‘আর কোনো ফ্যাসিবাদ যেন পুলিশকে জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহারের সুযোগ না পায়’: ​পুলিশ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঐতিহাসিক অঙ্গীকার; মেহনতি মানুষের নিরাপত্তা ও পেশাদারিত্বের ওপর গুরুত্বারোপ

 প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬, ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন   |   জাতীয়

‘আর কোনো ফ্যাসিবাদ যেন পুলিশকে জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহারের সুযোগ না পায়’: ​পুলিশ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঐতিহাসিক অঙ্গীকার; মেহনতি মানুষের নিরাপত্তা ও পেশাদারিত্বের ওপর গুরুত্বারোপ

​নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

​দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক অচলাবস্থা এবং ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে এক ভিন্ন আমেজে শুরু হলো ‘পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬’। রবিবার সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের প্যারেড গ্রাউন্ডে বার্ষিক এই উৎসবের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেন, রাষ্ট্রের কোনো রাজনৈতিক শক্তি যেন ভবিষ্যতে আর কখনো পুলিশ বাহিনীকে জনগণের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করাতে না পারে, সেই নিশ্চয়তা এই সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে।

​উদ্বোধন ও মূল প্রতিপাদ্য

এবারের পুলিশ সপ্তাহের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। রবিবার সকাল ৯টায় প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। এরপর প্রধানমন্ত্রী কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। বর্ণাঢ্য এই আয়োজনে অংশ নেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ।

​ভাষণের মূল দিক: ইতিহাসের নির্মোহ মূল্যায়ন

​প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নের দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, একদিকে চট্টগ্রামে তৎকালীন মেজর জিয়ার ‘উই রিভোল্ট’ এবং অন্যদিকে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে পুলিশ সদস্যদের মরণপণ প্রতিরোধ—এই দুই ঘটনাই ছিল স্বাধীনতার লড়াইয়ের টার্নিং পয়েন্ট।

​তবে ইতিহাসের কিছু ধূসর অধ্যায় নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন: ১৯৭১ সালের উত্তাল মার্চে যখন পশ্চিম পাকিস্তান থেকে হাজার হাজার সৈন্য ঢাকায় জড়ো করা হচ্ছিল, তখন সব পুলিশ সদস্যকে কেন রাজারবাগে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছিল, তার পেছনে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের কী যুক্তি ছিল—তা আজ গবেষণার দাবি রাখে। তিনি মনে করেন, সঠিক ইতিহাস চর্চার মাধ্যমেই পুলিশ বাহিনী তাদের প্রকৃত দেশপ্রেমের অনুপ্রেরণা খুঁজে পাবে।

​জনগণই হবে পুলিশের আসল শক্তি

​বিগত সরকারের আমলে পুলিশের রাজনৈতিক ব্যবহারের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, বছরজুড়ে অসংখ্য মামলা, হামলা ও নিপীড়নের শিকার সাধারণ মানুষ এখন কেবল শান্তি ও নিরাপত্তা চায়। তিনি বলেন, "জনগণের নিরাপত্তা পুলিশের ভূমিকার ওপরই সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল। আপনারা জনগণের ভক্ষক নন, রক্ষক হয়ে কাজ করবেন—এটাই এই সরকারের মূল লক্ষ্য।"

​প্রধানমন্ত্রী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের উদাহরণ টেনে বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে পুলিশ যে পেশাদারিত্ব দেখিয়েছে, তাতে প্রমাণিত হয় যে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশে এই বাহিনী কতটা দক্ষ হতে পারে। তিনি আরো বলেন, ​আন্তর্জাতিক খ্যাতি: জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের সাফল্য বিশ্বের দরবারে আমাদের মাথা উঁচু করেছে।

​মানবিক আচরণ: বিদেশে যদি আমাদের পুলিশ সুনাম কুড়াতে পারে, তবে দেশের মাটিতেও জনগণের সঙ্গে তাদের মানবিক আচরণ কাম্য।

​পুলিশের আধুনিকায়ন ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা

​প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে পুলিশের সামর্থ্য বৃদ্ধির বিষয়েও আলোকপাত করেন। তিনি জানান, পুলিশের আবাসন সমস্যা সমাধান, উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। ২০২৪ সালের বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে পুলিশ আর কোনো দলের নয়, বরং রাষ্ট্রের সেবকে পরিণত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

​এক নজরে পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬: ​সময়কাল: ১০ মে থেকে ১৩ মে পর্যন্ত।

​উপস্থিতি: মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য, কূটনৈতিক কোরের প্রতিনিধি এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

​স্বীকৃতি: বিশেষ অবদানের জন্য বিভিন্ন পদক প্রদান (পিপিএম ও বিপিএম)।

​অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী রাজারবাগ প্যারেড গ্রাউন্ডে অংশগ্রহণকারী কন্টিনজেন্টগুলোর শৃঙ্খলা ও মনোমুগ্ধকর প্যারেডের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি পুলিশ ও র‍্যাবের প্রতিটি সদস্যকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, "আপনাদের সততা ও নিষ্ঠাই হবে আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশের রক্ষাকবচ।"

​উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে এটিই প্রথম পুলিশ সপ্তাহ, যা জনমনে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement