রাজনীতির ‘অফ-স্ক্রিন’ থেকে চিরবিদায়ের পথে দেব? বড় পর্দায় ফেরার ইঙ্গিত সুপারস্টারের
আন্তর্জাতিক ডেক্স নিউজ:
কলকাতায় রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে গিয়েছে। দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনের পর ক্ষমতাচ্যুত তৃণমূল কংগ্রেস। এই পালাবদলের সাক্ষী হয়েও টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেই নিজের পরবর্তী পদক্ষেপ স্পষ্ট করলেন টালিউডের সুপারস্টার ও সাংসদ দেব। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক গুঞ্জনের পর্দা সরিয়ে তিনি জানালেন, অভিনয়ের জগতে সম্পূর্ণ মনোযোগ ফেরাতে চান তিনি।
২০২৬ সালের এই বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়কে স্বাগত জানিয়েছেন দেব। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে লিখেছেন, “বাংলায় নতুন সরকার গঠনের জনাদেশ পাওয়ার জন্য বিজেপিকে অভিনন্দন। আমি আন্তরিকভাবে আশা করি, সরকার আমাদের রাজ্যের অগ্রগতি, শান্তি ও উন্নয়নের জন্য কাজ করবে।”
তবে কেবল রাজনৈতিক শুভেচ্ছা নয়, দেবের বার্তায় উঠে এসেছে টলিউডের অন্ধকার দিকটির কথাও। ইন্ডাস্ট্রিতে দীর্ঘদিনের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, শিল্পীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা (ব্যান) এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নিয়ে নিজের ক্ষোভ গোপন করেননি তিনি। দেবের কথায়, “ইন্ডাস্ট্রিতে আর কেউ কাউকে ‘ব্যান’ করতে পারবে না। প্রযোজকদের ওপরে নিয়মের বোঝা চাপাতে পারবে না। আমি নতুন সরকারকে আন্তরিকভাবে অনুরোধ করব, বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা ও বিভাজনের সংস্কৃতিকে অতীতের বিষয় করে তুলে ঐক্য ও শৈল্পিক স্বাধীনতার চেতনাকে সমুন্নত রাখতে।”
সাংসদ হয়েও বরাবরই নিজের দলের বৃত্তের বাইরে গিয়ে কাজ করেছেন দেব। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে মিঠুন চক্রবর্তী থেকে শুরু করে রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ কিংবা অনির্বাণ ভট্টাচার্যের মতো বিভিন্ন মতাদর্শের শিল্পীদের নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। এক সময়ে দলবদলু বা রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে ব্রাত্য হয়ে পড়া অনেককেই তিনি নিজের প্রযোজিত ও অভিনীত ছবিতে জায়গা করে দিয়েছেন। রাজনীতির এই বিষবাষ্প যে তাকে ব্যক্তিগতভাবেও আঘাত করেছে, তা তার কথাবার্তায় স্পষ্ট।
তবে এবারের পালাবদল তার কাছে কেবল রাজনৈতিক পরাজয় নয়, ব্যক্তিগত শোকের সংমিশ্রণ। একই সময়ে প্রিয় পোষ্যের বিয়োগব্যথা এবং দলের হার—সব মিলিয়ে এক অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। জল্পনা ছিল, তৃণমূল ছেড়ে দেব বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন। কিন্তু সেই সম্ভাবনাকে কার্যত উড়িয়ে দিয়ে দেব বলেন, “রাজনীতিতে আর বেশি জড়াতে চাই না। আগের মতো মন দিয়ে অভিনয়টাই করতে চাই। এটাই বরাবর করে এসেছি।”
রাজনীতিতে থাকলেও অভিনয়ের প্রতি তার দায়বদ্ধতা বরাবরই বেশি ছিল। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের মতো উন্নয়নের প্রকল্প নিয়ে তিনি নতুন সরকারের কাছে আশাবাদী। তার স্পষ্ট বার্তা, রাজনীতির ঊর্ধ্বে এটি ঘাটালের মানুষের জীবন ও জীবিকা সুরক্ষিত করার লড়াই। তবে সব মিলিয়ে দেবের এই মন্তব্যকে ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই দেখছেন তার ‘রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর’ চূড়ান্ত ইঙ্গিত হিসেবে।
ভক্ত ও অনুরাগীদের অনেকের মতে, ‘সাংসদ দেব’-এর চেয়ে ‘অভিনেতা দেব’ সবসময়ই বেশি উজ্জ্বল। দীর্ঘ এক দশকের রাজনৈতিক যাত্রা শেষে এখন ক্যামেরা আর লাইটের দুনিয়ায় ফেরার প্রস্তুতিই কি নিচ্ছেন দেব? সেই উত্তর সময়ের হাতে থাকলেও, আপাতত টলিউডের অন্দরে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন সুপারস্টার।