​উত্তরে মেঘের গর্জন: ৮ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা

 প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬, ০৮:৩৩ পূর্বাহ্ন   |   জাতীয়

​উত্তরে মেঘের গর্জন: ৮ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা

​নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

​সকাল থেকেই আকাশের মুখ ভার। বৈশাখের শেষবেলায় এসে প্রকৃতি যেন তার রুদ্ররূপ দেখানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, আজ রোববার (১০ মে) দুপুরের মধ্যে দেশের আটটি অঞ্চলের ওপর দিয়ে তীব্র বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। পশ্চিম দিগন্তের কালো মেঘ আর গুমোট গরমের অবসান ঘটিয়ে ধেয়ে আসতে পারে স্বস্তির, তবে ঝঞ্ঝাক্ষুব্ধ বৃষ্টি।

​ঝড়ের কবলে যেসব অঞ্চল

​আবহাওয়াবিদদের মতে, উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে বায়ুচাপের পার্থক্যের কারণে এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে:​রংপুর ও দিনাজপুর,​রাজশাহী, পাবনা ও বগুড়া ,​যশোর, কুষ্টিয়া ও টাঙ্গাইল

​এই এলাকাগুলোর ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। বাতাসের এই গতিবেগ ধুলোঝড় কিংবা গাছপালার ডালপালা ভাঙার জন্য যথেষ্ট।

​নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত

​ঝড়ো হাওয়ার সাথে বজ্রপাতের প্রবল সম্ভাবনা থাকায় অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আবহাওয়া অফিস আজ ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সময়সীমাকে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। ছোট লঞ্চ ও নৌকাগুলোকে তীরের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

​প্রকৃতির মেজাজ ও জনজীবন

​শনিবার রাত থেকেই দেশের উত্তরাঞ্চলে মেঘের ঘনঘটা দেখা গিয়েছিল। আজ ভোরের আলো ফুটতেই সেই মেঘ ঘনীভূত হয়ে টাঙ্গাইল ও পাবনার দিকে অগ্রসর হতে শুরু করে। কৃষকদের জন্য এই বৃষ্টি আশীর্বাদ হয়ে এলেও, আকস্মিক বজ্রপাত নিয়ে শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। বিশেষ করে খোলা মাঠে থাকা কৃষক ও গবাদি পশুকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

​আবহাওয়াবিদ ড. মো. আব্দুল বারী জানান:

​"মৌসুমি বায়ুর প্রাক-প্রস্তুতি হিসেবে এ সময়ে এ ধরনের কালবৈশাখী সদৃশ ঝড় স্বাভাবিক। তবে ৬০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বয়ে যাওয়ার সময় বজ্রপাতের তীব্রতা বেশি থাকতে পারে। তাই জানমালের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সতর্ক থাকা জরুরি।"

​আগামী কয়েকদিনের পূর্বাভাস

​আবহাওয়া অফিসের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র এই আট অঞ্চলই নয়, বিকেলের দিকে রাজধানী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতেও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে। বাতাসের আর্দ্রতা বেশি থাকায় বৃষ্টির আগ পর্যন্ত ভ্যাপসা গরম অনুভূত হতে পারে। তবে দুপুরের পর ঝড়ো হাওয়া বয়ে গেলে তাপমাত্রায় কিছুটা হ্রাস ঘটবে, যা জনজীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে।

​সতর্কবার্তায় আরও জানানো হয়েছে যে, আকাশ মেঘলা থাকার কারণে দিনের তাপমাত্রা ১-২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে। তবে বজ্রবৃষ্টির সময় সবাইকে পাকা দালানের নিচে বা নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement