গদি ছাড়তে নারাজ মমতা, বরখাস্তের হুঁশিয়ারি হিমন্তের: বাংলার মসনদ নিয়ে তুঙ্গে নাটকীয়তা

 প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬, ০৯:২৪ অপরাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

গদি ছাড়তে নারাজ মমতা, বরখাস্তের হুঁশিয়ারি হিমন্তের: বাংলার মসনদ নিয়ে তুঙ্গে নাটকীয়তা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই শুরু হয়েছে নজিরবিহীন রাজনৈতিক টানাপোড়েন। টানা তিনবার ক্ষমতায় থাকার পর এবার বিজেপির কাছে ধরাশায়ী হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু হারের গ্লানি মেনে নিয়ে পদত্যাগ করতে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, এই নির্বাচনে বিজেপি ‘ম্যান্ডেট লুট’ করেছে। এই অনড় অবস্থানের প্রেক্ষিতেই এবার কড়া সুর চড়িয়েছেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি সাফ জানিয়েছেন, মমতা নিজে থেকে পদত্যাগ না করলে তাঁকে সরাসরি বরখাস্ত করা উচিত।

​মঙ্গলবার এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, পশ্চিমবঙ্গ তথা পুরো দেশ কারোর খেয়াল-খুশিমতো চলতে পারে না। জনগণের রায় মেনে না নিয়ে মমতা যে অবস্থান নিয়েছেন, তার একমাত্র সমাধান হলো রাজ্যপাল কর্তৃক তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া। মমতার পরাজয়ের দাবিকে চ্যালেঞ্জ করে হিমন্ত পাল্টা যুক্তি দেন যে, এভাবে যদি সবাই আসন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তোলে, তবে গণতন্ত্রের কোনো ভিত্তিই থাকবে না। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ দীর্ঘদিন মমতার ভুলত্রুটি সহ্য করেছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, রাজ্যপাল একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন, তারপর সাংবিধানিক ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবেন।

​এদিকে পরাজয় স্বীকার না করায় তৈরি হয়েছে এক অদ্ভুত আইনি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইস্তফা দিতে অনীহা প্রকাশ করেছেন, তবে সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে বড় কোনো সংকট তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। কারণ চলতি বিধানসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই তাঁর মুখ্যমন্ত্রিত্বের আইনি অধিকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হবে। তবে প্রথা ভেঙে ইস্তফা না দেওয়ার এই জেদ তাঁর রাজনৈতিক ভাবমূর্তিকে কালিমালিপ্ত করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

​অন্যদিকে, জয়ের পর নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত বিজেপি শিবির। বুধবার রাতেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কলকাতায় পা রাখছেন। তাঁর উপস্থিতিতেই বিজেপির পরিষদীয় দলের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে ঠিক হবে পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর নাম। রাজ্য বিজেপি সূত্রে খবর, আগামী শনিবার অর্থাৎ ৯ মে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তীর পুণ্যলগ্নেই নতুন সরকার শপথ নিতে পারে।

​শপথগ্রহণ পর্যন্ত এই অন্তর্বর্তী সময়ে রাজ্যের শাসনভার কার হাতে থাকবে, তা নিয়েও চলছে জোর আলোচনা। কলকাতা হাইকোর্টের এক অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির মতে, সাধারণত বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকেই ‘কেয়ারটেকার’ হিসেবে কাজ চালিয়ে যেতে অনুরোধ করেন রাজ্যপাল। কিন্তু মমতা রাজি না হলে রাজ্যপাল নিজেই পরিস্থিতির তত্ত্বাবধান করতে পারেন, এমনকি খুব স্বল্প সময়ের জন্য রাষ্ট্রপতি শাসনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত বাংলার এই ক্ষমতার পালাবদল কতটা মসৃণ হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

Advertisement
Advertisement
Advertisement