কাপ্তাইয়ের গহীন অরণ্যের ‘টাইগার বিটার্ন’ এখন বন বিভাগের হেফাজতে
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাঙ্গামাটি | মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
রাঙ্গামাটির কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানের গহীন অরণ্য থেকে পাচারের সময় উদ্ধার করা হয়েছে প্রকৃতির এক বিস্ময়—বিরল প্রজাতির ‘মালায়ন নাইট হিরন’। স্থানীয়ভাবে এটি ‘বাঘ বক’ বা ‘টাইগার বিটার্ন’ নামেও পরিচিত। মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে কাপ্তাইয়ের ব্যাঙছড়ি ঘাট এলাকায় বন বিভাগের এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে এই বিরল পাখিটি পাচারকারীদের হাত থেকে রক্ষা পায়।
অভিযানের নেপথ্যে
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মামুনুর রহমানের নেতৃত্বে বন প্রহরী ওসমান গণিসহ একটি চৌকস দল ব্যাঙছড়ি এলাকায় ওত পেতে থাকে। দুপুর ১২টার দিকে পাচারকারীরা পাখিটি নিয়ে ওই এলাকা অতিক্রম করার চেষ্টা করলে বন বিভাগের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে লোকচক্ষুর অন্তরালে পাখিটি ফেলে রেখে বনের গভীরে পালিয়ে যায় পাচারচক্র। ঘটনাস্থল থেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় বিলুপ্তপ্রায় এই পাখিটিকে।
বন্যপ্রাণের রাজকীয় অতিথি: মালায়ন নাইট হিরন
মালায়ন নাইট হিরন বা মালয় নাইট হেরন (বৈজ্ঞানিক নাম: Gorsachius \ melanolophus) দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার একটি অত্যন্ত দুর্লভ প্রজাতির বক। শরীরের ওপরের অংশে বাঘের মতো ডোরাকাটা দাগ থাকায় একে ‘টাইগার বিটার্ন’ বলা হয়। নিশাচর স্বভাবের এই পাখিটি সাধারণত পাহাড়ের গহীন অরণ্য বা জলাশয়ের ধারে নিভৃতে বিচরণ করতে পছন্দ করে। কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানের জীববৈচিত্র্যের সমৃদ্ধির কারণেই এখনো এই অঞ্চলে এদের দেখা মেলে।
বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
উদ্ধার হওয়া পাখিটি বর্তমানে বন বিভাগের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রয়েছে। রেঞ্জ কর্মকর্তা মামুনুর রহমান জানান: পাখিটি পাচারের সময় কিছুটা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল। আমরা প্রাথমিকভাবে এর চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। বর্তমানে এটি সুস্থ আছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী পাখিটিকে পুনরায় তার আপন আবাসে অর্থাৎ কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানের গহীন অরণ্যে অবমুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, বনাঞ্চল উজাড় এবং অবৈধ শিকারের কারণে এই বিশেষ প্রজাতির বক এখন বিশ্বজুড়ে হুমকির মুখে। রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ের মতো দুর্গম পাহাড়ী অঞ্চলে এখনো এদের অস্তিত্ব টিকে থাকাটা আশাব্যঞ্জক, তবে জীববৈচিত্র্য রক্ষায় স্থানীয়দের সচেতনতা এবং প্রশাসনের কঠোর নজরদারি অত্যন্ত জরুরি।