‘দুর্ব্যবহার’ করলে ইরানের ওপর নতুন হামলা: ট্রাম্পের সরাসরি হুঁশিয়ারি, ১৪ দফা প্রস্তাব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ
ডেক্স নিউজ:
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কঠোর সতর্কবাণী জানিয়েছেন—যদি দেশটি আবার ‘দুর্ব্যবহার’ করে তবে সামরিক হামলা চালানো হবে। ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথায় তিনি ইরানের নতুন ১৪ দফা প্রস্তাবের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, তেহরান এখন চুক্তির ‘সুনির্দিষ্ট ভাষা’ দেবে, কিন্তু তার প্রতি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে ‘আর নেই’ বলে দাবি করেও তিনি তেহরানের নেতৃত্ব নিয়ে বিভ্রান্তি তুলে ধরেছেন।
শনিবার (২ মে) ফ্লোরিডার পাম বিচে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথায় ট্রাম্প বলেন, “এটা ঘটতে পারে, এমন সম্ভাবনা আছে। তবে এখন দেখা যাক কী হয়।” তিনি দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব ভালো অবস্থানে’ রয়েছে, কারণ ইরান ‘বিধ্বস্ত’ অবস্থায়। “তারা বুঝতেই পারছে না তাদের নেতা কে। তারা জানেই না তাদের নেতা কে,” তাঁর ভাষায়। ইরানের প্রস্তাবিত ১৪ দফা পরিকল্পনায় কূটনৈতিক সমাধান ও উত্তেজনা প্রশমনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যা গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট: ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের ছায়া
এই সতর্কতা আসছে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের পর। এপ্রিল মাসে ইরান ইসরায়েলে ৩০০-এর বেশি মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়েছিল, যার জবাবে ইসরায়েল ইরানের সাইটগুলোতে প্রতিশোধমূলক আঘাত হেনেছিল। ট্রাম্প সরকার এই ঘটনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও প্রক্সি গ্রুপগুলোর (হিজবুল্লাহ, হুথি) বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই হুমকি ২০১৮-এর JCPOA (ইরান পারমাণবিক চুক্তি) থেকে বেরিয়ে আসার পরের ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতির ধারাবাহিকতা। ইরানের অর্থনীতি নিষেধাজ্ঞায় ক্ষতিগ্রস্ত, মুদ্রাস্ফীতি ৪০% ছাড়িয়েছে এবং তেল রপ্তানি অর্ধেকে নেমেছে।
ট্রাম্পের দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন
ট্রাম্পের খামেনি ‘আর নেই’ দাবি বিতর্কিত। ইরানী মিডিয়া খামেনিকে সুস্থ দেখিয়েছে এবং তাঁর বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এমন কোনো তথ্য নিশ্চিত করেনি। রয়টার্সের সূত্র জানায়, ইরানের প্রস্তাবে পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগের বদলে নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেওয়ার শর্ত আছে, যা ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করতে পারেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই আলোচনা সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমবে, কিন্তু ব্যর্থ হলে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা। ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে বিশ্বের নজর।
সূত্র: রয়টার্স, এপিএ, আল জাজিরা