লিচু চাষ পদ্ধতি ও রোগ বালাই
লিচু গন্ধ ও স্বাদের জন্য
দেশ-বিদেশে বেশ জনপ্রিয়। বৃহত্তর রাজশাহী, দিনাজপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, পাবনা,
ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম জেলায় বেশি পরিমাণে লিচু উৎপন্ন হয়। বাংলাদেশে বর্তমানে
লিচুর মোট উৎপাদন ৫৫ হাজার টন। লিচু টিনজাত করে সংরক্ষণ করা যায়।
পুষ্টিমাণ
প্রতি ১০০ গ্রাম লিচুর
পুষ্টি উপাদান পরিমাণ জলীয় অংশ ৮৪.১ গ্রাম, খনিজ পদার্থ ০.৫ গ্রাম, আঁশ ০.৫ গ্রাম,
খাদ্য শক্তি ৬১ কিলোক্যালরি, আমিষ ১.১ গ্রাম, চর্বি ০.২ গ্রাম, শ্বেতসার ১৩.৬
গ্রাম, ক্যালসিয়াম ১০ মিলিগ্রাম, আয়রন ০.৭ মিলিগ্রাম, ভিটামিন-বি-১ ০.০২ মিলিগ্রাম,
ভিটামিন-বি-২ ০.০৬ মিলিগ্রাম, ভিটামিন-সি ৩১ মিলিগ্রাম।
ঔষধিগুণ
বোলতা, বিছে এসব কামড়ালে
লিচুর পাতার রস ব্যবহার আমাদের লোকায়ত চিকিৎসার অনেক পুরনো পদ্ধতি। কাশি,
পেটব্যথা, টিউমার এবং গ্যান্ডের বৃদ্ধি কমাতে লিচু ফল কার্যকর। চর্মরোগের ব্যথায়
লিচুবীজ ব্যবহার করা হয়। পানিতে সিদ্ধ লিচুর শেকড়, বাকল ও ফুল গলার ঘা সারায়। কচি
লিচু শিশুদের বসন্ত রোগে এবং বীজ অম্ল ও স্নায়ুবিক যন্ত্রণার ঔষধ হিসেবে ব্যবহার
করা হয়। বাকল ও শেকড়ের ক্বাথ গরম পানিসহ কুলি করলে গলার কষ্ট দূর হয়।
চাষ প্রধান এলাকা
বৃহত্তর রাজশাহী,
দিনাজপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা, কুষ্টিয়া, যশোর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও পাবনার
ঈশ্বরদীতে অধিক পরিমাণে লিচু চাষ হচ্ছে।
জাত
অনেক জাতের লিচুর মধ্যে
বেদানা, গুটি, মাদ্রাজি, বোম্বাই, মঙ্গলবাড়ী, মোজাফফরপুরী, চায়না-৩, কদমী সবচেয়ে
ভালো। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) লিচুর জাত উদ্ভাবিত করেছে বারি
লিচু-১, বারি লিচু-২ ও বারি লিচু-৩ বারি লিচু-৪, বারি লিচু-৫।
লিচুর জাত
বারি লিচু-১: ‘বারি লিচু-১’ উচ্চফলনশীল জাতটি চাষের জন্য ১৯৯৬ সালে অনুমোদন করা
হয়। এটি একটি আগাম জাত। স্থানীয় জার্মপ্লাজম থেকে বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জাতটি
উদ্ভাবন করা হয়। ফল ডিম্বাকার এবং লাল। ফলের ওজন প্রায় ১৮-২০ গ্রাম, দৈর্ঘ্য ৩.৫
সেমি. এবং প্রস্থ ৩.১ সেমি. হয়ে থাকে। ফলের ভক্ষণ যোগ্য অংশ ৬৫.৩% প্রতি গাছে ৮-১০
হাজার ফল উৎপাদিত হতে পারে। হেক্টরপ্রতি ফলন ১০-১২ টন। সাধারণত মধ্য-মাঘ মাসে
(জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ) কুঁড়ি আসতে শুরু করে এবং মধ্য-জ্যৈষ্ঠ (মে) মাসের শেষ
সপ্তাহের মধ্যে ফল আহরণ শেষ হয়ে যায়। দেশের উত্তরাঞ্চলে এ জাতটি চাষের জন্য বিশেষ
উপযোগী।
বারি লিচু-২
‘বারি লিচু-২’ নামে
উচ্চফলনশীল নাবী জাতটি বাংলাদেশে ১৯৯৬ সালে অনুমোদন করা হয়। গাছের আকৃতি মাঝারি।
পাতা বর্শাকৃতির, পুষ্পমঞ্জরি পিরামিড আকৃতির ও ফল গোলাকার। ফলে গড় আকৃতি ৩.৪
সেমি. এবং প্রস্থ ৩.০ সেমি। পাকা ফলের রং গোলাপী লাল। প্রতিটি ফলের ওজন ১৪-১৭
গ্রাম, ফলের শাঁস মাংসল, রসালো, মিষ্টি (ব্রিক্সমান ১৬.১%) এবং শাঁস ফলের ৬৫-৭০%।
বীজ অপেক্ষাকৃত বড়। প্রতি বছর নিয়মিত ফল দেয়। ফুল মাঘের মাঝামাঝি (ফেব্রুয়ারি
প্রথম সপ্তাহ) সময়ে আসে। জ্যৈষ্ঠের (জুন প্রথম সপ্তাহ) শেষ থেকে আষাঢ়ের প্রথম
সপ্তাহে (মধ্য-জুন) ফল পাকে। পূর্ণ বয়স্ক প্রতিটি গাছের ফলের সংখ্যা ২৩০০-২৭০০টি।
হেক্টরপ্রতি ফলন ৫-৬ টন।
জাতটি বাংলাদেশের
পূর্বাঞ্চলে চাষের উপযোগী। লিচু উৎপাদনের মৌসুম খুবই সংক্ষিপ্ত । তাই লিচুর উৎপাদন
মৌসুমকে দীর্ঘায়িত করার জন্য গুরুত্বসহকারে জাতটি প্রবর্তন করা হয়েছে।
বারি লিচু-৩
‘বারি লিচু-৩’ জাতটি
বিদেশ হতে সংগৃহীত জার্মপ্লাজম থেকে বাছাই প্রক্রিয়ার মাধমে নির্বাচন করে ১৯৯৬
সালে মুক্তায়ন করা হয়। ‘বারি লিচু-৩’ মাঝ মৌসুমি জাত, নিয়মিত ফল ধরে। গোলাপের
সুঘ্রাণ বিশিষ্ট অপেক্ষাকৃত বৃহদাকার ফল উৎপাদনকারী এ জাতটি বসতবাড়ির জন্য উপযোগী।
গাছের আকৃতি মাঝারি। পাতা
খর্বাকার বর্শাকৃতির হয়। পুষ্পমঞ্জরি পিরামিড আকৃতির, ফল হৃৎপিন্ডাকার হয়। ফলের
আকৃতি দৈর্ঘ্য ৩ সেমি ও প্রস্থ ৩.৩ সেমি। পাকলে হলদে সবুজ ছোপসহ লাল রং ধারণ করে।
ফলের ওজন ১৭-১৯ গ্রাম। ফলের শাঁস মাংসল রসালো ও খুব মিষ্টি (বিক্সমান ১৯%)।
শাঁস ফলের ৭৫-৭৭%, বীজ
ক্ষুদ্রাকার এবং মাঘের মাঝামাঝি (ফেব্রুয়ারি) সময় ফুল আসে এবং জ্যৈষ্ঠের মাঝামাঝী
(জুন) সময় ফল পাকে। প্রতিটি গাছের ফলের সংখ্যা ১৬০০-২০০০টি এবং হেক্টরপ্রতি ফলন
৫-৬ টন জাতটি বাংলাদেশের সর্বত্রই চাষের উপযোগী।
বারি লিচু-৪
‘বারি লিচু-৪’ জাতটি
বাংলাদেশে চাষের জন্য ২০০৮ সালে অনুমোদন করা হয়। এটি একটি মাঝ মৌসুমি জাত।
ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে ফুল আসে এবং জুন মাসে ফল পরিপক্বতা লাভ করে। গাছ
প্রতি ফলের সংখ্যা ৫০০০টি।
ইহা একটি উচ্চফলনশীল
উন্নত গুনগত মানসম্পন্ন জাত। গাছপ্রতি ফলন ১৩০ কেজি এবং হেক্টরপ্রতি ফলন ১০-১২ টন।
বৃহদাকার ও গাঢ় লাল বর্ণের প্রতিটি ফলের গড় ওজন ২৭ গ্রাম। ফল অতি ক্ষুদ্র বীজ
সম্পন্ন ও মাংসল। ফল অত্যন্ত মিষ্টি (বিক্সমান ২২%), রসালো ও সুগন্ধযুক্ত। ফলের
খাদ্যেপযোগী অংশ ৭৮%। জাতটি বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর পশ্চিমাঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে
চাষের জন্য উপযোগী।
বারি লিচু-৫
উচ্চফলনশীল নাবি জাত।
প্রতি বছর ফল ধরে। ১৫ বছর বয়সের প্রতিটি গাছে ৩৪০০টি ফল ধরে যার ওজন ৭৩.৮ কেজি। ফল
খুব মিষ্টি (টিএসএস ১৭.৫%)। ফল মাঝারি আকৃতির এবং গড় ওজন ২১.৭৯ গ্রাম। ফল ওভাল
আকৃতির এবং পাকা অর গাঢ় লাল রঙের হয়ে থাকে ফল সংগ্রহের উপযুক্ত সময় হল জুনের ৩য়
সপ্তাহ। ফলের শাঁস গাঢ় সাদা রঙের হয়ে থাকে। ফলের খাদ্যপযোগী অংশ শতকরা ৭০ ভাগ।
বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলের জন্য উপযোগী। এ জাতের লিচুতে উল্লেখযোগ্য কোন রোগবালাই ও
পোকামাকড় আক্রমণ হয় না।
চায়না-৩
সবচেয়ে ভালো জাত চায়না-৩
এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে অধিক চাষ হয়। গাছ ছোট থেকে মাঝারি আকারের। প্রতি বছরই বা
নিয়মিতভাবে গাছে ফল ধরেনা।
ফল : মোটামুটি গোলাকার এবং গড় ওজন ২৫ গ্রাম । বীজ : বীজ খুব ছোট,
মসৃণ ও চকচকে । প্রতিটি বীজের গড় ওজন ১.৫ গ্রাম।
পাকা ফলের রং : পুরোপুরি লাল হয় না। লালের মধ্যে কমলা রঙের ছাপ থাকে। শাঁস:
ক্রীম সাদা, শাঁসে প্রায় শতকরা ১২ ভাগ চিনি ও ০.৩৫ ভাগ এসিড থাকে । স্বাদ: অত্যন্ত
মিষ্টি, রসাল, নরম, সুগন্ধযুক্ত ও পুরু । শাঁস ও বীজের অনুপাত: ১৪:১ ।
সুবিধা-অসুবিধা : এ জাতের ফল রোদে কম ঝলসায় ও ফেটে যাবার পরিমাণ কম। এ জাতের
গুটি কলমের চারা বেশ দুর্বল হওয়ায় বেশি যত্নের দরকার হয়।
বোম্বাই
যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলে এ
জাতের চাষ বেশি দেখা যায়। গাছ বেশ বড়, বাড়ন্ত ও নিয়মিত ফল ধরে। চায়না-৩ জাত
অপেক্ষা ফলও বেশি ধরে।
ফল : ফল মোটামুটি হৃৎপিণ্ডাকার। ফল মাঝারি আকারের এবং প্রতিটি ফলের
ওজন ১০ থেকে ২০ গ্রাম। বীজ : আকারে বড়। প্রতিটির গড় ওজন প্রায় ২.৫ থেকে ৩.৫
গ্রাম।
পাকা ফলের রং : ফল পাকলে খোসার কাটাগুলো লাল রং ধারণ করে। শাঁস: ধূসর সাদা,
মোলায়েম, রসালো, সুগন্ধযুক্ত এবং মৃদু টকযুক্ত মিষ্টি স্বাদের। শাঁসে প্রায় ১১%
চিনি ও ০.৪৫% এসিড থাকে। চায়না-৩ জাতের চেয়ে এ জাতের ফলে শাঁস থাকে কম । শাঁস ও
বীজের অনুপাত: ৫.৫:১। সুবিধা: এ জাতের লিচু সংরক্ষণের জন্য ভাল। এ ছাড়া গুটিকলমের
মাধ্যমে সহজেই এ জাতের গাছ জন্মানো যায়।
মোজাফফরপুরী
এ জাতটি ভারতের
মোজাফফরপুর থেকে এ দেশে এসেছে, আমাদের দেশে বিভিন্ন অঞ্চলে এ জাতের চাষ দেখা যায়।
ফল : ফল ডিম্বাকার, প্রতিটি ফলের ওজন গড়ে ২০ গ্রাম, গাছে প্রায় ৮০ থেকে ১০০ কেজি
ফল ধরে। বীজ : বীজ বড় আকৃতির, প্রতিটি বীজের গড় ওজন ২.৯ গ্রাম। পাকা ফলের রং:
গোলাপী। শাঁস ও বীজের অনুপাত: ৪.৭৮:১ অর্থ্যাৎ শাঁসের পরিমাণ বেশি। সুবিধা: একসাথে
পাকে না ফলে দীর্ঘদিন ধরে একটি গাছ থেকে ফল পাওয়া যায়। গুটি কলমের চারা বেশ শক্ত ও
সহজে মরে না, তুলনামূলকভাবে কম যত্নে চাষ করা যায়।
বেদানা লিচু
চীন থেকে এ দেশে এসেছে
বলে ধারণা করা হয়। সুস্বাদু ও ভিটামিন যুক্ত এ বেদানা লিচুর ফল পাওয়া যায় জুন ও
জুলাই মাসে। ফল : ফল গোলাকৃতির। ফলের ওজন ২৫ থেকে ২৮ গ্রাম। বীজ: বীজ ছোট আকৃতির ও
সংকুচিত। পাকা ফলের রং: ফল উজ্জ্বল রং ও গাঢ় গোলাপী। শাঁস ও বীজের অনুপাত: ধূসর
সাদা, নরম ও রসালো। শাঁস ও বীজের অনুপাত: ২৮:১ অর্থাৎ শাঁসের পরিমাণ অনেক বেশি।
রাজশাহী ও দিনাজপুরে অঞ্চলে মঙ্গলবাড়ী, গুটি, মাদ্রাজি এবং নামহীন অনেক ভালো জাতের
লিচু চাষ করা হয়ে থাকে।
লিচু উৎপাদন প্রযুক্তি
চাষের পরিবেশ ও মাটি
উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু
লিচু চাষের জন্য ভালো। বার্ষিক বৃষ্টিপাত ১২০০ মিমি. ও ৭০-৮০% আপেক্ষিক আর্দ্রতা
লিচু চাষের উপযোগী। পানি জমে না এবং জৈব পদার্থ আছে এমন বেলে দো-আঁশ মাটি লিচু
চাষের জন্য ভালো।
মাটি : গভীর, নিকাশযুক্ত, উর্বর বেলে অথবা দো-আঁশ মাটি লিচু চাষের জন্য
উত্তম।
জমি তৈরি : উঁচু ও মাঝারি উঁচু জমি নির্বাচন করতে হবে। চাষ ও মই দিয়ে জমি
সমতল এবং আগাছামুক্ত করে নিতে হবে।
রোপণ প্রণালী : সমতল ভূমিতে-বর্গাকার, পাহাড়ি ভূমিতে-কন্টুর।
চারা নির্বাচন : এক থেকে দুই বছর বয়স্ক সুস্থ ও সবল গুটি কলমের চারা বাছাই করতে
হবে।
চারা রোপণের সময়:
জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় (মধ্য-মে থেকে মধ্য-জুলাই) এবং ভাদ্র-আশ্বিন (মধ্য-আগস্ট থেকে মধ্য
অক্টোবর) মাস।
চারা রোপণের দূরত্ব : ৮
থেকে ১০ মিটার।
গর্ত তৈরি : গর্তের আকার
১×১×১ মিটার।
গর্তে সারের পরিমাণ :
চারা রোপণের ১০-১৫ দিন পূর্বে গর্ত তৈরি করে প্রতি গর্তে নিম্নরূপ সার গ্রয়োগ করতে
হবে।
|
সারের নাম |
সারের
পরিমাণ/গর্ত |
|
টিএসপি |
৫০০ গ্রাম |
|
এমওপি |
৪০০ গ্রাম |
|
জিপসাম |
২০০-৩০০ গ্রাম |
|
জিংক সালফেট |
৪০-৬০ গ্রাম |
|
জৈব/গোবর |
২০-২৫ কেজি |
গর্তে কিছুটা পুরাতন লিচু
বাগানের মাটি মিশিয়ে দিলে চারার অভিযোজন দ্রুত বৃদ্ধি হবে।
চারা রোপণ : গর্ত ভর্তির ১০-১৫ দিন পর চারাটি গোড়ার মাটির বলসহ গর্তের
মাঝখানে সোজাভাবে লাগাতে হবে। চারা রোপণের পর পানি, খুঁটি ও বেড়ার ব্যবস্থা করতে
হবে।
গাছে সার প্রয়োগ : গাছের যথাযথ বৃদ্ধি ও কাঙ্ক্ষিত ফলনের জন্য সার প্রয়োগ করা
আবশ্যক। গাছের বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে সারের পরিমাণও বাড়াতে হবে। বিভিন্ন বয়সের
গাছের জন্য প্রয়োজনীয় সারের পরিমাণ নিচের ছকে দেওয়া হলো:
|
সারের নাম |
গাছের
বয়স (বছর) |
|||
|
১-৪ |
৫-১০ |
১১-২০ |
২০ এর ঊর্ধ্বে |
|
|
গোবর (কেজি) |
১০ |
২০ |
৩০ |
৫০ |
|
ইউরিয়া (গ্রাম) |
৩০০ |
৮০০ |
১২০০ |
২০০০ |
|
টিএসপি (গ্রাম) |
৪০০ |
১২০০ |
২০০০ |
৩০০০ |
|
এমওপি (গ্রাম) |
৩০০ |
৮০০ |
১২০০ |
১৫০০ |
|
জিপসাম (গ্রাম) |
১০০ |
২০০ |
২৫০ |
৩০০ |
|
জিংক সালফেট (গ্রাম) |
১০ |
২০ |
৩০ |
৫০ |
উল্লেখিত সার সমান তিন
কিস্তিতে প্রয়োগ করতে হবে। প্রথম কিস্তি বর্ষার শুরুতে (ফল আহরণের পর), দ্বিতীয়
কিস্তি বর্ষার শেষে (আশ্বিন-কার্তিক মাসে) এবং শেষ কিস্তি গাছে ফুল আসার পর প্রয়োগ
করতে হবে।
পানি সেচ ও নিকাশ : চারা গাছের বৃদ্ধির জন্য শুকনো মৌসুমে ১০-১৫ দিন পর পর সেচ
দিতে হবে। ফলন্ত গাছের বেলায় সম্পূর্ণ ফুল ফোটা পর্যায়ে একবার, ফল মটর দানার মতো
হলে একবার এবং ১৫ দিন পর আর একবার মোট তিনবার সেচের ব্যবস্থা করতে হবে। সার
প্রয়োগের পর সেচ দেয়া একান্ত দরকার। অপর দিকে, বর্ষার সময় যাতে গাছের গোড়ায় পানি
না জমে তার জন্য পানি নিকাশের ব্যবস্থা নিতে হবে।
সাথী ফসল
লিচু গাছের যখন ৫ থেকে ৭
বছর বয়স তখন গাছের মাঝের জায়গায় ধান, গম, ভুট্টা, আলু, সরিষা, আদা, হলুদ ও বিভিন্ন
ধরনের শাকসবজির চাষ করা যায়।
ডাল ছাঁটাইকরণ : পূর্ণ বয়স্ক গাছে পর্যাপ্ত আলো বাতাস প্রবেশের
জন্য ফল সংগ্রহের পর অপ্রয়োজনীয় ডালপালা কেটে ফেলতে হবে। ফল সংগ্রহের সময়
মাকড় আক্রান্ত ডাল ভেঙ্গে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। ফল সংগ্রহের সময় লিচুর মাকড় আক্রান্ত
ডাল ভেঙ্গে পুড়িয়ে ফেলতে হবে।
গাছের মুকুল ভাঙ্গন : কলমের গাছের বয়স ৪ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত মুকুল ভেঙ্গে
দিতে হবে।
অন্যান্য পরিচর্যা
ফল ছিদ্রকারী পোকা
ফল ছিদ্রকারী পোকা লিচুর
অন্যতম প্রধান শত্রু। ফলের বাড়ন্ত অবস্থায় পূর্ণ বয়স্ক ফলের বোঁটার কাছে খোসার
নিচে ডিম পাড়ে। ডিম থেকে কীড়া বের হয়ে বোঁটার নিকট ফলের ভেতরে ঢুকে বীজ খেতে থাকে।
এতে অনেক অপরিপক্ব ও পরিপক্ব ফল ঝরে যায়। এ ছাড়া, বীজ খাওয়ার দরুণ করাতের গুড়ার
মতো পদার্থ উৎপন্ন হয় এবং বোঁটার কাছে জমে থাকে। এতে ফল খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে পড়ে
এবং বাজার মূল্য হ্রাস পায়।
দমনব্যবস্থা
বাগান পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন
রাখতে হবে। আক্রান্ত ফল বাগান থেকে কুড়িয়ে মাটির গভীরে পুঁতে ফেলতে হবে। এ পোকা
দমনের জন্য রিপকর্ড/সিমবুশ/সুমিসাইডিন/ডেসিস প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলি. হারে
মিশিয়ে ফলের মার্বেল অবস্থা থেকে শুরু করে ১৫ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করকত হবে।
তবে মনে রাখতে হবে ফল সংগ্রহের অন্তত ১৫ দিন পূর্বে শেষ স্প্রে করতে হবে।
লিচুর মাইট বা মাকড়
লিচু গাছের পাতা, ফুল ও
ফলে এ আক্রমণ দেখা যায়। আক্রান্ত পাতা কুঁকড়িয়ে যায় এবং নিচের দিকে লাল মখমলের মত
হয়ে যায় এবং দুর্বল হয়ে মার যায়। আক্রান্ত ডালে ফুল, ফল বা নতুন পাতা হয় না এবং
আক্রান্ত ফুলে ফল হয় না।
দমন ব্যবস্থা
ফল সংগ্রহের সময় মাকড়
আক্রান্ত পাতা ডালসহ ভেঙ্গে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। মাকড়নাশক ভারটিম্যাক প্রতি লিটার
পানিতে ১ মিলি. পরিমাণ মিশিয়ে নতুন পাতায় ১৫ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করলে ভাল ফল
পাওয়া যায়।
বাদুর
লিচুর প্রধান শত্রু
বাদুর। এরা পরিপক্ব ফলে আক্রমণ করে। ফল বৃদ্ধি প্রাপ্ত অবস্থায় এক রাতের
অসাবধানতায় এরা সমস্ত ফল বিনষ্ট করে ফেলতে পারে। মেঘলা রাতে বাদুরের উপদ্রব
ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।
দমনব্যবস্থা
বাদুর তাড়ানোর জন্য রাতে
পাহাড়ার ব্যবস্থা করতে হবে। সমস্ত গাছ জালের সাহায্যে ঢেকে দিয়েও বাদুরের আক্রমণ
রোধ করা যায়। বাগানে গাছের ওপর দিয়ে শক্ত ও চিকন সুতা বা তার টাঙ্গিয়ে রাখলে
