জনমানুষের অধিকার ও গণতন্ত্র সুসংহতকরণে খালেদা জিয়ার অবদান কালজয়ী: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন
নিজস্ব প্রতিনিধি :
দেশের গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে এবং সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজীবন নিষ্ঠার সাথে কাজ করে গেছেন। রাজনীতিতে তার এই আপসহীন সংগ্রাম এবং দূরদর্শী নেতৃত্ব তাকে একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে ইতিহাসের পাতায় অনন্য ও কালজয়ী করে রাখবে। গতকাল শুক্রবার জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নবনির্বাচিত জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, এমপি এসব কথা বলেন। দৃশ্য মাধ্যম 'ছবির গল্প' কর্তৃক প্রকাশিত এবং মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতির স্মরণে প্রস্তুতকৃত 'দেশনেত্রী' শীর্ষক একটি বিশেষ স্মারক বর্ষপঞ্জির মোড়ক উন্মোচন উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব ও ছবির গল্পের উপদেষ্টা সম্পাদক আতিকুর রহমান রুমন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ড. আহমেদ মোস্তফা নোমান এবং ছবির গল্প'র সমন্বয়ক সাদমান সাকিব। দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিক্রমা ও বর্তমান প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে মূল আলোচক হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের বিশেষ সহকারী ও পাবনা-৫ আসনের সংসদ-সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এবং পাবনা-৪ আসনের সংসদ-সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব।
স্মারক বর্ষপঞ্জিটির নেপথ্য কারিগর হিসেবে কাজ করেছেন 'ছবির গল্প'র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধানমন্ত্রীর আলোকচিত্রী খালেদ হোসেন পরাগ। তার ক্যামেরায় ধারণকৃত ঐতিহাসিক ও দুর্লভ আলোকচিত্র এবং ছবির গল্পের পুরো টিমের গভীর লেখনীর মাধ্যমে দেশনেত্রীর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনের বিশেষ ১২টি দিক অত্যন্ত চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই প্রকাশনায়।
অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়াকে নিজের রাজনৈতিক অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব বিকাশের আলোচনায় তিনি ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থাকবেন। দেশমাতৃকার প্রতি তার ত্যাগ ও ভালোবাসার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মহাপ্রয়াণে দেশের কোটি কোটি মানুষের অশ্রুবিসর্জনই প্রমাণ করে তিনি কতটা জনমানুষের নেত্রী ছিলেন। ইতিহাসের বাঁকবদলের কথা টেনে স্পিকার আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলে বাংলাদেশের জন্ম হতো কি-না, তা নিয়ে সংশয় থেকে যায়। মহান মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের সেই ঐতিহাসিক ঘোষণার পেছনে বেগম খালেদা জিয়ার অনুপ্রেরণা ও মানসিক শক্তি এক অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছিল।
একই অনুষ্ঠানে বিগত রাজনৈতিক সংকট ও অপপ্রচারের জবাব দিতে 'ছবির গল্প: সবার আগে দেশপ্রেম' প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এক বিশেষ আয়োজন করা হয়। বিগত নব্য-বাকশালী সরকারের আমলে বর্তমান রাষ্ট্রনায়কদের নিয়ে যে ব্যাপক মিথ্যা ও নেতিবাচক প্রচার চালানো হয়েছিল, তার বিপরীতে সত্য ইতিহাস তুলে ধরতে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে 'বাংলাদেশের প্রাণ তারেক রহমান' শীর্ষক একটি তথ্যবহুল আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়, যা উপস্থিত দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মণি, এমপি দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে জিয়া পরিবারের অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্রের স্থায়ী রূপ দেওয়ার জন্য বেগম খালেদা জিয়াই প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। জিয়া পরিবারের ত্যাগকে অনন্য আখ্যায়িত করে তিনি মন্তব্য করেন, অনেকে বিভিন্ন সময় প্রবাসে রাজনৈতিক আশ্রয় নিলেও জিয়া পরিবারের সদস্যরা কখনো দেশ ছেড়ে পালাননি, তাদের কোনো নেতিবাচক প্রত্যাবর্তন নেই। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রশংসা করে তিনি বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে তারেক রহমান ও বাংলাদেশ যেন একে অপরের পরিপূরক শব্দে পরিণত হয়েছেন।
বক্তব্য পর্ব শেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ আনুষ্ঠানিকভাবে 'দেশনেত্রী' বর্ষপঞ্জির মোড়ক উন্মোচন করেন এবং এই ঐতিহাসিক দলিলটি নতুন প্রজন্মের সামনে নিয়ে আসার জন্য আলোকচিত্রী খালেদ হোসাইন পরাগসহ ছবির গল্পের পুরো টিমকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও সাধুবাদ জানান।
উক্ত অনুষ্ঠানে সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়কমন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নূরুল হক নুর, আরিফা সুলতানা রুমা, দীপিকা বিনতে হোসাইনসহ সংসদের সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ-সদস্যবৃন্দ, ছবির গল্প টিমের সদস্যবৃন্দ, আমন্ত্রিত বিশিষ্ট নাগরিকগণ এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পুরো অনুষ্ঠানটি এক আবেগঘন ও অনুপ্রেরণামূলক পরিবেশে সম্পন্ন হয়।