হত্যা মামলায় আসাদুজ্জামান নূরের হাইকোর্টে জামিন: কারামুক্তিতে বাধা নেই তো?
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দি থাকা সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী ও বরেণ্য অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূরের জন্য আদালতের বারান্দা থেকে কিছুটা স্বস্তির খবর এলো। রাজধানীর পৃথক দুটি থানায় দায়ের করা হত্যা মামলায় তাকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।
রোববার (১০ মে ২০২৬) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজল ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দি থাকা এই বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের আইনি লড়াইয়ে নতুন মোড় তৈরি হয়েছে।
আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে মিরপুর ও রমনা থানায় দায়ের করা দুটি সুনির্দিষ্ট মামলায় তার আইনি লড়াইয়ে বড় ধরনের অগ্রগতি হলো। তবে এই জামিনের পর তিনি কারাগার থেকে বের হতে পারবেন কি না, তা নিয়ে এখনো কিছুটা আইনি ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। কারণ, তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
আদালতের বারান্দায় আইনি লড়াইয়ের চিত্র
রোববার সকাল থেকেই হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে ছিল টানটান উত্তেজনা। আসাদুজ্জামান নূরের আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দেখান যে, এজাহারে নাম থাকলেও ঘটনার সঙ্গে তার সরাসরি সম্পৃক্ততার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। বার্ধক্যজনিত শারীরিক অসুস্থতা এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের দিকটি বিবেচনা করে তারা জামিন প্রার্থনা করেন। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের তীব্র বিরোধিতা করে জানায়, মামলার তদন্ত চলাকালে জামিন দিলে তা তদন্ত প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। দুই পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত নূরকে জামিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
যে প্রেক্ষাপটে গ্রেফতার হয়েছিলেন নূর
স্মৃতি হাতড়ালে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে রাজধানীর বেইলি রোড এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সেই সময় ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী উত্তাল পরিস্থিতিতে বিভিন্ন থানায় আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের বিরুদ্ধে মামলার ঝড় উঠেছিল। মিরপুর থানার একটি হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে পরদিন আদালতে তোলা হলে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই দিনে সাবেক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলীকেও কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
সংস্কৃতি থেকে রাজনীতি: বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের কঠিন সময়
আসাদুজ্জামান নূর কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন, বরং 'বাকের ভাই' হিসেবে কয়েক প্রজন্মের কাছে এক জীবন্ত কিংবদন্তি। নীলফামারী-২ আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া এই বরেণ্য ব্যক্তিত্ব সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পালন করেছেন সফলভাবে। তবে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার জীবনে নেমে আসে আইনি জটিলতার ছায়া। গত ১৬ সেপ্টেম্বর রমনা ও মিরপুর থানায় দায়ের করা পৃথক দুটি হত্যা মামলায় তাকে আসামি করা হয়, যা নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছিল।
আগামী দিনের সম্ভাবনা
আজকের জামিন আদেশের পর আসাদুজ্জামান নূরের আইনজীবীগণ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, অন্যান্য মামলায় জামিন পাওয়া গেলে খুব শীঘ্রই তিনি কারামুক্ত হতে পারবেন। তবে সংশ্লিষ্ট আদালতের আদেশের কপি কারাগারে পৌঁছানো এবং অন্যান্য মামলার জটিলতা নিরসনের ওপরই নির্ভর করছে তার ঘরে ফেরার সময়। আপাতত আদালতের এই আদেশে তার ভক্ত ও দলীয় কর্মীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও, চূড়ান্ত আইনি লড়াই এখনো বাকি রয়ে গেছে।