এলোমেলো বোলিংয়ে ব্যাকফুটে বাংলাদেশ, আক্ষেপ আরও ৫০-৬০ রানের
ক্রীড়া প্রতিবেদক, ঢাকা
মিরপুর টেস্টের প্রথম দিন শেষে যে দাপট ছিল বাংলাদেশের, দ্বিতীয় দিন শেষে ঠিক তার বিপরীত চিত্র। ব্যাটিংয়ে শেষ দিকে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়া আর বোলিংয়ে ধারহীন পারফরম্যান্স—সব মিলিয়ে মিরপুর টেস্টে এখন চালকের আসনে পাকিস্তান। দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে শিষ্যদের এমন ব্যর্থতার কথা অকপটে স্বীকার করে নিয়েছেন দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।
আধিপত্য হারিয়ে রক্ষণভাগে বাংলাদেশ
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের করা ৪১৩ রানের জবাবে দ্বিতীয় দিন শেষে পাকিস্তান ১ উইকেটে ১৭৯ রান সংগ্রহ করেছে। অভিষিক্ত ওপেনার আজান আওয়াইসের অপরাজিত ৮৫ রান এবং আব্দুল্লাহ ফজলের ৩৭ রানের ওপর ভর করে শক্ত অবস্থানে সফরকারীরা। টাইগারদের চেয়ে এখনো ২৩৪ রানে পিছিয়ে থাকলেও হাতে ৯ উইকেট নিয়ে বড় সংগ্রহের পথে তারা।
ব্যাটিং আক্ষেপ ও বোলিংয়ের ‘ছন্নছাড়া’ রূপ
দিনের শুরুতে ৪ উইকেটে ৩০১ রান নিয়ে খেলতে নামা বাংলাদেশ আজ মাত্র ১১২ রান যোগ করতেই বাকি ৬ উইকেট হারায়। কোচ সালাউদ্দিনের মতে, স্কোরবোর্ডে আরও কিছু রান থাকা প্রয়োজন ছিল। তিনি বলেন:
"সকালে পাকিস্তান ভালো বোলিং করেছে। আমাদের আরেকটা ভালো পার্টনারশিপ দরকার ছিল। ৪০০ পার করলেও আমার মনে হয় আরও ৫০-৬০ রান বেশি হলে আমরা নিরাপদ থাকতাম।"
ব্যাটিংয়ের চেয়েও কোচের আক্ষেপ বেশি বোলিং নিয়ে। বিশেষ করে ঘাসযুক্ত উইকেটে পেসারদের উইকেট না পাওয়াকে ‘অতিরিক্ত উত্তেজনা’ ও ‘ভুল জায়গায় বল করা’ হিসেবে দেখছেন তিনি। সালাউদ্দিনের ভাষ্যমতে:
"বোলিংটা আমরা একটু এলোমেলো করেছি। আমরা ভালো চ্যানেলে বল করতে না পারায় পাকিস্তান সহজে রান তুলেছে। উইকেটে ঘাস দেখে বোলাররা হয়তো উত্তেজিত হয়ে গিয়েছিল, যা বড় ভুল ছিল।"
আব্বাস-জুজু ও মুশফিকের অভাব
পাকিস্তানের পেসার আব্বাসের ৫ উইকেট শিকারের প্রশংসা করে কোচ জানান, আব্বাস নির্দিষ্ট এক জায়গায় বল করে আমাদের ব্যাটারদের চাপে ফেলেছেন। পাশাপাশি অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম ইনিংস বড় করতে না পারায় লোয়ার অর্ডারে ধস নেমেছে বলে তিনি মনে করেন।
ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়
দিনটি খারাপ কাটলেও ৫ দিনের ম্যাচে এখনো কামব্যাক করার সুযোগ দেখছেন সালাউদ্দিন। কালকের পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, "এটা টেস্ট ক্রিকেট, এখানে ফিরে আসার সুযোগ থাকে। আমরা আজকে ভুলগুলো নিয়ে আলাপ করব এবং ব্যাটারদের কীভাবে সমস্যায় ফেলা যায় তা নিয়ে পরিকল্পনা সাজাব। আশা করি, কাল আমরা শক্তভাবে ঘুরে দাঁড়াব।"
একনজরে স্কোরকার্ড (দ্বিতীয় দিন শেষে):
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৪১৩/১০ (মুশফিকুর রহিম ৮২, লিটন দাস ৭৩; আব্বাস ৫/৭৪)
পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ১৭৯/১ (আজান আওয়াইস ৮৫*, ইমামুল হক ৪৬; মেহেদী মিরাজ ১/৪৪)
অবস্থা: পাকিস্তান ২৩৪ রানে পিছিয়ে।