বাদুরের চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়।
রোগবালাই
পাউডারি মিলডিউ : লিচুর মুকুলে সাদা বা ধূসর বর্ণের পাউডারের আবরণ দেখা যায়।
আক্রান্ত মুকুল নষ্ট হয় ও ঝরে পড়ে। গাছে মুকুল আসার পর টিল্ট ২৫০ ইসি প্রতি লিটার
পানিতে ০.৫ মিলি. অথবা থিওভিট ৮০ ডব্লিউপি প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে
স্প্রে করতে হবে।
এ্যানথ্রাকনোজ বা ফল পচা
রোগ : প্রথমে ফলের বোঁটার দিকে পানি ভেজা পচা
দাগের সৃষ্টি হয়, যা আস্তে আস্তে বৃদ্ধি পেয়ে সব ফল পচিয়ে ফেলে এবং একসময় ফল
শুকিয়ে ঝরে পড়ে। সাধারণত ফলের পোকার ছিদ্রপথ দিয়েও রোগের জীবাণু প্রবেশ করে এবং
আর্দ্র ও বৃষ্টিপাত যুক্ত আবহাওয়ায় দ্রুত পচন ঘটায়। লিচু বাগান পরিষ্কার পরিছন্ন
রাখতে হবে। এ লক্ষ্যে গাছের নিচে মরা পাতা, ফল ও আগাছা সংগ্রহ করে পুড়িয়ে ফেলতে
হবে। পোকা দমনের জন্য লিচু মটরদানার আকৃতি হলে সাইথ্রিন ১০ ইসি অথবা সুমিসাইডিন ২০
ইসি অথবা ডেসিস ২.৫ প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলি. হারে সেই সাথে প্রোপিকোনাজল
গ্রুপের ছত্রাকনাশক যেমন- প্রাউড ১ মিলি. প্রতি লিটার পানিতে একত্রে মিশিয়ে ১৫ দিন
পরপর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে। মনে রাখতে হবে ফল সংগ্রহের অন্তত ১৫ দিন আগে শেষ
স্প্রে প্রয়োগ করতে হবে।
পাতায় দাগ
লিচু গাছের পাতায় অনেক
সময় অস্বাভাবিকতা দেখা যায়। এতে আক্রান্ত গাছের পাতার আগা থেকে অর্ধেক অংশ শুকিয়ে
যায়। সাধারণত গাছে প্রয়োজনীয় খাদ্যের অভাব হলে এরকম লক্ষণ দেখা যায়। সেজন্য গাছের
বয়স অনুযায়ী সুষম সার প্রয়োগ করতে হবে। শুকনো আবহাওয়ায় সেচের ব্যবস্থা করতে হবে
এবং প্রয়োজন বোধে গাছের গোড়ায় কচুরিপানা/খড় দিয়ে ঢেকে দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
ফল ঝরা
ফল ঝরার কারণ :
১. প্রয়োজনীয় হরমোনের
অভাব/তারতম্য।
২. অপুষ্টি ও খরা।
৩. রোগ ও পোকামাকড়ের
আক্রমণ।
৪. ঝড়-বাতাস।
প্রতিকার
১. সুষম সার ও নিয়মিত সেচ
দিতে হবে।
২.গাছে ফল যখন মটরদানার
সমান হয় তখন ১ বার এবং মার্বেল আকার হয় তখন ১ বার পানোফিক্স/মিরাকুলান/ফ্লোরা
অনুমোদিত মাত্রায় স্প্রে করতে হবে।
৩. লিচুর রোগ ও পোকামাকড়
যথাসময়ে সঠিকভাবে দমন করতে হবে।
৪. জিংক সালফেটের দ্রবণের
সঙ্গে (০.৫, ১.০ ও ১.৫%) এনএএ (১০ পিপিএম) ও ২, ৪-ডি (১৫ পিপিএম) ২ থেকে ৩ বার
স্প্রে করে ফল ঝরা কমানো যায়।
ফল ফেটে যাওয়া
১. গ্রীষ্মকালে
পর্যায়ক্রমে শুষ্ক আবহাওয়া ও বৃষ্টিপাত হলে। উচ্চ তাপমাত্রা এবং নিম্ন আর্দ্রতা
সম্পন্ন আবহাওয়ায় লিচুর শাঁস দ্রুত বাড়ে এবং সেই তুলনায় ফলের খোসা দ্রুত বাড়তে না
পারার ফলে অনেক সময় ফল ফেটে যায়। লিচু পাকার সময় আবহাওয়া শুষ্ক হলেও ফল ফেটে যেতে
পারে।
প্রতিকার
১. গাছে ফল ধারণের পর
থেকেই সেচের ব্যবস্থা করতে হবে এবং গোড়ায় কচুরিপানা/খড় দ্বারা ঢেকে দেবার ব্যবস্থা
করতে হবে।
২. উদ্ভিদ হরমোন ২, ৪-ডি
এর ১০ পিপিএম দ্রবণ ফল ধারণের পর গাছে স্প্রে করে ফল ফেটে যাওয়া রোধ করা সম্ভব।
জমিতে খড় বিছানো বা মালচিং মাটিতে সার কম থাকলে লিচু গাছের বৃদ্ধি কমে যায়। সম্ভব
হলে রোপণের ৪ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত বর্ষার শেষে সার দিয়ে সেচ দেয়ার পরপরই খড় বা
শুকনো ঘাস/আগাছা বা কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে দিলে গাছের শিকড় বাড়ে ও শক্তিশালী হয়,
মাটিতে রস ধরে রাখা যায় এতে আগাছা দমন হয় এবং গাছের বৃদ্ধি তাড়াতাড়ি হয়।
ফল সংগ্রহ : ফল পাকার সময় খোসা আকর্ষণীয় খয়েরি, লাল বা সবুজ মিশ্রিত লাল রং
ধারণ করে ও খোসার কাটাগুলি চেপ্টা হয়ে সমান হয়ে যায়। মঞ্জরির গোড়া থেকে পাতাসহ ডাল
ভেঙ্গে থোকায় থোকায় লিচু সংগ্রহ করা হয়। বৃষ্টির পর পরই গাছ থেকে ফল সংগ্রহ করা
উচিত নয়। কারণ এতে ফল পচে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ফল সংগ্রহের সময় ফলবান ও ফলবিহীন
বিশেষ করে লিচু মাকড়াক্রান্ত পাতাসহ ডাল ভেঙ্গে দিতে হয়। যথাযথ পরিচর্যা পেলে লিচু
গাছ ১০০ বছর পর্যন্ত লাভজনক ফল দিতে পারে। একটি পূর্ণ বয়স্ক লিচু গাছ থেকে বছরে
৫০০০-১০০০০ ( ১০০-১৫০) লিচু সংগ্রহ করা যায়।
বস্তাবন্দী বা প্যাকেটজাত
প্যাকেজিংয়ের এর উদ্দেশ্য
হলো আঘাত থেকে ফলকে রক্ষা করা। সাথে সাথে পরিবহন ও বাজারজাত সহজতর করা এবং ফলকে
আকর্ষণীয় করা। এর জন্য ফসল ভিত্তিতে কার্টুনের বাক্স, কাঠের বাক্স বা প্লাস্টিকের
বাক্স, চটের ব্যাগ, বাঁশ বা বেতের ঝুড়ি ব্যবহার করা যেতে পারে। বিদেশে রফ্তানি
করতে হলে বাক্সের সাইজ ও তাতে ফলের সংখ্যা ও ওজন অবশ্যই আমদানিকারক দেশের চাহিদা
অনুযায়ী হতে হবে। প্যাকেটের ভেতর দু’টি ফলের মধ্যে কাগজ বা বোর্ড দিয়ে লাইনিং
ব্যবহার করা উচিত। যেনো ঘর্ষণে ফল ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। সাধারণত ফল পরিবহনে ট্রাক,
ভ্যান, রিকশা, নৌকা, গরুর গাড়ি, সাইকেল এসব ব্যবহার হয়ে থাকে। বাহ্যিক চেহারা ও
গুণগত মান ঠিক রাখার জন্য প্যাকিং করার পর প্যাকেটটি অবশ্যই হিমায়িত ভ্যানের
মাধ্যমে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় ও আপেক্ষিক আর্দ্রতায় পরিবহনের ব্যবস্থা নিতে হবে।
ফসল সংগ্রহের পরের কাজ
লিচু পাকার পর সম্ভব হলে
কাঁচি দিয়ে পাতা ও বোঁটাসহ কেটে সংগ্রহ করে একটি ছায়াযুক্ত স্থানে রাখতে হবে। নষ্ট
ও কাঁচা লিচু বাদ দিয়ে ভালো মানের ফল গোছা আকারে ঝুড়িতে যথেষ্ট পরিমাণ পাতা দিয়ে
রাখতে হবে। এরপর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কোল্ডস্টোরেজের প্যাকিং ঘরে আনতে হবে। ফলের
সাথে ৫ থেকে ১০ মিমি. বোঁটা রেখে ছিদ্রযুক্ত পলিইথাইলিন ব্যাগে করোগেটেড ফাইবার
