপাত দিয়ে যখন প্রধানমন্ত্রী হেঁটে যাচ্ছিলেন, তখন চারপাশের সাধারণ মানুষ রীতিমতো চমকে ওঠেন। ব্যস্ত রাস্তায় চলাচলকারী যানবাহনগুলোর গতি কিছুটা শ্লথ হয়ে যায় এবং ফুটপাতের দোকানদার ও পথচারীরা বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে থাকেন। অনেকেই হাত নেড়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভিবাদন জানান, আর প্রধানমন্ত্রীও স্বভাবসুলভ হাসিমুখে হাত নেড়ে এবং মাথা ঝুঁকিয়ে সেই শুভেচ্ছার জবাব দেন। কোনো রকম আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়া দেশের শীর্ষনেতাকে এভাবে নিজেদের এত কাছাকাছি পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

​নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা আকস্মিক এই কর্মসূচিতে কিছুটা চমকে গেলেও অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে পরিস্থিতি সামাল দেন। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার খাতিরে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) সদস্যরা ছায়ার মতো তাঁর আশেপাশে অবস্থান নিলেও, সাধারণ মানুষের চলাচলে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়নি। বরং প্রটোকলের কড়াকড়ি কমিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে জনগণের কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়। মাত্র কয়েক মিনিটের এই সংক্ষিপ্ত হাঁটার পথটুকুতে নাগরিক জীবনের খুব কাছাকাছি যাওয়ার এক বিরল সুযোগ তৈরি হয়।

​রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক সাংবাদিকতা ও সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই ঘটনার গভীর তাৎপর্য রয়েছে। এটি কেবলই একটি স্থান পরিবর্তনের ঘটনা নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে জনগণের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ার এবং নিজেকে 'জনগণের প্রধানমন্ত্রী' হিসেবে উপস্থাপনের এক সুনিপুণ রাজনৈতিক বার্তা। ভিআইপি সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে জনবান্ধব সরকার ব্যবস্থার যে প্রতিশ্রুতি বর্তমান প্রশাসন দিয়ে আসছে, এই ঘটনাকে তারই একটি বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

​গুলশানের কার্যালয়ে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান সেখানে অপেক্ষারত দলের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। কার্যালয়ে প্রবেশের পরও তাঁর চোখে-মুখে কোনো ক্লান্তির ছাপ ছিল না, বরং এক ধরনের প্রাণবন্ততা লক্ষ্য করা গেছে। কার্যালয়ে পৌঁছেই তিনি নির্ধারিত দাপ্তরিক কাজ এবং দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে দলীয় ফোরামের জরুরি পর্যালোচনায় অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রীর এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে, যেখানে সাধারণ নাগরিকরা একে একটি ইতিবাচক এবং অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রশংসা করছেন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement