যমুনার সামনে ঝড়ে লণ্ডভণ্ড গাছ, মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলেন অটোরিকশাচালক
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
রাজধানীর আকাশে হঠাৎ জমাট বাঁধা কালো মেঘ আর ঝোড়ো হাওয়ায় মুহূর্তেই বদলে গিয়েছিল দৃশ্যপট। বিকেল সোয়া তিনটা নাগাদ যখন ধূলিঝড় আর বৃষ্টিতে চারপাশ ঝাপসা, ঠিক তখনই রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনের সড়কে ঘটল এক রুদ্ধশ্বাস কাণ্ড। রমনা পার্ক সংলগ্ন বিশাল একটি গাছ প্রচণ্ড ঝড়ে উপড়ে সরাসরি আছড়ে পড়ল চলন্ত এক সিএনজিচালিত অটোরিকশার ওপর। অল্পের জন্য নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে ফিরে এলেন অটোরিকশাচালক আব্দুল আলীম।
ফকিরাপুল থেকে যাত্রী নিয়ে ধানমন্ডির দিকে যাচ্ছিলেন আব্দুল আলীম। যমুনার সামনের মোড় অতিক্রম করার সময়ই ঘটে এই আকস্মিক দুর্ঘটনা। মড়মড় শব্দে বিশাল গাছটি গাড়ির সামনের অংশে আছড়ে পড়লে মুহূর্তেই ভেঙে চুরমার হয়ে যায় সামনের কাঁচ। চালক আলীম হাতে সামান্য আঘাত পেলেও অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যান। ঘটনার আকস্মিকতায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়া আলীম বলেন, "সবকিছু এত দ্রুত ঘটল যে বোঝার সময় পাইনি। আল্লাহ রাখলে যে কেউ মারে না, আজকে সেটার প্রমাণ পেলাম। গাড়িটা দুমড়ে-মুচড়ে গেলেও আমি বেঁচে আছি।"
এই ঘটনার পরপরই কাকরাইল মসজিদ মোড় থেকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল অভিমুখী গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিতে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। রাস্তার মাঝখানে বিশাল গাছটি পড়ে থাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, যা বৃষ্টিভেজা বিকেলে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে দেয়।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট। ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার খালেদা ইয়াসমিন জানান, তাদের কর্মীরা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে গাছটি কেটে সরিয়ে ফেলেন। প্রায় ঘণ্টাখানেকের রুদ্ধশ্বাস প্রচেষ্টার পর রাস্তা পরিষ্কার হলে আবারও সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। প্রকৃতির রুদ্ররূপ আর যান্ত্রিক শহরের ব্যস্ততার মাঝে একটি বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়ার স্বস্তি নিয়ে আবারও সচল হয় রাজধানীর এই গুরুত্বপূর্ণ পথটি।