​অপেক্ষার অবসান: পৌনে চার লাখ শিক্ষকের বেতন নিয়ে সুখবর দিল মাউশি

 প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬, ০৩:০৭ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

​অপেক্ষার অবসান: পৌনে চার লাখ শিক্ষকের বেতন নিয়ে সুখবর দিল মাউশি

​নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

​ক্যালেন্ডারের পাতায় মে মাসের পাঁচ তারিখ। মাস শুরুর এই সময়টা বেসরকারি স্কুল-কলেজের পৌনে চার লাখ শিক্ষক-কর্মচারীর জন্য একরাশ অপেক্ষা আর হিসেব-নিকেশের। পরিবারের বাজার খরচ, সন্তানের স্কুলের বেতন কিংবা ঈদ-পরবর্তী ছোটখাটো দেনা মেটানোর চিন্তায় যখন অনেকেই ব্যাকুল, ঠিক তখনই মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) থেকে এল এক স্বস্তির বার্তা।

​মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে মাউশির গুরুত্বপূর্ণ একটি দপ্তরে তখন ফাইলপত্রের ব্যস্ততা। এরই মাঝে পরিচালক (অর্থ ও ক্রয়) প্রফেসর মোহাম্মদ মনির হোসেন পাটওয়ারী নিশ্চিত করলেন সেই কাঙ্ক্ষিত খবরটি—আজই অনুমোদিত হতে পারে এপ্রিল মাসের বেতন-ভাতা।

​ডিজিটাল পথ পেরিয়ে পকেটে পৌঁছাবে বেতন

​একসময় বেতন ছাড় হওয়ার জন্য শিক্ষকদের মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হতো। কিন্তু সেই পুরোনো আমল এখন অতীত। মাউশি সূত্রে জানা গেছে, আজ বিকেলের মধ্যেই অনুমোদনের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কথা। অনুমোদনের পরপরই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘আইবাস++’-এ বিলটি দৃশ্যমান হবে। সেখান থেকে দ্রুততম সময়ে প্রস্তাব চলে যাবে চিফ অ্যাকাউন্টস অফিসে।

​একজন শিক্ষক যখন ক্লাসরুমে চকের গুঁড়ো মেখে পাঠদানে ব্যস্ত থাকেন, পর্দার আড়ালে তখন তার এই শ্রমের পারিশ্রমিক নিশ্চিত করতে চলে এক বিশাল কর্মযজ্ঞ। প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা অনলাইনে বিল দাখিল করেন, যা পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই শেষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়। অর্থ মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত সবুজ সংকেত দিলেই বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পৌঁছে যায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শাখাগুলোতে।

​স্বচ্ছতার নতুন দিগন্ত

​মাউশি কর্তৃপক্ষ জানায়, বেতন দেওয়ার এই পুরো প্রক্রিয়াকে এখন সম্পূর্ণ ডিজিটাল ফ্রেমে বেঁধে ফেলা হয়েছে। এর ফলে শুধু যে গতি বেড়েছে তা নয়, বরং স্বচ্ছতাও নিশ্চিত হয়েছে কয়েক গুণ। কোনো রকম মধ্যস্বত্বভোগী বা দীর্ঘসূত্রতা ছাড়াই শিক্ষকরা তাদের ন্যায্য পাওনা বুঝে পাচ্ছেন।

​প্রফেসর মোহাম্মদ মনির হোসেন পাটওয়ারী জানান, প্রক্রিয়াটি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। চিফ অ্যাকাউন্টস অফিস থেকে অর্থ ছাড়ের নির্দেশ এলেই ব্যাংকগুলো শিক্ষকদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দেবে।

​বেসরকারি এমপিওভুক্ত এই বিশাল সংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারীর জন্য এটি কেবল একটি মাসের বেতন নয়, বরং কয়েক লাখ পরিবারের মাস শেষের হাসি। এখন শুধু অপেক্ষা ব্যাংকের মেসেজটির, যা জানান দেবে—অপেক্ষার পালা শেষ, বেতন হয়েছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement