শরিয়াহ আইনকে ‘মধ্যযুগীয়’ বলার অভিযোগ ​স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জামায়াতের, ‘মদিনা সনদ’ নিয়ে দ্বিচারিতার সমালোচনা

 প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬, ১০:০৬ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

শরিয়াহ আইনকে ‘মধ্যযুগীয়’ বলার অভিযোগ  ​স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জামায়াতের, ‘মদিনা সনদ’ নিয়ে দ্বিচারিতার সমালোচনা

অনলাইন ডেস্ক:

​ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে ‘প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড’ দেওয়ার বিধানকে মধ্যযুগীয় আখ্যা দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের দেওয়া একটি সাম্প্রতিক বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই ধরনের মন্তব্য মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতিষ্ঠিত বিচারব্যবস্থার প্রতি চরম অবমাননার শামিল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনতিবিলম্বে তার এই বক্তব্য প্রত্যাহার করার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

​আজ শুক্রবার দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই দাবি ও উদ্বেগের কথা জানান। দেশের চলমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং অপরাধের শাস্তি নিয়ে যখন জাতীয় পর্যায়ে নানা বিতর্ক চলছে, ঠিক তখনই রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আদর্শের এই টানাপোড়েন নতুন মাত্রা যোগ করল। জামায়াত নেতার মতে, প্রকাশ্যে শাস্তির বিধানকে প্রগতিশীলতার দোহাই দিয়ে ‘মধ্যযুগীয়’ বলে উড়িয়ে দেওয়া দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধের পরিপন্থী।

​বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারকেরা প্রায়শই রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে ‘মদিনার সনদের আলোকে রাষ্ট্র পরিচালনা’ করার প্রতিশ্রুতি দেন এবং ‘ইসলামী শরিয়াহ-বিরোধী কোনো আইন প্রণয়ন না করার’ মৌখিক অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে যখনই শরিয়াহ আইনের কোনো প্রসঙ্গ আসে, তখন সেটিকে অবজ্ঞা বা হেয় প্রতিপন্ন করা হয়। জামায়াতের দাবি, সরকারের এই আচরণ তাদের আদর্শিক দেউলিয়াত্ব, সস্তা রাজনৈতিক অবস্থান এবং চরম দ্বিচারিতারই স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ। মুখে এক ও কাজে অন্য নীতি অবলম্বন করে সরকার জনগণের সাথে এক ধরনের প্রতারণা করছে বলেও বিবৃতিতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়।

​প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্য সামগ্রিকভাবে দেশের আপামর মুসলিম সমাজকে ক্ষুব্ধ ও উসকে দিয়েছে। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, রাষ্ট্রীয় দায়িত্বশীল পদে থেকে এই ধরনের স্পর্শকাতর বিষয়ে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। ইসলামী বিচারব্যবস্থাকে আধুনিক সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করানোর এই চেষ্টা দেশের ধর্মপ্রাণ নাগরিক সমাজ কোনোভাবেই মেনে নেবে না। ফলে সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তার অবস্থান পরিষ্কার করে বক্তব্যটি প্রত্যাহার করে নেওয়া উচিত বলে মনে করে দলটির হাইকমান্ড।

​রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অপরাধের শাস্তি হিসেবে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ডের মতো কঠোর বিধান কার্যকর করার বিষয়ে আধুনিক মানবাধিকার সংস্থা ও পশ্চিমা আইন ব্যবস্থার সাথে ইসলামী শরিয়াহ আইনের এক দীর্ঘকালীন তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়তো আধুনিক অপরাধবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে বক্তব্যটি রেখেছিলেন, তবে জামায়াতে ইসলামী একে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করে সরকারের কথিত ‘মদিনা সনদের’ স্লোগানকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে। শেষ পর্যন্ত এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ধর্মীয় ও আদর্শিক বিতর্ককে কতটা উসকে দেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Advertisement
Advertisement
Advertisement