দেশে কোরবানিযোগ্য পশুর সংকট নেই, উদ্বৃত্ত থাকবে ২২ লাখের বেশি --- মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

 প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬, ০৮:৪৫ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

দেশে কোরবানিযোগ্য পশুর সংকট নেই, উদ্বৃত্ত থাকবে ২২ লাখের বেশি       --- মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

ঢাকা, ২০ বৈশাখ (৩ মে):

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে  দেশে কোরবানিযোগ্য পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। এ বছর সম্ভাব্য চাহিদার বিপরীতে প্রায় ২২ লাখের বেশি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে, ফলে কোরবানি পশুর কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই।

মন্ত্রী আজ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন উপলক্ষ্যে কোরবানির পশুর চাহিদা নিরূপণ, সরবরাহ এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কোরবানির পশুর অবাধ চলাচল ও পরিবহন পরিস্থিতি বিষয়ক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, এ বছর কোরবানির জন্য দেশে পশুর সম্ভাব্য চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি। এর বিপরীতে দেশে প্রাপ্যতা রয়েছে ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি পশু। সে হিসাবে প্রায় ২২ লাখ ২৭ হাজার ৫০৬টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। এবার কোরবানিযোগ্য ৫৬ লাখ ৯৫ হাজার ৮৭৮টি গরু-মহিষ, ৬৬ লাখ ৩২ হাজার ৩০৭টি ছাগল-ভেড়া ও ৫ হাজার ৬৫৫টি অন্যান্য প্রজাতির প্রাণীর প্রাপ্যতা রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, সারা দেশে ৩ হাজার ৬০০টির বেশি পশুর হাট বসবে। রাজধানী ঢাকায় উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ১৬টি এবং দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ১১টিসহ মোট ২৭টি হাট নির্ধারণ করা হয়েছে; এসব হাটে ২০টি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম দায়িত্ব পালন করবে। কোরবানির পশুবাহী ট্রাকে চাঁদাবাজি বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে থাকবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, হাট এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বক্ষণিক তৎপর থাকবে। প্রয়োজন অনুযায়ী সাদা পোশাকেও সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।

দেশীয় খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় সীমান্তবর্তী পশুর হাট বন্ধের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, অতীতে সীমান্তঘেঁষা কিছু হাটের মাধ্যমে বিদেশি পশু এনে দেশীয় খামারিদের ক্ষতি করা হয়েছে। এ পরিস্থিতি বন্ধে বর্ডার এলাকায় হাট না বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, অনলাইনে পশু বিক্রি হবে এবারও। এর জন্য কোনো খাজনা বা হাসিল নেওয়া হবে না। এছাড়া কোরবানির চামড়া সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য পেশাদার ও অপেশাদার কসাই এবং কর্মীকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেন চামড়া নষ্ট না হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন  মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু,  মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ দেলোয়ার হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ শাহজামান খানসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। 

Advertisement
Advertisement
Advertisement