১২ ঘণ্টায় পরিষ্কার হবে দেশ: পরিচ্ছন্ন ঈদ নিশ্চিতের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
আসন্ন ঈদুল আজহার ত্যাগের মহিমা যেন পরিচ্ছন্নতার আবহে উদ্ভাসিত হয়, সেই লক্ষ্যে এক দৃঢ় প্রতিজ্ঞার কথা জানিয়েছে সরকার। সোমবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ের কর্মব্যস্ত পরিবেশে যখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমের মুখোমুখি হলেন, তখন তার কণ্ঠে ছিল এক নতুন ও শৃঙ্খলিত বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে তিনি একগুচ্ছ যুগান্তকারী নির্দেশনার কথা তুলে ধরেন, যার মূল লক্ষ্য—কষ্টহীন ঈদযাত্রা এবং দুর্গন্ধমুক্ত পরিবেশ।
প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, কোরবানির পশুর বর্জ্য কোনোভাবেই জনজীবনে অস্বস্তি তৈরি করতে পারবে না। ঈদের দিন পশু জবাইয়ের পরবর্তী ১২ ঘণ্টার মধ্যেই সারা দেশের বর্জ্য সরিয়ে শহর ও গ্রামকে ঝকঝকে করে তুলতে হবে। স্থানীয় সরকার ও প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে যেন বর্জ্য অপসারণে কোনো প্রকার শিথিলতা না থাকে।
তবে কেবল পরিচ্ছন্নতা নয়, এবারের ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তার প্রশ্নেও সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। প্রতিবছর রেললাইন বা মহাসড়কের পাশে পশুর হাট বসানোর যে বিশৃঙ্খলা দেখা যায়, এবার তার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা যেন কোনোভাবেই থমকে না যায়, সে জন্য সড়ক ও জনপথের স্পর্শকাতর এলাকায় কোনো পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না। যাত্রীদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে মহাসড়কের পাশের ট্রমা সেন্টারগুলো সচল করার পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা হাসপাতালগুলোকে সাত দিন আগে থেকেই প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চামড়া শিল্প রক্ষায়ও নেওয়া হয়েছে কৌশলী পদক্ষেপ। মৌসুমি ব্যবসায়ীদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এবং ঢাকার বাইরের চামড়া সংরক্ষণে বিশেষ সহায়তার হাত বাড়িয়েছে সরকার। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, কোরবানির প্রথম সাত দিন ঢাকার বাইরে থেকে কোনো চামড়া রাজধানীতে প্রবেশ করবে না, যাতে স্থানীয় পর্যায়ে চামড়া লবণজাত ও সংরক্ষণ প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।
ঘরমুখো মানুষের ভিড় সামলাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি বিশেষ 'মনিটরিং সেল' গঠন করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, যা ঈদের সাত দিন আগে থেকেই সক্রিয় থাকবে। ফেরিঘাটগুলোতে যাত্রীদের ওঠানামায় কোনো ত্রুটি বা অব্যবস্থাপনা পরিলক্ষিত হলে সংশ্লিষ্ট ইজারাদার বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির লাইসেন্স বাতিলের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
একটি পরিচ্ছন্ন শহর এবং নিরাপদ যাতায়াতের নিশ্চয়তা দিয়ে সরকার চায় এবারের ঈদুল আজহা হোক আনন্দময় ও নির্বিঘ্ন। ত্যাগের আনন্দ যেন কেবল পশু কোরবানিতে সীমাবদ্ধ না থেকে নাগরিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করে, সেই প্রত্যাশাই ফুটে উঠেছে প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনায়।
আপনার সংবাদের জন্য আরও কিছু তথ্য যা যোগ করা যেতে পারে-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়ন: সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাগুলো এখন পচনশীল বর্জ্য দ্রুত অপসারণের জন্য বিশেষ ব্লিচিং পাউডার ও স্যাভলন মিশ্রিত পানি ব্যবহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অনেক এলাকায় পলিথিন ব্যাগ সরবরাহ করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
অনলাইন হাট ও ডিজিটাল পেমেন্ট: গরু চোর বা ছিনতাই রোধে এবং হাটের ভিড় কমাতে সরকার প্রান্তিক খামারিদের অনলাইন হাটে যুক্ত হতে উৎসাহিত করছে। 'স্মার্ট হাট' প্রকল্পের আওতায় অনেক হাটে ক্যাশলেস লেনদেনের সুবিধাও রাখা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি: প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ও হাটে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প এবং সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে কড়া নজরদারি চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।