প্রধানমন্ত্রীর অনন্য উদ্যোগ: মহাসড়ক থেকে জনপদ, এবার সর্বত্র নিশ্চিত হবে স্বাস্থ্যসম্মত পাবলিক টয়লেট

 প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬, ১০:২৮ পূর্বাহ্ন   |   জাতীয়

প্রধানমন্ত্রীর অনন্য উদ্যোগ: মহাসড়ক থেকে জনপদ, এবার সর্বত্র নিশ্চিত হবে স্বাস্থ্যসম্মত পাবলিক টয়লেট

​নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

​দেশের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে দীর্ঘ পথযাত্রী নারী ও শিশুদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এখন থেকে কেবল শহর বা বড় দালানকোঠা নয়, দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়, মহাসড়ক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিশ্চিত করা হবে মানসম্মত ও স্বাস্থ্যসম্মত পাবলিক টয়লেট সুবিধা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের নবনির্মিত ভবনে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ‘জাতীয় পাবলিক টয়লেট নীতিমালা ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

​এই নতুন নীতিমালা কেবল কতগুলো টয়লেট নির্মাণের ঘোষণা নয়, বরং এটি জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় একটি বড় ধরণের সামাজিক সংস্কারের ইঙ্গিত দিচ্ছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে প্রস্তাবিত এই নীতিমালায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে দেশের প্রান্তিক ও সংবেদনশীল জনগোষ্ঠীকে। বিশেষ করে নারী, শিশু, প্রবীণ এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রয়োজনকে মাথায় রেখে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত টয়লেট স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে জানানো হয়, এখন থেকে দেশের প্রতিটি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে নারীদের জন্য পৃথক এবং উন্নত টয়লেট রাখা বাধ্যতামূলক।

​দেশের পরিবেশ রক্ষায়ও এই নীতিমালা এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। দীর্ঘকাল ধরে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে পয়ঃবর্জ্য সরাসরি নদী বা খালে গিয়ে মিশে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে। সরকার এবার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে যে, প্রতিটি পাবলিক টয়লেটে অবশ্যই আধুনিক সেফটিক ট্যাংক থাকতে হবে, যাতে কোনোভাবেই নদী বা জলাশয় দূষিত না হয়।

​পরিবহন খাতের আমূল পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার বিভাগকে একযোগে কাজ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ ভ্রমণে নারীদের যে অসহনীয় কষ্টের মুখোমুখি হতে হয়, তা দূর করতে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে উন্নত টয়লেট কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব টয়লেটে থাকবে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা এবং যথাযথ পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ তদারকি ব্যবস্থা।

​সরকার মনে করছে, কেবল অবকাঠামো তৈরি করলেই হবে না, বরং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোটাও সমান জরুরি। তাই শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়কে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছোট শিশুটি থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক যেন স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ব্যবহারের নিয়ম ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতন হয়, সেজন্য দেশব্যাপী প্রচার চালানোর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

​বৈঠক শেষে মন্ত্রিসভা সংশ্লিষ্ট প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে দ্রুত একটি সময়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছে, যাতে এই নীতিমালা কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থেকে খুব দ্রুত সাধারণ মানুষের নাগালে পৌঁছায়। স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থার এই নতুন দিগন্ত আগামী দিনে একটি স্মার্ট ও সুস্থ বাংলাদেশ গড়ার পথে বড় সহায়ক হবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Advertisement
Advertisement
Advertisement