ন্যায়বিচার নিশ্চিতে বিচারকদের সঠিক সিদ্ধান্তের পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান আইনমন্ত্রীর

 প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬, ০৮:৩৪ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

ন্যায়বিচার নিশ্চিতে বিচারকদের সঠিক সিদ্ধান্তের পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান আইনমন্ত্রীর

ঢাকা, ২৬ বৈশাখ (৯ মে):

দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে বিচারকদের সঠিক সিদ্ধান্তের পথ বেছে নিয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, আপনারা জনপ্রিয় সিদ্ধান্তের পরিবর্তে সবসময় আইন অনুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করবেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবেন। 

আজ রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট আয়োজিত পদোন্নতিপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ও সমপর্যায়ের ৩৯ জন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার পাঁচ দিনব্যাপী ওরিয়েন্টেশন কোর্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, সাংবিধানিকভাবে সুপ্রিম কোর্ট সর্বোচ্চ স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হলেও একজন বিচারকের স্বাধীনতা নিহিত থাকে তার মননে, তার কলমে, তার চিন্তা-চেতনায়। সে স্বাধীন আছে কি না, সেটাই হচ্ছে মুখ্য বিষয়। তিনি বলেন, একজন বিচারক যেদিন চাকরিতে যোগদান করেন, সেদিনই ধরে নিতে হয় যে, তাকে চাকরির জন্য বাড়ির বাইরে অবস্থান করতে হবে। তারপর যখন তিনি পোস্টিংয়ের জন্য তদবির-দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন, ঢাকায় থাকার জন্য পলিটিক্যাল এক্সিকিউটিভদের পেছনে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন, তাদের দিকে তাকিয়ে থাকেন, তখন কিন্তু প্রজাতন্ত্রের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে তিনি নিজের প্রতি যেমন জাস্টিস করতে পারেন না, তেমনি সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিও তা করতে পারেন না। 

প্রধান বিচারপতির বাসভবন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আইন অঙ্গনসহ দেশের মানুষের কাছে এটি তীর্থস্থানের মতো সম্মানজনক জায়গা। এই প্রতিষ্ঠান যেন আর কখনো মানুষের ক্ষোভ, আক্রমণ বা অবমাননার প্রতীক না হয়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

আসাদুজ্জামান বলেন, আইনমন্ত্রী হিসেবে এখন নিজেকে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পুলিশ ও প্রশাসনের অনেকের চাকরি চলে গেছে ও অনেকে জেলে গেছেন। যারা সন্ধ্যার পরে রাত ১২টা-১টায় মোমবাতি জ্বালিয়ে বিরোধী পক্ষকে দমন-পীড়নের জন্য বিচারকার্য সম্পাদন করেছেন, আইন মন্ত্রণালয় তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিয়েছে—এটা এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখছি, কারা এই প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত ছিলেন। 

আইনমন্ত্রী বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো ধরনের বেআইনি হস্তক্ষেপকে গুরুত্ব না দিয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আর্থিক কিংবা বুদ্ধিবৃত্তিক—কোনো ধরনের দুর্নীতিকেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। 

বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক (অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি) মো. এমদাদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিবের দায়িত্ব পালনরত অতিরিক্ত সচিব মো. খাদেম উল কায়েস ও বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) আল আসাদ মো. আসিফুজ্জামান বক্তৃতা করেন।

বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন, আইন কমিশন এবং বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement