তামিলনাড়ুর মসনদে ‘থালাপতি’ সূর্যোদয়: সেলুলয়েডের পর্দা পেরিয়ে এবার বাস্তবের সিংহাসনে বিজয়

 প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

তামিলনাড়ুর মসনদে ‘থালাপতি’ সূর্যোদয়: সেলুলয়েডের পর্দা পেরিয়ে এবার বাস্তবের সিংহাসনে বিজয়

​চেন্নাই থেকে বিশেষ প্রতিবেদন

​অবশেষে দক্ষিণ ভারতের রাজনীতির আকাশে জমে থাকা কালো মেঘ কেটে উঁকি দিল নতুন এক ভোরের আলো। দীর্ঘ চার দিনের টানটান উত্তেজনা, জল্পনা আর রাজনৈতিক সমীকরণের দোলাচলের অবসান ঘটিয়ে তামিলনাড়ুর মসনদে বসতে চলেছেন তামিল সিনেমার ‘থালাপতি’ বিজয়। গতকাল শনিবার রাজভবনে গিয়ে গভর্নর আরভি আরলেকারের হাতে ১২০ জন বিধায়কের সমর্থনপত্র জমা দেওয়ার মধ্য দিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন ইতিহাসের সূচনা করলেন তিনি। এর মাধ্যমে এমজিআর বা জয়ললিতার মতো রুপালি পর্দার জাদুকরী জনপ্রিয়তা নিয়ে আরও এক মহাতারকা পা রাখলেন ক্ষমতার অলিন্দে।

​সোমবারের সকালটি চেন্নাইয়ের জন্য আর পাঁচটা সাধারণ দিনের মতো ছিল না। রাজভবনের সামনে জনসমুদ্রের গর্জন আর ‘থালাপতি’ স্লোগানে প্রকম্পিত হচ্ছিল চারপাশ। যে উত্তেজনার পারদ শনিবার শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে চড়েছিল, সোমবার থেকে তা এক পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক কর্মযজ্ঞে রূপ নিতে শুরু করেছে। নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিজয় যখন মেরিনা বিচের স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যান, তখন হাজার হাজার সমর্থকের চোখে ছিল নতুন তামিলনাড়ু গড়ার স্বপ্ন। অনেকের মতে, এই দিনটি ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-র কয়েক দশকের দ্বিমুখী আধিপত্য ভাঙার এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ।

​বিজয় তথা তামিলাগা ভেট্টি কাজগাম (টিভিকে)-র এই জয়ের পথটি মোটেও মসৃণ ছিল না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভিসিকে সভাপতি থল থিরুমাভালাভানের সময়োচিত ও নিঃশর্ত সমর্থন বিজয়ের জন্য রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করেছে। রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসনের আশঙ্কাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতেই এই ঐক্যের মেলবন্ধন। সোমবার থেকে সচিবালয় ‘সেন্ট জর্জ ফোর্ট’-এ বিজয়ের উপস্থিতিকে ঘিরে কর্মকর্তাদের মাঝেও দেখা গেছে ব্যাপক চাঞ্চল্য। থালাপতি কেবল একজন অভিনেতা হিসেবে নয়, বরং একজন দূরদর্শী জননেতা হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে এখন বদ্ধপরিকর।

​সোমবারের কর্মব্যস্ত সকালে বিজয় তার প্রথম দাপ্তরিক পদক্ষেপে সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা ও রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। রাজপথের উল্লাস এখন শান্ত হয়ে প্রত্যাশার চাপে রূপান্তরিত হয়েছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থার পর তামিলনাড়ু এখন তাকিয়ে আছে তাদের প্রিয় নেতার দিকে। সেলুলয়েডের ফাইট সিকোয়েন্স কিংবা ডান্স ফ্লোরের ম্যাজিক এখন আলমারির নথিপত্রে কতটা প্রতিফলন ঘটায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে আপাতত উৎসবের আমেজ ছাপিয়ে চেন্নাইয়ের বাতাসে ভাসছে এক নতুন পরিবর্তনের ঘ্রাণ— যেখানে নায়কই এখন প্রকৃত ভাগ্যবিধাতা।

Advertisement
Advertisement
Advertisement