গোপন সফর, তীব্র কটাক্ষ: আফ্রিকায় লাই চিং-তে—চীনের ‘ইঁদুর’ মন্তব্যে নতুন উত্তেজনা
ডেক্স নিউজ:
দূর আফ্রিকার ছোট্ট রাজ্য Eswatini-এর আকাশে তখন বিকেলের আলো নরম হয়ে এসেছে। রাজপ্রাসাদের সামনে সাজানো লাল গালিচা। সেই মুহূর্তে নীরবে অবতরণ করলেন Lai Ching-te—একটি সফর, যার খবর বিশ্ব জানতে পারল তিনি পৌঁছানোর পর।
এই সফর শুধু আনুষ্ঠানিক ছিল না; ছিল এক ধরনের কূটনৈতিক বার্তা—“আমরা আছি, এবং থাকব।” এটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন China ও Taiwan-এর সম্পর্ক আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি উত্তেজনাপূর্ণ। চীন দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ানকে নিজের ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসছে এবং “One China Policy”-এর মাধ্যমে বিশ্বকে চাপ দিয়ে আসছে যাতে কেউ তাইওয়ানকে আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি না দেয়।
গোপন সফরের কৌশল
লাই চিং-তের এই সফর আগেভাগে ঘোষণা করা হয়নি। কারণ অতীতে তার বিদেশ সফর নানা বাধার মুখে পড়েছিল—বিশেষ করে আকাশপথ ব্যবহার নিয়ে। তাইওয়ানের ধারণা, এসব বাধার পেছনে বেইজিংয়ের কূটনৈতিক চাপ ছিল।এইবার তাই কৌশল বদল। নিঃশব্দে যাত্রা, হঠাৎ উপস্থিতি—যেন এক দাবার চাল।
কেন ইসোয়াতিনি এত গুরুত্বপূর্ণ?
আফ্রিকা মহাদেশে Eswatini-ই একমাত্র দেশ, যে এখনো তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে। রাজা Mswati III-এর শাসনের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই সফর হলেও এর গুরুত্ব অনেক গভীর।
কারণ বাস্তবতা হলো—গত কয়েক দশকে তাইওয়ানের কূটনৈতিক মিত্রের সংখ্যা কমে গেছে। অনেক দেশ চীনের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে তাইওয়ান থেকে সরে এসেছে।
কেন ‘ইঁদুর’ বলা হলো?
চীনের প্রতিক্রিয়া ছিল অস্বাভাবিকভাবে তীব্র। তাদের তাইওয়ানবিষয়ক দপ্তর লাই চিং-তেকে “ইঁদুরের মতো লুকিয়ে চলাফেরা করা ব্যক্তি” বলে মন্তব্য করে।
এই শব্দচয়ন কেবল অপমান নয়, বরং একটি রাজনৈতিক বার্তা:
সফরটি গোপনে হওয়ায় চীন এটিকে “লুকিয়ে কাজ করা” হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছেতাইওয়ানের আন্তর্জাতিক উপস্থিতিকে ছোট করে দেখানোর চেষ্টা অন্য দেশগুলোকে সতর্ক করা—তাইওয়ানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ালে চীনের বিরোধিতার মুখে পড়তে হতে পারে
পাল্টা জবাব ও অবস্থান:
তাইওয়ান অবশ্য চুপ থাকেনি। তাদের মূল ভূখণ্ড বিষয়ক পরিষদ স্পষ্ট জানায়—একজন প্রেসিডেন্ট কোথায় যাবেন, তা নির্ধারণের অধিকার শুধুই তার দেশের জনগণের। এই বক্তব্যের মধ্যেই লুকিয়ে আছে তাইওয়ানের বড় বার্তা— তারা নিজেদের স্বাধীন রাজনৈতিক সত্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে বদ্ধপরিকর।
বড় প্রেক্ষাপট: শক্তির রাজনীতি
এই ঘটনাটি আলাদা কিছু নয়; বরং বৃহত্তর চীন-তাইওয়ান দ্বন্দ্বেরই অংশ। বিশ্ব রাজনীতিতে এখন শক্তির প্রভাব, কূটনৈতিক চাপ এবং কৌশলগত জোট—সব মিলিয়ে জটিল এক সমীকরণ। United States-সহ কয়েকটি শক্তিশালী দেশ তাইওয়ানের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক সম্পর্ক বজায় রাখলেও সরাসরি স্বীকৃতি দিতে সতর্ক থাকে—চীনের প্রতিক্রিয়ার ভয়ে।