টাঙ্গাইলে ধারালো অস্ত্রসহ ৪ দুর্ধর্ষ ডাকাত গ্রেফতার, নেপথ্যে বড় ছক
নিজস্ব প্রতিবেদক, টাঙ্গাইল
রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে এক বড় ধরনের ডাকাতির ছক কষেছিল আন্তঃজেলা ডাকাত দলের একদল সদস্য। দেশীয় ধারালো অস্ত্র আর তালা কাটার আধুনিক সরঞ্জাম নিয়ে তাদের প্রস্তুতি যখন চূড়ান্ত, ঠিক তখনই হানা দেয় পুলিশ। সোমবার (৪ মে) মধ্যরাতে ভূঞাপুর পৌর শহরের ঘাটান্দি এলাকায় পরিচালিত এই ঝটিকা অভিযানে ধরা পড়ে ডাকাত দলের চার দুর্ধর্ষ সদস্য। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অন্ধকারে গা-ঢাকা দেয় তাদের আরও কয়েকজন সঙ্গী।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃতরা হলেন—গোপালপুরের রবিউল, ভূঞাপুরের ‘ন্যাংড়া মনির’, এবং কালিহাতীর শাহ আলম ও মাসুদ। এই চারজনের বিরুদ্ধেই দেশের বিভিন্ন জেলায় হত্যা, মাদক ও ডাকাতির একাধিক মামলা রয়েছে। তারা প্রত্যেকেই পেশাদার অপরাধী হিসেবে পুলিশের তালিকায় দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ।
অভিযান চলাকালে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে আতঙ্ক ছড়ানোর মতো বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র ও সরঞ্জাম। এর মধ্যে রয়েছে বিশাল চাপাতি, সুইচ গিয়ার চাকু, তালা কাটার লোহার কাটার ও কাটিং প্লায়ার্স। এছাড়া গৃহকর্তাকে বেঁধে রাখার জন্য সাথে ছিল মোটা লোহার শিকল ও কাঁচি। এসব সরঞ্জামের ধরন দেখে পুলিশের ধারণা, তারা কোনো বড় বাড়িতে বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হানা দেওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়ে সেখানে জড়ো হয়েছিল।
ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাব্বির রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন ঘাটান্দি এলাকায় একটি অশুভ চক্র জড়ো হয়েছে। পুলিশের একটি চৌকস দল দ্রুত ঘটনাস্থল ঘিরে ফেললে চারজন হাতেনাতে ধরা পড়ে। কিন্তু অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে দলের বাকি সদস্যরা কৌশলে পালিয়ে যায়।
ওসি আরও যোগ করেন, "গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা দায়ের করে ইতিমধ্যে আদালতে পাঠানো হয়েছে। যারা পালিয়ে গেছে, তাদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে এবং তাদের ধরতে চিরুনি অভিযান অব্যাহত আছে। জননিরাপত্তা রক্ষায় এমন অভিযান নিয়মিত চলবে।"
টাঙ্গাইলের এই অভিযানে সাধারণ মানুষের মধ্যে যেমন স্বস্তি ফিরেছে, তেমনি পলাতক ডাকাতদের আতঙ্কে গ্রামবাসী ও ব্যবসায়ীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।