​কওমি শিক্ষায় আধুনিকতার ছোঁয়া: ক্লাসরুমে ফিরছে ‘আনন্দময় শৈশব’

 প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬, ০৮:১৭ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

​কওমি শিক্ষায় আধুনিকতার ছোঁয়া: ক্লাসরুমে ফিরছে ‘আনন্দময় শৈশব’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

​রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনের চারপাশ আজ ছিল জেলা প্রশাসকদের কর্মতৎপরতায় মুখর। তবে দিনশেষে সবচেয়ে বড় চমকটি হয়ে এল শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সেশনের পর। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন শোনালেন এক পরিবর্তনের গল্প—যেখানে প্রাচীন কওমি মাদ্রাসা আর আধুনিক সাধারণ শিক্ষা মিলেমিশে একাকার হয়ে যাবে।

​শিক্ষামন্ত্রী যখন কথা বলছিলেন, তার কণ্ঠে ছিল শিক্ষার আমূল পরিবর্তনের দৃঢ় প্রত্যয়। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, কওমি মাদ্রাসাকে আর মূলধারার বাইরে রাখার সুযোগ নেই। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় এনে এসএসসি ও এইচএসসির সমমান দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মাদ্রাসা প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে চলছে সেই রূপরেখা তৈরির কাজ। উদ্দেশ্য একটাই—মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা যেন কেবল ধর্মীয় শিক্ষায় নয়, বরং আধুনিক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমান দক্ষ হয়ে গড়ে ওঠে।

​তবে আলোচনার মোড় ঘুরে যায় যখন মন্ত্রী জিপিএ-৫ পাওয়ার উন্মাদনা নিয়ে কথা বলেন। বর্তমানে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে জিপিএ নিয়ে যে ‘অসুস্থ প্রতিযোগিতা’ চলছে, তা থেকে সমাজকে বের করে আনতে জেলা প্রশাসকরা সরকারের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। মন্ত্রীও একমত হয়ে জানালেন, শিক্ষার লক্ষ্য নম্বর নয়, বরং জ্ঞান অর্জন। সেই জ্ঞান অর্জনের পথকে সহজ করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘লার্নিং উইথ জয়’ বা আনন্দের সাথে শেখার বিষয়টি এখন সরকারের প্রধান এজেন্ডা।

​মাঠপর্যায়ের চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে জেলা প্রশাসকরা মন্ত্রীর কাছে অনুযোগ করেছিলেন শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার অভাব আর পরীক্ষা কেন্দ্রের সংকটের কথা। তাদের সেই দাবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মন্ত্রী এক বিশাল প্রকল্পের ঘোষণা দেন। এখন থেকে প্রতিটি উপজেলায় নির্মিত হবে অত্যাধুনিক ‘মাল্টিপারপাস এক্সামিনেশন হল’, যা কেবল পরীক্ষার কাজেই নয়, বরং বহুমুখী প্রয়োজনে ব্যবহার করা যাবে।

​মন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এল দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার আগামীর রূপচ্ছবি। শিক্ষার্থীদের জন্য মিড-ডে মিল বা দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করা থেকে শুরু করে নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়ন—সবই এখন সময়ের ব্যাপার। মন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেন, অতীতেও এসব প্রস্তাব ছিল, কিন্তু কেউ তাতে কান দেয়নি। বর্তমান সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের ‘হানিমুন পিরিয়ড’-এর মধ্যেই ২৯টি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে, যা সরাসরি শিক্ষা ব্যবস্থার খোলনলচে বদলে দেবে।

​বিগত দিনের স্থবিরতা কাটিয়ে ডিসিদের দেওয়া প্রতিটি ‘ব্রিলিয়্যান্ট’ প্রস্তাবকে গ্রহণ করার মধ্য দিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক নতুন দিগন্তের সূচনা করতে যাচ্ছে। যেখানে স্কুলের বারান্দায় পা রাখতেই শিক্ষার্থীর মনে হবে—লেখাপড়া কোনো বোঝা নয়, বরং এক উৎসবের নাম। আর এই উৎসবের ভাগীদার হবে কওমি মাদ্রাসার সাধারণ শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি শিশু।

Advertisement
Advertisement
Advertisement