চবি ক্যাম্পাসে নাহিদ-হাসনাত: স্মৃতির পাহাড়ে আগামীর রাজনীতির আলাপ

 প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

চবি ক্যাম্পাসে নাহিদ-হাসনাত: স্মৃতির পাহাড়ে আগামীর রাজনীতির আলাপ

​নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম | ৭ মে, ২০২৬

​পাহাড়ঘেরা চিরচেনা সেই কাটাপাহাড়ের পথ, চিরসবুজ ক্যাম্পাস আর ট্রেনের হুইসেলের শব্দে মুখরিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) গতকাল এক ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক আবহের সাক্ষী হলো। বৃহস্পতিবার গোধূলি লগ্নে ক্যাম্পাসের মায়াবী পরিবেশে পা রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এবং এনসিপি নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। কেবল আনুষ্ঠানিক সফর নয়, বরং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রাণখোলা আড্ডা আর দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে নীতিনির্ধারণী বার্তার মধ্য দিয়ে তাদের এই সফর হয়ে ওঠে তাৎপর্যপূর্ণ।

​সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে অতিথিরা ক্যাম্পাসে পৌঁছালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। মাগরিবের নামাজ শেষে তারা উপাচার্যের কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। সেখানে আলাপচারিতার মূল কেন্দ্রে ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট, গবেষণার অপ্রতুলতা এবং শিক্ষার মানোন্নয়ন। নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট ভাষায় জানান, চবি শুধু সৌন্দর্যের লীলাভূমি নয়, বাংলাদেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে এই চত্বরের ছাত্র-শিক্ষকদের অবদান অনস্বীকার্য। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলোতে চবির শিক্ষার্থীরা যেভাবে সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেছে, তা নতুন বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

​প্রশাসনিক বৈঠক শেষে শুরু হয় তাদের পায়ে হাঁটা পথচলা। উপাচার্যের দেওয়া স্মারক উপহার হাতে নিয়ে তারা এগিয়ে যান ঐতিহ্যের চাকসু ভবনের দিকে। সেখানে ছাত্র নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের পর তারা যান বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে। সেখানেই উঠে আসে দেশের সমসাময়িক রাজনীতির গরম খবর। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বিএনপির রাজনৈতিক ভূমিকার প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, "গণভোটের রায় বাস্তবায়নে বিএনপির ভূমিকা আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। সংবিধান সংস্কারের প্রশ্নে তাদের অবস্থান এখনো ধোঁয়াশাচ্ছন্ন।" তিনি আরও সতর্ক করে দেন যে, সংসদে সমাধান না মিললে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা পূরণে আন্দোলন আবারও রাজপথে গড়াতে পারে।

​রাত বাড়ার সাথে সাথে ক্যাম্পাসের পরিবেশ হয়ে ওঠে আরও নিবিড়। নাহিদ ইসলাম ও হাসনাত আবদুল্লাহ পায়ে হেঁটে কাটাপাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথ বেয়ে পৌঁছান বিশ্ববিদ্যালয় রেলস্টেশনে। সেখানে অপেক্ষমাণ সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তারা মেতে ওঠেন অনানুষ্ঠানিক আলাপনে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর জোর দেন নাহিদ ইসলাম। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন বাজেটে উচ্চশিক্ষার বরাদ্দ বাড়িয়ে চবির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যাপীঠগুলোর সংকট দূর করা হবে।

​একদিকে পাহাড়ের নীরবতা আর অন্যদিকে তারুণ্যের উচ্ছ্বাস—সব মিলিয়ে নাহিদ ও হাসনাতের এই সফর যেন এক নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইঙ্গিত দিয়ে গেল। যেখানে টেবিল-চেয়ারের আনুষ্ঠানিকতার চেয়ে গুরুত্ব পেয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবেগ আর দেশের বৃহত্তর সংস্কারের অঙ্গীকার। ট্রেন ছাড়ার আগে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিনিময় করা সেই হাসি আর আশ্বাসের মধ্য দিয়েই শেষ হয় তাদের এক স্মরণীয় ক্যাম্পাস সফর।

Advertisement
Advertisement
Advertisement