গাবতলীতে তারেক রহমানের জনসভা থেকে ঘোষণা: সরকারি হচ্ছে ‘শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ’
নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া | ৩ মে, ২০২৬
বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী এলাকায় এখন উৎসবের আমেজ। বাতাসে ভাসছে আনন্দের গুঞ্জন। কারণটি কেবল প্রশাসনিক কোনো সিদ্ধান্ত নয়, বরং এলাকাবাসীর কাছে এটি নেতার দেওয়া ‘কথা’ রাখার গল্প। গত ২০ এপ্রিল গাবতলীর মাটিতে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, মাত্র ১৩ দিনের মাথায় তা বাস্তবে রূপ নিলো। সরকারি হতে যাচ্ছে ‘শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ’।
মাঠের দাবি যখন প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা
গত ২০ এপ্রিল বাগবাড়ীর এই কলেজ মাঠেই আয়োজিত হয়েছিল এক বিশাল জনসভা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন মঞ্চে উঠলেন, তখন হাজারো স্থানীয় জনতা ব্যানার-ফেস্টুন হাতে সমস্বরে দাবি তোলেন কলেজটি জাতীয়করণের। স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে আকাশ-বাতাস। জনতার সেই স্বতঃস্ফূর্ত আবেগ দেখে প্রধানমন্ত্রী আর দেরি করেননি। মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়িয়ে হাসিমুখে ঘোষণা করেন— ‘আপনাদের দাবি এই কলেজ সরকারি করতে হবে? যান, হয়ে গেল। এই কলেজ সরকারি ঘোষণা হয়ে যাবে, কাগজ পৌঁছে যাবে।’ সেই ঘোষণার রেশ কাটতে না কাটতেই আজ রোববার (৩ মে) প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে জানানো হলো, কলেজটি সরকারি করার সব প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে। গত ২৯ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত পরিপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
উচ্চশিক্ষার নতুন দিগন্ত
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্মভিটা হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে এটি একটি মাইলফলক। পরিপত্রে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সানুগ্রহ সম্মতির পরিপ্রেক্ষিতেই কলেজটি সরকারিকরণের কাজ শুরু হয়েছে। এর ফলে এলাকার সাধারণ ঘরের মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পথ যেমন সহজ হবে, তেমনি খরচও কমবে উল্লেখযোগ্য হারে।
পরবর্তী পদক্ষেপ ও প্রশাসনিক নির্দেশনা
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে দ্রুততার সঙ্গে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:
প্রতিষ্ঠানের সকল স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ হস্তান্তরের ওপর নিষেধাজ্ঞা।নতুন করে কোনো শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ না দেওয়া।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক সরেজমিন পরিদর্শন ও আইনি জটিলতা খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রতিবেদন দাখিল।
এলাকাবাসীর প্রতিক্রিয়া
স্থানীয়রা বলছেন, তারা জানতেন তাদের নেতা কথা দিয়ে কথা রাখেন, কিন্তু এতো দ্রুত কাগজের নির্দেশনা চলে আসবে তা ছিল কল্পনার বাইরে। বাগবাড়ীর এক প্রবীণ বাসিন্দা আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, "শহীদ জিয়ার মাটিতে শিক্ষা বিস্তারের এই উদ্যোগ এলাকার মানুষের জন্য বড় পাওয়া। প্রধানমন্ত্রী আমাদের হৃদস্পন্দন বুঝতে পেরেছেন।"
প্রধানমন্ত্রীর এই ঝটিকা সিদ্ধান্তে শুধু গাবতলী নয়, গোটা বগুড়াজুড়ে বইছে ইতিবাচক হাওয়া। ‘শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ’ এখন কেবল একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং নেতার দেওয়া ওয়াদা ও জনগণের ভালোবাসার এক অনন্য স্মারক।