মৈত্রীর নতুন দিগন্ত: বাংলাদেশ-আলজেরিয়া সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়

 প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬, ০৯:২০ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

মৈত্রীর নতুন দিগন্ত: বাংলাদেশ-আলজেরিয়া সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়

​ঢাকা, ৩ মে ২০২৬

​রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনের আবহে আজ ফুটে উঠল দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের এক পলিটিক্যাল এবং ডিপ্লোম্যাটিক কোলাজ। আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত ড. আব্দেলুয়াহাব সাইদানি যখন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন, তখন কেবল সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, বরং এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হয়। তাদের করমর্দন যেন মনে করিয়ে দিচ্ছিল সেই ঐতিহাসিক দিনগুলোর কথা, যখন থেকে বাংলাদেশ ও আলজেরিয়া একে অপরের বিপদে-আপদে ছায়ার মতো পাশে থেকেছে।

​আলোচনার শুরুতেই স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এক আবেগঘন ও সংকল্পবদ্ধ ভবিষ্যতের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বিশ্বাস করেন, দুই দেশের মানুষের আত্মার যে টান, সেই সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনই হবে আগামী দিনের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অগ্রযাত্রার মূল জ্বালানি। বিশেষ করে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে আলজেরিয়া সরকার যে অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়েছে, তাকে তিনি এক নতুন উচ্চতার মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন।

​কথার পিঠে কথা যখন এগোয়, তখন অবধারিতভাবেই উঠে আসে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রক্তক্ষয়ী অথচ গৌরবোজ্জ্বল বিপ্লবের কথা। স্পিকার গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন ছাত্র-জনতার সেই আন্দোলনকে, যা দীর্ঘ ১৬ বছরের দুঃশাসনের অবসান ঘটিয়েছে। তিনি তুলে ধরেন সেই লড়াইয়ের কথা, যেখানে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মত্যাগ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথকে প্রশস্ত করেছিল। স্পিকারের কণ্ঠে ছিল দৃঢ় প্রত্যয় যে, সাম্প্রতিক অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে এ দেশের মানুষ তাদের হারানো ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে, আর এটাই বাংলাদেশের আগামীর সোনালী দিনগুলোর ভিত্তি।

​রাষ্ট্রদূত ড. আব্দেলুয়াহাব সাইদানিও কম যাননি প্রশংসায়। তিনি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। তবে আলোচনার মোড় কেবল রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি; রাষ্ট্রদূত আলজেরিয়ার আগ্রহের ঝুলি খুলে ধরেন। তিনি জানান, আলজেরিয়া এখন বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের গুণগত মান, জাহাজ নির্মাণ শিল্পের সক্ষমতা এবং কারিগরি শিক্ষার প্রতি গভীরভাবে আগ্রহী। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দুই দেশের সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়েও সেখানে ইতিবাচক সুর প্রতিধ্বনিত হয়।

​বৈঠকের এক পর্যায়ে স্পিকার গুরুত্বারোপ করেন সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সফর বিনিময়ের ওপর। তিনি মনে করেন, কেবল সরকারি পর্যায়ে নয়, বরং দুই দেশের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে যদি নিয়মিত সংলাপ হয়, তবে কূটনৈতিক সম্পর্কের ভিত আরও মজবুত হবে। অনুষ্ঠানের শেষভাগে আলজেরিয়া দূতাবাসের প্রতিনিধিদল এবং সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

​বিদায় বেলায় দুই নেতার চোখেমুখেই ছিল এক তৃপ্তির হাসি। সেই হাসিতে যেন মিশে ছিল এক অমোঘ বার্তা—ভূগোল আমাদের দূরে রাখলেও, আদর্শ আর উন্নয়নের স্বপ্নে বাংলাদেশ ও আলজেরিয়া আজ একে অপরের অবিচ্ছেদ্য সারথী। দুই দেশের এই যৌথ অগ্রযাত্রা কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র।

Advertisement
Advertisement
Advertisement