কার্টুনে ভরে ১৫০ সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা ও ৯৫% আপেক্ষিক আর্দ্রতায় ২৪ ঘন্টা রাখতে
হবে। এভাবে ১ কেজি লিচুর জন্য ৪টি ব্যাগের প্রয়োজন। তারপর কার্টুনগুলো ঠাণ্ডাযুক্ত
গাড়িতে করে রপ্তানির জন্য বিমানবন্দরে পাঠাতে হবে। এছাড়া স্থানীয়ভাবে বাজারজাত
করার জন্য নিম্নের বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে ৫০ থেকে ১০০টি লিচু দিয়ে থোকা করতে
হবে। থোকাগুলো লেবু বা মেহগনির পাতার উপর রাখতে হবে। ঠাণ্ডা জায়গায় রাখতে হবে।
পাতা দিয়ে ঝুড়িতে সাজাতে হবে। লেবু বা মেহগনির পাতার সাহায্যে এমনভাবে চট দিয়ে মুখ
সেলাই করতে হবে যাতে বাতাস না ঢুকতে পারে, কারণ বাতাসে লিচুর রং নষ্ট হয়ে যায়।
সংরক্ষণের কৌশল
লিচু সংগ্রহের পরপরই ফল
খারাপ হওয়া শুরু করে। বিশেষ করে ফল সংগ্রহের পর যদি রোদে রাখা হয় তবে ফল তাড়াতাড়ি
নষ্ট হয়। এজন্য দরকার এসব পদ্ধতি অনুসরণ করা বংশবিস্তার বীজ থেকে সহজেই লিচুর
বংশবৃদ্ধি করা সম্ভব। বীজ থেকে বংশবৃদ্ধি হলে মাতৃগাছের গুণাগুণ বজায় থাকে না।
বংশবৃদ্ধির জন্য গুটি কলম একটি ভালো পদ্ধতি। রোগ ও পোকামাকড় মুক্ত সুস্থ গাছের এক
বছর বয়সের যেসব ডাল আংশিক হেলে আছে সেসব ডালেই কলম করা হয়। জুন-জুলাই মাস গুটি কলম
বাঁধার উপযুক্ত সময়। শিকড় আসতে প্রায় দুই মাস সময় নেয়। আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে গুটি
নামিয়ে পলিব্যাগ, মাটির টব বা বীজতলায় স্থাপন করার পর সঠিক যত্ন নিলে এগুলো বেশির
ভাগ টিকে যায়।
লিচুর বিকল্প ব্যবহার
লিচুর জুস ও চকোলেট । ২.২
থেকে ৩.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এবং শতকরা ৮০-৮৫ ভাগ আপেক্ষিক আর্দ্রতায়। এক
মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়।
বাজারজাতকরণ
ফল গাছ থেকে সংগ্রহের পর
পরই ঠান্ডা, শুকনা ও বাতাস চলাচল করে এমন স্থানে রাখতে হয়। লিচু খুব তাড়াতাড়ি
শুকিয়ে যায় এবং এর খোসা বাদামি রং ধারণ করে পচে যায়। তাই গাছ থেকে সংগ্রহের পর যত
তাড়াতাড়ি সম্ভব বাজারজাত করা দরকার। সাধারণত বিক্রির জন্য রাজশাহী, ঢাকা ও
চট্টগ্রামসহ সারা দেশেই বাসে বিশেষ করে নাইট কোচের ছাদে পরিবহন করা হয়।
লিচু রপ্তানি প্রযুক্তি
লিচু রপ্তানির জন্য এর
গুণগতমান ভালো হওয়া দরকার। সেজন্য উৎপাদন এবং শস্য সংগ্রহোত্তর প্রযুক্তি যথাযথ
ব্যবহার করা দরকার। নিচে রপ্তানির জন্য উৎপাদন ও শস্য সংগ্রহোত্তর প্রযুক্তি দেয়া
হল।
লিচু উৎপাদন প্রযুক্তি : বোরন ও দস্তার অভাব থাকলে অন্যান্য অনুমোদিত সারের সাথে
প্রতিটি গাছে ২০ গ্রাম জিংক সালফেট এবং ১০ গ্রাম বরিক এসিড (লিচুর আঁটি শক্ত হওয়ার
পর্যায়ে) গাছের গোড়ায় মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত
নিয়মিত রিং বেসিন পদ্ধতিতে গাছের গোড়ায় সেচ দিতে হবে। লিচুর পোকা দমনের জন্য ফল
মটর দানার আকার হলে নাইলনের তৈরি জাল দিয়ে লিচুর গোছা বেঁধে দিতে হবে।