কোরবানির পশুর পর্যাপ্ত জোগান: চাহিদার চেয়ে ২২ লাখ বেশি পশুর মজুত, অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে সীমান্তে কঠোর নজরদারি
স্টাফ রিপোর্টার: আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা ২০২৬ উপলক্ষে দেশে কোরবানির পশুর কোনো সংকট হবে না বলে নিশ্চিত করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী। রোববার (৩ মে) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, দেশীয় খামারিদের নিরলস প্রচেষ্টায় এ বছর কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর সংখ্যা ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টিতে দাঁড়িয়েছে, যেখানে সারা দেশের পশুর সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় ২২ লাখ ২৭ হাজার ৫০৬টি গবাদিপশু উদ্বৃত্ত থাকবে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি।
উদ্বৃত্ত পশুর এই বিশাল মজুত থাকার ফলে কোরবানির পশুর বাজার স্থিতিশীল থাকবে এবং সাধারণ ক্রেতাদের জন্য পশু কেনা সহজতর হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী। সীমান্তে অবৈধভাবে কোনো গবাদিপশু যাতে দেশে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে তিনি জানান। বিজিবি ও পুলিশের সমন্বয়ে সীমান্তে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বরদাস্ত করা হবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
ঈদকে কেন্দ্র করে পশুর হাট ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের জানমালের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। হাটে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পশু কেনাবেচাকে উৎসাহিত করতে বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে, যার ফলে অনলাইনে গরু-ছাগল কিনলে কোনো প্রকার খাজনা বা হাসিল প্রদান করতে হবে না। পশুর হাটে বা পরিবহনকালে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে এবং চাঁদাবাজদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ অভিযান শুরু করেছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, হাটে ও সড়কে হয়রানিমুক্ত পরিবেশে পশু কেনাবেচা ও পরিবহন নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বাত্মক সজাগ রয়েছে।