৫০০ মেধা বৃত্তির ঘোষণা: আইটি, কৃষি ও বিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষার নতুন দিগন্ত

 প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬, ১২:০৮ অপরাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

৫০০ মেধা বৃত্তির ঘোষণা: আইটি, কৃষি ও বিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষার নতুন দিগন্ত

দুই দেশের শিক্ষা-সেতু: বাংলাদেশে ‘পাকিস্তান নলেজ করিডোর’র যাত্রা শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলের হলরুম তখন কানায় কানায় পূর্ণ। একদিকে বাংলাদেশের কৌতূহলী মেধাবী শিক্ষার্থী, অন্যদিকে পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতিনিধিদের প্রাণবন্ত পদচারণা। প্রেক্ষাপট—শিক্ষা ও গবেষণার মেলবন্ধনে দুই দেশের দীর্ঘদিনের শীতল সম্পর্ক ছাপিয়ে এক নতুন ‘নলেজ করিডোর’ বা জ্ঞান-সেতুর উদ্বোধন।

আজ সোমবার (১১ মে) জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে পাকিস্তান সরকারের বিশেষ শিক্ষা প্রকল্প ‘নলেজ করিডোর’ এবং ‘পাকিস্তান এডুকেশন এক্সপো-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য ঘোষিত ৫০০টি পূর্ণকালীন স্কলারশিপ।

স্বপ্নের সারথি ‘আল্লামা ইকবাল স্কলারশিপ

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ‘আল্লামা মুহাম্মদ ইকবাল স্কলারশিপ’ কর্মসূচির আওতায় এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী সম্পূর্ণ বিনা খরচে পাকিস্তানের খ্যাতনামা পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাবেন। পাকিস্তান হায়ার এডুকেশন কমিশনের (এইচইসি) প্রজেক্ট ডিরেক্টর জেহানজেব খান জানান, মোট ৫০০টি বৃত্তির মধ্যে এ বছরই ১৩০ জন শিক্ষার্থীকে পাকিস্তানে পাঠানো হবে। এছাড়া মেলায় অংশ নেওয়া ২০টি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের নিজস্ব তহবিল থেকে আরও কয়েকশ বৃত্তির প্রস্তাব নিয়ে এসেছে।

কেন পাকিস্তান? আইটি ও কৃষিতে গুরুত্ব

উদ্বোধনী বক্তব্যে জেহানজেব খান বলেন, "আমাদের দুই দেশের সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাস প্রায় এক। ফলে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা সেখানে গিয়ে নিজেদের ঘরের মতোই মনে করবেন। বর্তমানে পাকিস্তানের অন্তত ৩৫টি বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বখ্যাত কিউএস র‍্যাঙ্কিংয়ে নিজেদের স্থান করে নিয়েছে। আমরা চাই বাংলাদেশের মেধাবী তরুণরা বিশেষ করে আইটি, আধুনিক কৃষি এবং বিজ্ঞানের মৌলিক বিষয়গুলোতে আমাদের দেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করুক।"

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পাকিস্তানের ডিগ্রি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং এখান থেকে পড়াশোনা শেষ করে শিক্ষার্থীরা সহজেই ইউরোপ-আমেরিকার উন্নত দেশগুলোতে উচ্চতর গবেষণার সুযোগ পান।

ঢাকার বাইরেও ছড়াবে শিক্ষার আলো

আয়োজকরা জানিয়েছেন, এই শিক্ষা মেলা কেবল ঢাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। আগামী ১০ দিনে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট ও বরিশালসহ দেশের আরও পাঁচটি প্রধান শহরে এই মেলা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে শিক্ষার্থীরা সরাসরি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে বিষয় নির্বাচন এবং ভর্তির প্রাথমিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement