গমের ব্লাস্ট ছত্রাকজনিত রোগ নিয়ন্ত্রণের উপায়

 প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৬, ০২:৫৯ অপরাহ্ন   |   কৃষি

গমের ব্লাস্ট ছত্রাকজনিত রোগ নিয়ন্ত্রণের উপায়

 

গমের ব্লাস্ট একটি ক্ষতিকর ছত্রাকজনিত রোগ। ছত্রাকটির বৈজ্ঞানিক নাম Magnaporthe oryzae প্যাথোটাইপ ট্রিটিকাম। গমের শীষ বের হওয়া থেকে ফুল ফোটার সময়ে উষ্ণ এবং আর্দ্র আবহাওয়া এ রোগের  খুবই অনুকূল।
 

ব্লাস্ট রোগের লক্ষণ    

প্রধানত গমের শীষে ছত্রাকের আক্রমণ হয়। শীষের আক্রান্ত স্থানে কালচে ধূসর বর্ণের দাগ পড়ে এবং আক্রান্ত স্থানের উপরের অংশ সাদা হয়ে যায়। তবে শীষের গোড়ায় আক্রমণ হলে পুরো শীষ শুকিয়ে সাদা হয়ে যায়। আক্রান্ত শীষের দানা অপুষ্ট ও বিবর্ণ হয়ে যায় । পাতায়ও এ রোগের আক্রমণ হতে পারে। এক্ষেত্রে পাতায় চোখের ন্যায় ধূসর বর্ণের ছোট ছোট পানি-ভেজা দাগ পড়ে।

 

রোগের বিস্তার যেভাবে ঘটে

আক্রান্ত বীজের মাধ্যমে গমের ব্লাস্ট রোগ ছড়ায়। বৃষ্টির কারণে গমের শীষ ১২-১৪ ঘন্টা ভেজা ও তাপমাত্রা ১৮সেলসিয়াস বা এর বেশি হলে এ রোগের সংক্রমণ হয় এবং বাতাসের মাধ্যমে দ্রুত রোগের জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে। ব্লাস্ট রোগের জীবাণু কিছু কিছু ঘাস জাতীয় পোষক আগাছার (চাপড়া, শ্যামা, আংগুলি ঘাস) মধ্যে বাস করতে পারে; তবে সেখানে রোগের লক্ষণ সহজে দৃষ্টিগোচর হয় না।

 

 

গমের ব্লাস্ট রোগ নিয়ন্ত্রণের উপায় 

 

গমের ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী (বারি গম ৩৩, বিডব্লিউএমআরআই গম ৩, বিডব্লিউএমআরআই গম ৫) ও সহনশীল (বারি গম ৩০,বারি গম ৩২ ও বিডব্লিউএমআরআই গম ২) জাত চাষ করুন। ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়নি এমন জমি থেকে বীজ গম সংগ্রহ করুন। উপযুক্ত সময়ে অর্থাৎ অগ্রহায়ণের ০১ হতে ১৫ তারিখ পর্যন্ত (নভেম্বর ১৫-৩০) বীজ বপন করুন যাতে শীষ বের হওয়ার সময় বৃষ্টি ও উচ্চ তাপমাত্রা পরিহার করা যায়। বপনের পূর্বে ১ কেজি বীজের জন্য ছত্রাকনাশক প্রোভাক্স (কার্বক্সিন ১৭.৫%+থিরাম ১৭.৫%) ২.৪-৩ গ্রাম দিয়ে বীজ শোধন করা উচিত। গমের ক্ষেত ও আইল আগাছামুক্ত রাখুন। সরিষা, আলু, মসুর, মরিচ ইত্যাদির মতো অ-শস্যজাতীয় ফসলের সাথে ফসলের আবর্তন বা শস্যবিন্যাস অনুসরণ করা উচিত। গমক্ষেতের কমপক্ষে ২ কিলোমিটারের এর মধ্যে বার্লি চাষ করা উচিত নয়। গমের খড় ক্ষেত থেকে অপসারণ করতে হবে।সিলিকন (সুপার সিলিকা) ১০০ কেজি/হেক্টর, জিংক (চিলেটেড জিংক) ১১.৫ কেজি/হেক্টর এবং বোরন (সলুবোর বোরন) ৬ কেজি/হেক্টর এর সম্মিলিত প্রয়োগ রোগকে একটি গ্রহণযোগ্য স্তরে বা অন্ততপক্ষে এমন একটি স্তরে কমাতে পারে যেখানে অন্যান্য কালচারাল অনুশীলন দ্বারা আরও নিয়ন্ত্রণ, কম ব্যয়বহুল এবং পরিবেশবান্ধব করা যায়। গমের প্রি- হেডিং, হেডিং এবং মিল্ক স্টেহজ পর্যন্ত প্রতিদিন মাঠ মনিটরিং ও পর্যবেক্ষণ করতে হবে। প্রতিরোধক ব্যবস্থা হিসেবে শীষ বের হওয়ার সময় একবার এবং এর ১২-১৫ দিন পর আরেকবার কার্যকর ছত্রাকনাশক (টেবুকোনাজল ৫০% + ট্রাইফ্লক্সিস্ট্রোবিন ২৫%, ৬ গ্রাম হারে অথবা এজক্সিস্ট্রোবিন ২০% + ডাইফেনোকোনাজল ১২.৫%, ১০ মি.লি. হারে প্রতি ৫ শতাংশ জমির জন্য ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে) গাছে স্প্রে করুন। পরিবেশবান্ধব ট্রাইকোডার্মা- ৫মিলি/লি. হারে তিনদিন পরপর ৪ বার (বুটিং থেকে হেডিং পর্যায়ে) স্প্রে  করলে ব্লাস্ট এর তীব্রতা প্রায়  ৪২% হ্রাস পায়। 

 

তথ্যসূত্র: ফোল্ডার, বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট, নশিপুর, দিনাজপুর।

Advertisement
Advertisement
Advertisement