পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পাশে প্রধানমন্ত্রী: ঈদে ত্যাগের মহিমায় হাসবেন শহরের পরিচ্ছন্নতার কারিগররা
বিশেষ প্রতিবেদক, ঢাকা:
পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ ছড়িয়ে দিতে দেশের সবকটি সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য বিশেষ ‘ঈদ উপহার’ বা বোনাস পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উৎসবের দিনগুলোতে যখন পুরো দেশ উদযাপনে মেতে থাকে, তখন নাগরিক জীবনকে স্বস্তিদায়ক ও শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেন এই পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। ঈদের এই কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণের গুরুদায়িত্বও থাকে তাদের কাঁধে। তাদের এই নিরলস পরিশ্রম ও ত্যাগকে সম্মান জানাতে এবং তাদের ঈদকে আনন্দময় করে তুলতেই প্রধানমন্ত্রীর এই মানবিক উদ্যোগ। এর আগে গত ঈদুল ফিতরেও তিনি একইভাবে প্রতি পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে ৫ হাজার টাকা করে ঈদ উপহার পাঠিয়েছিলেন, যার ধারাবাহিকতা বজায় থাকল এবারও।
শুক্রবার এক স্নিগ্ধ সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংক্ষিপ্ত ও আন্তরিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই সেখানে উপস্থিত হয়ে দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনের মেয়র ও প্রশাসকদের কাছে এই উপহারের চেক হস্তান্তর করেন। উৎসবের আবহে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ঢাকার বাইরে থেকে আসা জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসকদের উপস্থিতি এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।
অনুষ্ঠানে সারা দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার শীর্ষ প্রতিনিধিরা অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে চেক গ্রহণ করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, উত্তর সিটির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন খুলনার প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, গাজীপুরের শওকত হোসেন সরকার, নারায়ণগঞ্জের অ্যাডভোকেট মো. সাখাওয়াত হোসেন খান, সিলেটের আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী এবং বরিশালের বিলকিস জাহান শিরীনসহ অন্যান্য সিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসকেরা। চেক হস্তান্তরের সময় প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি সিটির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সার্বিক কল্যাণের খোঁজখবর নেন এবং ঈদের দিন দ্রুত শহর পরিচ্ছন্ন করার ব্যাপারে দিকনির্দেশনা দেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই কার্যালয় পরিদর্শনের পেছনে ছিল এক চমৎকার ও সাধারণ গল্প। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন সাংবাদিকদের জানান, অন্যান্য দিনের মতো প্রটোকলের কঠোর বেড়াজালে না থেকে, ছুটির দিনে এক ভিন্ন আমেজে কার্যালয়ে আসেন প্রধানমন্ত্রী। বিকেলে নিজের বাসভবনে আসরের নামাজ আদায় করার পর তিনি কোনো গাড়ি না নিয়ে অবলীলায় পায়ে হেঁটে গুলশানের দলীয় কার্যালয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হন। প্রধানমন্ত্রীর এই সাদামাটা ও সাধারণ মানুষের মতো হেঁটে আসার দৃশ্যটি নেতাকর্মী ও সাধারণ পথচারীদের মাঝে বেশ কৌতুহল এবং উদ্দীপনার সৃষ্টি করে। কার্যালয়ে পৌঁছানোর পর তিনি সরাসরি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য আয়োজিত এই বিশেষ উপহার বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
চেক হস্তান্তর শেষে উপস্থিত মেয়র ও প্রশাসকেরা প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা বলেন, সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত ও প্রান্তিক স্তরের এই মানুষদের কথা মনে রেখে প্রধানমন্ত্রী যে উপহার পাঠিয়েছেন, তা পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজের প্রতি আগ্রহ ও মনোবল দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেবে। এই অর্থ সরাসরি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে আনন্দের সাথে ঈদুল আজহা উদযাপন করতে পারেন। ঈদের দিনগুলোতে যখন তীব্র গরম ও বর্জ্যের চাপে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দম ফেলার ফুসরত থাকে না, তখন রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায় থেকে পাওয়া এই স্বীকৃতি ও উপহার তাদের ঈদকে সত্যি অর্থেই রঙিন করে তুলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।