বর্জ্য যখন সম্পদ: সজীব ভূঁইয়ার নতুন ঢাকার স্বপ্ন

 প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬, ১১:৫৬ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

বর্জ্য যখন সম্পদ: সজীব ভূঁইয়ার নতুন ঢাকার স্বপ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

​রাজধানীর ধুলোবালি আর স্তূপীকৃত আবর্জনার গন্ধে যখন নগরবাসীর নাভিশ্বাস দশা, ঠিক তখনই এক নতুন সম্ভাবনার কথা শোনালেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তার মতে, ঢাকা শহরের বিশাল পরিমাণ বর্জ্য অভিশাপ নয়, বরং এক বিশাল অর্থনৈতিক শক্তি। যদি এই বর্জ্যকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সম্পদে রূপান্তর করা যায়, তবে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে আর সাধারণ মানুষের পকেট থেকে ময়লার বিল নিতে হবে না; উল্টো সিটি করপোরেশন নিজেই হবে স্বাবলম্বী।

​বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ডাক

​শনিবার (০৯ মে) রাতে রাজধানীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৫৪টি ওয়ার্ডের প্রতিনিধিদের নিয়ে আয়োজিত এক রাজনৈতিক কর্মশালায় সজীব ভূঁইয়া এই আশাবাদের কথা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, "আমরা বর্জ্যকে শুধু আবর্জনা হিসেবে দেখি, কিন্তু উন্নত বিশ্বে এটি একটি বিশাল শিল্প। সঠিকভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন বছরে কয়েক হাজার কোটি টাকা আয় করতে সক্ষম। তখন আর নাগরিক সেবার নামে জনগণের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপানোর প্রয়োজন পড়বে না।"

​স্থানীয় সরকারের ক্ষমতায়ন ও সেবামূলক রাষ্ট্র

​সজীব ভূঁইয়া তার বক্তব্যে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি একটি সমন্বিত ব্যবস্থার স্বপ্ন তুলে ধরেন যেখানে পানি, বিদ্যুৎ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো ইউটিলিটি সেবাগুলো সরাসরি স্থানীয় সরকারের অধীনে থাকবে। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই ব্যবস্থা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে নাগরিকদের জন্য পানি ও বিদ্যুৎ বিলও বিনামূল্যে প্রদান করা সম্ভব হতে পারে।

​তিনি উল্লেখ করেন, উন্নত বিশ্বে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন (Waste-to-Energy) এবং জৈব সার তৈরি করে মিউনিসিপালিটিগুলো তাদের নিজস্ব ব্যয়ভার মেটায়। ঢাকার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হওয়ার কোনো কারণ নেই।

​সংস্কারের প্রশ্নে আপসহীন এনসিপি

​কর্মশালায় আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সংগঠনের রাজনৈতিক অবস্থানও পরিষ্কার করেন। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়কণ্ঠে জানান, রাষ্ট্র কাঠামোর আমূল সংস্কারের প্রশ্নে এনসিপি কোনো প্রকার আপস করবে না। তার ভাষায়:

​"আমাদের আন্দোলন কেবল কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির পতন বা ক্ষমতার পালাবদলের জন্য ছিল না। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো দীর্ঘদিনের গেঁড়ে বসা ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার সম্পূর্ণ বিলোপ ঘটানো। আমরা এমন এক ব্যবস্থা চাই যেখানে প্রতিটি নাগরিক তার ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবে এবং রাষ্ট্র হবে সেবামূলক।"

​এক নতুন দিগন্তের অপেক্ষাক্ষা

​কর্মশালায় উপস্থিত থাকা ওয়ার্ড প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার এই মডেল যদি সফল করা যায়, তবে ঢাকা হবে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আধুনিক ও স্বনির্ভর মেগাসিটি।

​রাতের সেই কর্মশালায় উপস্থিত প্রতিনিধিদের চোখে-মুখে ছিল এক নতুন ঢাকার স্বপ্ন। বর্জ্য থেকে অর্থ উপার্জন আর বিলমুক্ত নাগরিক জীবনের এই ঘোষণা রাজধানীবাসীর মনে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। এখন দেখার বিষয়, আগামীর রাজনীতিতে এই স্বপ্নের বাস্তবায়ন কতটুকু ত্বরান্বিত হয়।

Advertisement
Advertisement
Advertisement