কোলাহল ছাপিয়ে ঈদের সকালে মুখরিত হবে বায়তুল মোকাররম, চূড়ান্ত পাঁচ জামাতের সময়সূচি
অনলাইন ডেস্ক:
পবিত্র ঈদুল আজহার আবহে সারা দেশে বইছে উৎসবের হাওয়া। ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর এই দিনে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় মুসলিম উম্মাহ মেতে উঠবে কোরবানির আনন্দে। ঈদের এই বিশেষ দিনটিতে প্রতিবছরের মতো এবারও রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে গমগম করবে হাজারো মুসল্লির পদচারণায়। কোলাহলময় নগরী যখন ঈদের সকালে কিছুটা শান্ত রূপ নেয়, ঠিক তখনই বায়তুল মোকাররমের মিনার থেকে ভেসে আসা তাকবির ধ্বনি ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মনে জাগিয়ে তোলে এক স্বর্গীয় অনুভূতি। ঢাকা ও এর আশপাশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখো মুসল্লির সুবিধার্থে এবারও জাতীয় মসজিদে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি বিশাল ঈদের জামাত আয়োজনের সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে এই জামাতগুলোর সময়সূচি নির্ধারণ এবং ইমাম ও মুকাব্বিরদের দায়িত্ব চূড়ান্ত করে আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমে তালিকা পাঠানো হয়েছে।
ঈদের দিন সকালের আলো ফোটার পরপরই, যখন চারপাশের বাতাস আতর আর উদয়ের সুবাসে ভরে উঠবে, ঠিক তখনই সকাল ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে দিনের প্রথম এবং প্রধান ঈদের জামাত। এই প্রথম জামাতে ইমামতির গৌরবময় দায়িত্ব পালন করবেন বায়তুল মোকাররমের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুফতি মো. মিযানুর রহমান। তাঁর কণ্ঠের সুমধুর কিরাতের সঙ্গে মুকাব্বির হিসেবে সুর মেলাবেন মসজিদের প্রবীণ মুয়াজ্জিন কারি ইসহাক। প্রথম জামাত শেষ হতে না হতেই মসজিদের আঙিনায় দেখা দেবে নতুন মুসল্লিদের ঢল। এরপর সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় জামাত, যেখানে ইমাম হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জাকাত ফান্ড বিভাগের পরিচালক মাওলানা ওয়ালীয়ূর রহমান খান এবং মুকাব্বির হিসেবে তাঁর পেছনে দাঁড়াবেন মসজিদের প্রধান খাদেম মো. নাসির উল্লাহ।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোদের তীব্রতা যেমন বাড়বে, তেমনি বায়তুল মোকাররমের চত্বরে মুসল্লিদের ভিড়ও কানায় কানায় পূর্ণ হতে শুরু করবে। সকাল ৯টায় নির্ধারিত তৃতীয় জামাতে মিম্বরে দাঁড়াবেন ফাউন্ডেশনের সম্মানিত মুফতি মো. আবদুল্লাহ, আর তাঁর সঙ্গে মুকাব্বিরের গুরুদায়িত্বে থাকবেন মো. রুহুল আমিন। এরপর সকাল ১০টায় চারপাশের উৎসবের আমেজ যখন মধ্যগগনে, তখন চতুর্থ জামাত পরিচালনা করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের উপপরিচালক মাওলানা মোহাম্মদ নূর উদ্দীন। এই জামাতে মুকাব্বিরের চিরচেনা দায়িত্ব পালন করতে দেখা যাবে মো. আবদুল হাদীকে।
সবশেষে, যাঁরা দূর-দূরান্ত থেকে কিছুটা দেরিতে এসে পৌঁছাবেন কিংবা ভোরের ব্যস্ততা সামলে উঠতে সময় নেবেন, তাঁদের জন্য সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে পঞ্চম তথা সর্বশেষ জামাত। এই সমাপনী জামাতে ইমামতির মাধ্যমে ঈদের খুতবা পাঠ করবেন ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির ধর্মীয় প্রশিক্ষক জুবাইর আহাম্মদ আল-আযহারী এবং মুসল্লিদের কাতার সোজা রেখে মুকাব্বির হিসেবে গমগমে আওয়াজ তুলবেন মো. আমির হোসেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ হারুনূর রশীদ স্বাক্ষরিত চিঠিতে অত্যন্ত দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়ে একটি বিকল্প প্যানেলও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কোনো কারণে যদি নির্ধারিত কোনো ইমাম বা মুকাব্বির অনুপস্থিত থাকেন, তবে বিকল্প ইমাম হিসেবে ফাউন্ডেশনের সহকারী লাইব্রেরিয়ান মো. শহিদুল ইসলাম এবং বিকল্প মুকাব্বির হিসেবে মো. শামসুল হক তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব সামলাবেন।
জাতীয় মসজিদের এই সুবিশাল আয়োজনকে ঘিরে পুরো পল্টন ও প্রেসক্লাব এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যেমন নজরদারি রাখছেন, তেমনি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকেও ওজু ও সুপেয় পানির বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত হয়ে শান্তি ও সৌহার্দ্যের বার্তা ছড়িয়ে দিতে, নির্ধারিত সময়ের কিছু আগে এসে স্বাচ্ছন্দ্যে জামাতে শরিক হওয়ার জন্য ঢাকার সমস্ত ধর্মপ্রাণ ঢাকাবাসীকে বিনীত অনুরোধ জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
তথ্যসূত্র : বাসস