সীমান্তে ভূ-কম্পন: আসামে উৎপত্তি, আতঙ্কে কাঁপল বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা ও উত্তরবঙ্গ ব্যুরো
সীমান্তের ওপারে ভারতের আসাম রাজ্যে আঘাত হানা এক মৃদু ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল। আজ শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে অনুভূত এই কম্পনে জনমনে সাময়িক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যদিও এখন পর্যন্ত সীমান্ত সংলগ্ন বাংলাদেশের কোনো জেলা থেকে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ভূমিকম্পের উৎস ও প্রকৃতি
বৈশ্বিক অগ্ন্যুৎপাত ও ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা 'ভলকানো ডিসকভারি'-র তথ্যমতে, রিখটার স্কেলে এই কম্পনের মাত্রা ছিল ৩.৬। ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল ভারতের আসাম রাজ্যের দক্ষিণ সালমারা মানকাচার এলাকায়, যা ধুবরি শহর থেকে প্রায় ৩৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
ভূ-তাত্ত্বিকদের প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পটি ছিল 'অগভীর' (Shallow earthquake)। সাধারণত মাটির স্বল্প গভীরতায় উৎপত্তি হওয়া কম্পনগুলো কেন্দ্রস্থলের নিকটবর্তী এলাকায় তীব্রভাবে অনুভূত হয়। যদিও এর সুনির্দিষ্ট গভীরতা এখনো পরিমাপ করা সম্ভব হয়নি, তবে অগভীর হওয়ার কারণেই উৎপত্তিস্থলের বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে তীব্র ঝাঁকুনি অনুভূত হয়েছে।
বাংলাদেশের ওপর প্রভাব
আসামের ভৌগোলিক অবস্থান বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তের অত্যন্ত নিকটে হওয়ায় কম্পনটি এদেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতেও অনুভূত হয়েছে। বিশেষ করে কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও জামালপুর জেলার বাসিন্দারা দুপুরের আলস্য ভেঙে হঠাৎ ঘরবাড়ি কেঁপে উঠতে দেখেন।
কুড়িগ্রাম ও রৌমারী: সীমান্ত ঘেরা এই অঞ্চলে কম্পন ছিল তুলনামূলক স্পষ্ট। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী এই কম্পনে আসবাবপত্র নড়ে ওঠে এবং অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে খোলা জায়গায় বেরিয়ে আসেন।
সাধারণ আতঙ্ক: অগভীর ভূমিকম্পের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী, এটি দূরবর্তী এলাকায় খুব বেশি বিধ্বংসী না হলেও নিকটবর্তী জনপদে শব্দের মতো কম্পন বা মৃদু দুলুনির সৃষ্টি করে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎকণ্ঠা তৈরি করেছে।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত
ভূ-তাত্ত্বিকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, আসাম এবং বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল দীর্ঘকাল ধরেই ভূমিকম্পপ্রবণ বলয়ে অবস্থিত। বিশেষ করে 'ডাউকি ফল্ট' এবং সংলগ্ন ভূ-তাত্ত্বিক চ্যুতিগুলোর সক্রিয়তা এই অঞ্চলে নিয়মিত বিরতিতে এমন মৃদু কম্পনের সৃষ্টি করছে। বড় কোনো ভূমিকম্পের পূর্বাভাস হিসেবে এই মৃদু কম্পনগুলোকে সতর্কবার্তা হিসেবে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
আসামের ধুবরি ও দক্ষিণ সালমারা অঞ্চলটি ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকায় অবস্থিত হওয়ায় সেখানে মাটির গঠনগত বৈশিষ্ট্যের কারণে কম্পনের তীব্রতা বেশি অনুভূত হয়েছে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ ক্ষয়ক্ষতির কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য দেয়নি, তবে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে।
প্রকৃতির এই আকস্মিক সংকেত আমাদের ভবন নির্মাণে সতর্কতা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে নিয়ে এলো।