স্বস্তিতে দেশ: টানা এক সপ্তাহ লোডশেডিংমুক্ত বাংলাদেশ

 প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬, ০৩:০৬ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

স্বস্তিতে দেশ: টানা এক সপ্তাহ লোডশেডিংমুক্ত বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

​তপ্ত রোদের দহন ছাপিয়ে প্রকৃতিতে নেমে আসা বৃষ্টি যেন আশীর্বাদ হয়ে এল দেশের বিদ্যুৎ খাতের জন্য। উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলসহ দেশের বিশাল এলাকায় ভারী বর্ষণের ফলে কৃষিজমিতে সেচের চাহিদা কমে আসায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে এসেছে নাটকীয় পরিবর্তন। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্যমতে, গত ২৭ এপ্রিল থেকে ৩ মে পর্যন্ত টানা এক সপ্তাহ দেশে কোনো লোডশেডিং হয়নি। চাহিদার বিপরীতে পর্যাপ্ত উৎপাদন থাকায় দীর্ঘ সময় পর নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের স্বাদ পাচ্ছে সাধারণ মানুষ।

​পিডিবি চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম এই সাফল্যের পেছনে একাধিক নিয়ামককে কৃতিত্ব দিয়েছেন। তিনি জানান, ছোট কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রে কারিগরি সমস্যা থাকায় মাঝখানে উৎপাদনে কিছুটা ঘাটতি দেখা দিলেও বর্তমানে সেই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী দিনগুলোতেও এই ‘শূন্য লোডশেডিং’ পরিস্থিতি বজায় রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে সংস্থাটি। তবে নিরবচ্ছিন্ন এই সেবা ধরে রাখতে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো কয়লার নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা। তেল ও গ্যাসের মজুদ সীমিত হওয়ায় বর্তমানে ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সেগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে। এরই মধ্যে পটুয়াখালীর আরএনপিএল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বাণিজ্যিক উৎপাদনে আসায় গ্রিডে বড় স্বস্তি মিলেছে, যার দ্বিতীয় ইউনিটটিও খুব শিগগিরই চালু হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

​পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির (পিজিসিবি) পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত ২৭ এপ্রিল সন্ধ্যার পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১২ হাজার ৭৯৩ মেগাওয়াট, যার পুরোটা সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে। এরপরের দিনগুলোতেও চাহিদার গ্রাফ ১১ হাজার থেকে ১২ হাজার মেগাওয়াটের ঘরে থাকলেও সরবরাহ ছিল শতভাগ। মে মাসের প্রথম তিন দিনেও এই ধারা অব্যাহত ছিল, যেখানে সর্বোচ্চ চাহিদা ১২ হাজার ৭৪৫ মেগাওয়াট পর্যন্ত পৌঁছালেও কোথাও লোডশেডিংয়ের প্রয়োজন পড়েনি।

​বিদ্যুতের এই সুসময়ের পেছনে সরকারের কৃচ্ছ্রসাধন নীতি ও কৌশলগত পদক্ষেপগুলোও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা নিষিদ্ধ করা এবং এসি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি তাপমাত্রা বজায় রাখার সরকারি নির্দেশনা গ্রাহকদের মধ্যে সাশ্রয়ী মানসিকতা তৈরি করেছে। পাশাপাশি ভারত থেকে আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎ আমদানি অব্যাহত থাকা এবং জ্বালানি আমদানিতে অগ্রাধিকার দেওয়ায় কেন্দ্রগুলো সচল রাখা সম্ভব হয়েছে।

​তবে জাতীয় পর্যায়ে লোডশেডিং না থাকলেও স্থানীয় পর্যায়ে সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ব্যাখ্যা দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের পরিচালক (কারিগরি) পরিতোষ সূত্রধর জানান, অনেক সময় গাছ কাটা, সঞ্চালন লাইন রক্ষণাবেক্ষণ কিংবা ঝড়ে তারের ওপর গাছ বা বাঁশ পড়ে কারিগরি বিভ্রাট দেখা দেয়। এগুলো মূলত রক্ষণাবেক্ষণ জনিত সাময়িক সমস্যা, যা লোডশেডিংয়ের আওতায় পড়ে না।

​সব মিলিয়ে, জ্বালানি সাশ্রয় এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বিদ্যুৎ খাতে যে স্থিতিশীলতা ফিরেছে, তা ধরে রাখাই এখন সরকারের বড় লক্ষ্য।

Advertisement
Advertisement
Advertisement