নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা: ঈদের অগ্রিম টিকিট নিয়ে কাউন্টারে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়

 প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬, ০৬:২৪ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা: ঈদের অগ্রিম টিকিট নিয়ে কাউন্টারে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়

​নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

​ভোরের আলো ফোটার আগেই নিস্তব্ধ রাজধানী যেন হঠাৎ জেগে উঠল এক চেনা ব্যস্ততায়। ক্যালেন্ডারের পাতায় ঈদুল আজহা এখনো কয়েক দিন বাকি থাকলেও, শেকড়ের টানে বাড়ি ফেরার ব্যাকুলতা শুরু হয়ে গেছে আজ থেকেই। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে দূরপাল্লার বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি। গাবতলী, কল্যাণপুর আর টেকনিক্যাল মোড়ের বাস কাউন্টারগুলোতে টিকিটপ্রত্যাশীদের ভিড় জানান দিচ্ছে—ঘরে ফেরার উৎসব শুরু হয়ে গেছে।

​বাস কাউন্টারগুলোর সামনে দীর্ঘ লাইন। কারো চোখে ক্লান্তি থাকলেও মুখে লেগে আছে এক চিলতে হাসি, কারণ কাঙ্ক্ষিত টিকিটটি এখন তাদের মুঠোয়। বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ থেকে ২১ মে ও পরবর্তী দিনগুলোর অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করতে পারছেন যাত্রীরা। তবে এবারের চিত্রটা গতানুগতিক লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার চেয়ে কিছুটা ভিন্ন। কাউন্টারগুলোর পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও বইছে টিকিটের জোয়ার।

​প্রযুক্তির কল্যাণে টিকিট এখন হাতের মুঠোয়। বিডিটিকিটস, সহজ কিংবা যাত্রী ডটকমের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে এখন ঘর থেকেই গন্তব্য আর যাত্রার তারিখ লিখে খুঁজলেই মিলছে বাসের সময়সূচী। স্মার্টফোনে এনআইডি আর মোবাইল নম্বর দিয়ে নিবন্ধনের পর পছন্দমতো আসন বেছে নিচ্ছেন অনেকেই। আসন নির্বাচনের আধ ঘণ্টার মধ্যে ডিজিটাল পেমেন্ট সেরে ই-টিকিট সংগ্রহ করছেন যাত্রীরা। তবে এই আধুনিকতার মধ্যেও বাসের সেই চিরচেনা মুদ্রিত টিকিটটি হাতে পাওয়ার স্বস্তি পেতে কাউন্টারে মানুষের ভিড় কমছে না।

​এদিকে ভাড়া নিয়ে যেন কোনো ভোগান্তি না হয়, সেদিকে কড়া নজর রাখছে বিআরটিএ ও বাস মালিক সমিতি। প্রতিটি কাউন্টারে ঝোলানো হয়েছে নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা। অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি অনলাইন বা কাউন্টার—কোনো মাধ্যমেই। ঈদযাত্রাকে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে বাড়তি সতর্কতা।

​সব মিলিয়ে, ইট-কাঠের শহর ছেড়ে প্রিয়জনের সান্নিধ্যে যাওয়ার এই যে তোড়জোড়, তার প্রথম ধাপটি সফলভাবেই শুরু হলো আজ। এখন শুধু অপেক্ষার পালা—কবে আসবে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, যখন বাসের জানালার পাশে বসে দুচোখ ভরে দেখা যাবে প্রিয় গ্রামের সবুজ শ্যামল রূপ।

Advertisement
Advertisement
Advertisement